অস্ট্রিয়ার রাজনীতিতে ‘সাড়া জাগানো’ কে এই বাংলাদেশি?

  অনলাইন ডেস্ক

০৩ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:০১ | আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ

মাহমুদুর রহমান।

বিদেশে বিভিন্ন সংগঠন কিংবা মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ এখন আর নতুন কিছু নয়। মেধা, যোগ্যতা আর সাহসিকতা দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশিরা এখন সগৌরবে মহিমান্বিত। বিশেষ করে বিদেশে মূলধারার রাজনীতির কথা আসলেই ব্রিটেনে রুশনারা আলী, টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক, রূপা হকের মতো বাংলাদেশিদের নাম চলে আসে প্রথমেই। তবে, এ অংশগ্রহণ যে শুধু ব্রিটেনেই বাড়ছে তা নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পার্লামেন্টে এখন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতরা সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিনিধিত্ব করছেন। স্বপ্ন দেখছেন বহু তরুণ রাজনীতিবীদ।

তাদেরই একজন তরুণ রাজনীতিবীদ মাহমুদুর রহমান। মাত্র ২৩ বছর বয়সী বাংলাদেশি এই তরুণ অস্ট্রিয়ার মূলধারার রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। অস্ট্রিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত এই যুবক স্বপ্ন দেখছেন পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্ব করার।

বাংলাদেশি এই তরুণ রাজনীতিবীদের শৈশব, শিক্ষা এবং অস্ট্রিয়ায় রাজনীতিতে বেড়ে ওঠার গল্প জেনেছেন তরুণ লেখক ও সংবাদকর্মী নাঈম হাসান পাভেল।

বাংলাদেশের বিষ্ময়কর এই যুবক অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় জন্মগ্রহণ করলেও মাত্র একবছর পর পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে চলে আসেন। শৈশবের বেশিরভাগ সময় দেশে কাটালেও পরবর্তীতে আবার চলে যান অস্ট্রিয়ায়। কিন্তু দেশটিতে যাওয়ার পর বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় মাহমুদুর রহমানকে। ভাষা, সহপাঠী, নতুন পরিবেশ-সব মিলিয়ে অগোছালো ছিল তার কাছে। কিন্তু প্রবল আগ্রহ, সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে সে পথ উতরে যান দ্রুতই।

অস্ট্রিয়ায় স্কুল লেভেল শেষ করে মাহমুদ সরকারি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েই স্কুলের নানা সমস্যা নিয়ে কথা বলতে থাকেন, চাইতেন পরিবর্তনও। একপর্যায়ে প্রতিবাদী ছাত্র হিসেবে পরিচিতি হয়ে ওঠেন স্কুলে। নেতৃত্ব দেন তরুণদের। সেই সুবাদে সরকারি ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা তাকে ছাত্র সংসদে পরপর দুবার সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করে।

স্কুল, ইনস্টিটিউটের উন্নয়ন ও ছাত্রদের নানা বিষয়ে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে একসময় মাহমুদ অল অস্ট্রিয়ান ছাত্র সংসদের সভাপতি নির্বাচিত হন। ইনষ্টিটিউটে পড়া শেষে একসময় মাহমুদ উচ্চ শিক্ষার জন্য পাড়ি দেন ব্রিটেনে। আইটি বিষয়ে ব্রিটেনের ইউনিভার্সিটি অব-সেন্ট্রাল ল্যাঙ্কাশায়ারে গ্র্যাজুয়েশন শেষে এমএসসি করেন ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসের ওপর। 

উচ্চশিক্ষায় মাহমুদ ব্রিটেনে থাকলেও অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টির যুব ইউনিটের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল বেশ জোরালো। ব্রিটেনের ল্যাঙ্কাশায়ারে পড়াকালীন প্রথমবারের মতো পিপলস পার্টির থেকে ভিয়েনা ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন পান মাহমুদুর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হতে না পারলেও, নির্বাচনী ক্যাম্পেইন ও পরবর্তী সময়ে বিপুল সংখ্যক তরুণদের সক্রিয়তায় রাজনীতিতে বেশ জনপ্রিয়তা পান তিনি।

অস্ট্রিয়ার তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সিবাস্তিয়ান ক্রুজ পিপলস পার্টির তরুণ নেতৃত্ব মাহমুদুর রহমানকে অস্ট্রিয়ান ইন্ট্রিগ্রেশন অ্যাম্বাসেডর হওয়ার জন্য প্রস্তাব দেন। সাদরে সে প্রস্তাব গ্রহণ করে এখন পর্যন্ত বহাল আছেন তিনি।

গত বছরের অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় অস্ট্রিয়ান জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টি’র ভিয়েনা ডিস্ট্রিক্টের প্রধান ‘ভিয়েনা ডিস্ট্রিক্ট-২৩’ নম্বর আসন থেকে মাহমুদকে এমপি পদে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু ওই আসনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। এ বছর অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টির অন্যতম ইউনিট অস্ট্রিয়ান পিপলস পার্টি যুব ইউনিটের রাজধানী ভিয়েনা শাখার সভাপতি হিসেবে মনোনীত হন এই বাংলাদেশি।

ভবিষ্যৎ রাজনীতির পরিকল্পনার কথা জানতে চাইলে মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘আগামী ২০২০ সালে পিপলস পার্টি থেকে ভিয়েনা সিটি নির্বাচনে ডিস্ট্রিক্ট কমিশনার হিসেবে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া সেন্ট্রাল মনোনয়ন বোর্ড সুযোগ দিলে আবার এমপি পদে নির্বাচন করতে চাই।’

বাংলাদেশের রাজনীতির বিষয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে পরিবর্তন আনতে হলে সংসদে এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে তরুণদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির বাইরে এসে জনগণের পাশে থাকতে হবে।’

দেশের বাইরে প্রবাসের রাজনীতিতে মাহমুদুর রহমান নির্বাচিত না হলেও, ভবিষ্যতে তরুণ এই রাজনীতিবীদকে পার্লামেন্টে দেখতে চায় তার দল। মাহমুদুর রহমানের মতো একজন যুবকের এই সাহসিকতা যেমন কমিউনিটি প্রবাসীদের স্বপ্ন দেখিয়েছে, সেই সঙ্গে স্বপ্ন দেখিয়েছে বাংলাদেশকেও।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে