শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষক আটক

  চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি

০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:৫৪ | আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

যশোরের চৌগাছা চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে তাসের উদ্দীন (৫৫) নামে উপজেলার সুখপুকুরিয়া ইউনিয়নের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা-মা আমাদের সয়কে জানান, কয়েকদিন আগে তাদের মেয়ের স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়। গতকাল সোমবার বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পরীক্ষায় একটি প্রশ্ন বুঝতে না পারায় প্রধান শিক্ষকের কাছে যায় তাদের মেয়ে। এ সময় কক্ষে কেউ না থাকার সুযোগে ছাত্রীকে শ্লীলতহানি করেন প্রধান শিক্ষক।

পরে বিষয়টি বাড়িতে জানালে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য সাইফুল ইসলামের কাছে নালিশ করেন ওই ছাত্রীর বাবা-মা। পরে তার নেতৃত্বে গ্রামের লোকজন সকালে স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষক তাসের উদ্দীনকে অবরুদ্ধ করে রাখে। বিষয়টি জেনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফুল আলম পুলিশ পাঠিয়ে দুপুরে ওই শিক্ষককে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করেন এবং তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চৌগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গিয়াস উদ্দিন আমাদের সময়কে বলেন, আমরা স্কুলে গিয়ে তাসের উদ্দীনকে হেফাজতে নেই। তারপর থেকে তিনি থানাতেই আটক আছেন। তার বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে থানায় আটক ওই প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি আমাদের সময়কে জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের কমিটি ও একটি দপ্তরী নিয়োগের বিষয় নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব চলছে। কোনো সুযোগ না পেয়ে একটি মিথ্যা নাটক সাজিয়ে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তাসের উদ্দীনের সঙ্গে তার কোনো দ্বন্দ্ব নেই। ঘটনার বিষয়ে ওই ছাত্রীর বাবা-মা তাকে জানালে তিনি কয়েকজন স্থানীয়র সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কী করা যায়, এ ব্যাপারে আলোচনা করেন। জানাজানি হলে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রধান শিক্ষককে স্কুলে অবরুদ্ধ করে রাখে। তবে তার আগে বিষয়টি ইউএনওকে বিষয়টি আবগত করা হয় বলেও জানান তিনি।

সুখপুকুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান তোতা মিয়ার সঙ্গে শ্লীলতাহানির বিষয়টি নিয়ে কথা হলে আমাদের সময়কে তিনি বলেন, আমি ঘটনাস্থলে যাইনি। শুনেছি মেয়েলি ঝামেলা নিয়ে প্রধান শিক্ষককে পুলিশ নিয়ে গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফুল আলম জানান, বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত পুলিশ পাঠিয়ে অবরুদ্ধ শিক্ষককে উদ্ধার করি। প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে।

চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিফাত খান রাজিব আমাদের সময়কে বলেন, ‘ওই ছাত্রীর বাবা একটি অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এ বিষয়ে নিয়মিত মামলা রেকর্ড করা হবে।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে