যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন ভিকারুননিসার শিক্ষিকা হাসনা হেনা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১১:৩৬ | আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:২৮ | অনলাইন সংস্করণ

অপমানের জেরে শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যা। প্রতিবাদে বিক্ষোভে জড়িয়ে পড়েন ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এ ঘটনায় তিন শিক্ষককে আসামি করে মামলা হয়। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন প্রভাতি শাখার শ্রেণিশিক্ষিকা হাসনা হেনা। মামলার পর থেকেই পলাতক ছিলেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।

গতকাল বুধবার রাতে উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরের হোটেল উত্তরা ইনের একটি কক্ষ থেকে হাসনা হেনাকে গ্রেপ্তার করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পূর্ব জোনের একটি টিম।

জানা গেছে, হাসনা হেনা থাকেন মগবাজার এলাকার ডাক্তারের গলিতে। তবে পরিস্থিতি প্রতিকূলে ভেবে তিনি ঢাকার বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাই আশ্রয় নিয়েছিলেন উত্তরার একটি হোটেলে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেই তথ্যপ্রযুক্তির ফাঁদে ধরা পড়েন তিনি।

হাসনা হেনা ওই স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারীর ‘আত্মহত্যায় প্ররোচণা’র ঘটনায় দায়ের করা মামলার তিন নম্বর আসামি। মামলা হওয়ার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

অভিযানে অংশ নেওয়া ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, হাসনা হেনাকে গ্রেপ্তারে তার মগবাজারের বাসায় নারী পুলিশ নিয়ে অভিযান চালানো হলে সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। তাকে খুঁজতে তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতা নেওয়া হয়। তার ও তার পরিবারের সদস্যদের কল রেকর্ডের সূত্র ধরে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।  এর পর হোটেলে অভিযান চালানো হয়। সেখানে একটি কক্ষ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পরপর নারী পুলিশ সদস্যরা তাকে মাইক্রোবাসে করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসেন বলেও জানান ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ডিবি কার্যালয়ে আনার পর তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে অরিত্রির সঙ্গে হাসনা হেনার সর্বশেষ কথাবার্তা, অপর দুই আসামি বরখাস্তকৃত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস ও প্রভাতি শাখার প্রধান জিনাত আখতারের সঙ্গে অরিত্রির বাবা-মায়ের কথোপকথনের বিষয়ে কিছু প্রশ্ন করা হয়।

ডিবির ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, আজ বৃহস্পতিবার সকালে আবারও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দুপুরেই তার রিমান্ড চেয়ে আদালতে তোলা হতে পারে।

ডিবির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, মঙ্গলবার রাতে পল্টন থানায় মামলা হওয়ার পর থেকেই মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করে ডিবি। বুধবার মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ডিবির হাতে আসলে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে স্কুলের অনেকের সঙ্গে কথা বলেন তদন্ত কর্মকর্তারা, পর্যবেক্ষণ করেন অধ্যক্ষের কক্ষের ভেতর ও বাইরের কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ। পাশাপাশি ডিবির আরেকটি দল অভিযুক্ত তিনজনকে নজরদারি শুরু করে। এরই ফলশ্রুতিতে হাসনা হেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ ব্যাপারে ডিবির (পূর্ব) উপকমিশনার খন্দকার নুরুন্নবীর বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষকদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করে গোয়েন্দারা। হাসনা হেনাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে তোলা হবে।

ডিবির (পূর্ব) সহকারী কমিশনার (এসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, এই মামলায় আরও দুইজন আসামি পলাতক এদের মধ্যে জিনাত আখতারের বাড়িতে অভিযান চালালে সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তাদের গ্রেপ্তারে একাধিক টিম কাজ করছে।

গত সোমবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরের নিজ বাসায় ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে প্রাণ হারায় অরিত্রি। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর পল্টন থানায় ‘আত্মহত্যার প্ররোচণাকারী’ হিসেবে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতি শাখার প্রধান জিনাত আখতার ও শ্রেণিশিক্ষিকা হাসনা হেনার বিরুদ্ধে মামলা করেন অরিত্রির বাবা।

স্বজনদের অভিযোগ, গতকাল স্কুলের শিক্ষকরা সবার সামনে অরিত্রির বাবা দিলীপ অধিকারীকে অপমান করেন। তাই বিষয়টি সইতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে অরিত্রি। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, বাবাকে অপমান নয়, বরং পরীক্ষায় নকল করতে গিয়ে ধরা পড়েছিল অরিত্রি। তাই বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় লজ্জায় মেয়েটি এ ঘটনা ঘটাতে পারে।

মামলার পর থেকেই আসামি ওই তিন শিক্ষক পলাতক ছিলেন। বুধবার তারা কেউ ভিকারুননিসা নূন স্কুলের কোনো শাখায় উপস্থিত ছিলেন না।

এদিকে বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন তুলে ধরে এই তিনজনকে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচণাকারী’ হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করেন। এর পর সন্ধ্যায় স্কুলের গভর্নিং বডির এক বৈঠকে অধ্যক্ষসহ তিনজন শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে