ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ : সুজন

  অনলাইন ডেস্ক

০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৫:২৪ | আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার থাকতে হবে বলে জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। কারণ হিসেবে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে, বর্তমানে জনগণ তার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারছেন না। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা পরিবর্তন হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়। আর যারা বিজয়ী হবেন, তারাও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে চাইবেন। এজন্য সবার আগে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার থাকতে হবে নির্বাচনী ইশতেহারে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) আয়োজিত ‘নির্বাচনী ইশতেহার: নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সুজনের সম্পাদক বদউল আলম মজুমদার। সভাপতিত্ব করেন সাবেক তত্ত্বাধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজুদ্দিন খান। বক্তব্য দেন পরিবেশবাদী সংগঠন বেলার নির্বাহী পরিচালক ও সুজনের নির্বাহী সদস্য সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, কলামিস্ট ও সুজনের নির্বাহী সদস্য আবুল মকসুদ।

সুজন সম্পাদক বদউল আলম মজুমদার বলেন, ‘গত ৪৭ বছরেও গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করেনি। রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য থাকতে হবে। ইশতেহার যেন কেবল বলার বলা না হয়, বাস্তবেও প্রতিফলন ঘটাতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ, নিবার্হী বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ সব প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। এগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করতে হবে। এছাড়াও আর্থিক বিষয়াদির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায় পাল নিয়োগের ব্যাপারে তারা কী করতে চান সেটাও ইশতেহারে স্পষ্ট থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী আইনগুলোর সংস্কার দরকার। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে নির্বাক কমিশনে নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে এটাও স্পষ্ট থাকা দরকার যে সরকার গঠনের পর প্রথম ১০০ দিনে কি কি কাজ করবে, তার পরে প্রথম এক বছরে কি কাজ করবে এভাবে মেয়াদের পাঁচ বছরে কি কি কাজ করবে। তাহলে জনগণ বুঝতে পারবে এবং পরে এ বিষয়ে কথা বলতে পারবে ‘

আলোচনায় অংশ নিয়ে নির্বাহী সদস্য রেদওয়ানা হাসান বলেন, ‘বেশির ভাগ মানুষ রাজনীতিকে ইতিবাচক দেখছে না। তাই ইশতেহারটা এমন হওয়া দরকার যাতে মানুষের মধ্যে রাজনীতি ইতিবাচক ধারণা জন্মায়।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার আগে বা পরে সাধারণ মানুষের উপর যেমন দমনপীড়ন হয়েছে, আজও মনে হয় তেমনি হচ্ছে। বিরোধী দলের লোকেরা নির্যাতন, গুম খুনের ভয়ে কথা বলার সাহস পায় না। এখন কেন যেন মনে হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সাধারণ মানুষের দূরত্ব বাড়ছে। এখন মানুষ তাদের ভয় পায়। এই দূরত্ব কমিয়ে আনারও অঙ্গিকার থাকতে হবে ইশতেহারে।’

রেদওয়ানা হাসান আরও বলেন, ‘আমরা এমন একটি নির্বাচনের দিকে যেখানে নির্বাচন কমিশন মত প্রকাশে মনিটরিং করছে। নিজস্ব মত প্রকাশেরও অবস্থা নেই। বর্তমানে বিচার না পাওয়াটা একটি কালচার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিচারাধিকার পাওয়া থেকে সাধারণ মানুষকে দূরে রাখা হয়েছে।’  

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনী হলফ নামায় অনেক প্রার্থীর আয়ের উৎস হিসেবে একযোগে মৎস চাষ দেখানো হয়েছে, যা ওই প্রার্থীর সাথে মানায় না। তার পরেও বলবো, রাজনীতিতে আসলে তাকে মাছ চাষ ছাড়তে হবে। কারণ তারা রাজনীতি করার কারণে প্রভাব খাটিয়ে অন্যের জমি দখল করে মাছ চাষ করছেন।’

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘দলগুলো গত নির্বাচনে যে ইশতেহার দিয়েছিলো ওই ইশতেহারের সাথে বর্তমান ইশতেহারের সাথে যুক্ত করে দিতে হবে। তাহলে জনগণ বুঝতে পারবে ওই ইশতেহার থেকে কতটা বাস্তবায়ন করেছে। ইশতেহার এক ধরণের অঙ্গীকার। এক্ষেত্রে সংবিধানই হলো বড় ইশতেহার। সকল দলের মূল ইশতেহার হওয়া উচিত সংবিধান। এর বাইরে বাড়তি কিছু করতে হলে তারও সুনির্দিষ্টতা থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাণে অংশ নিবে অনেক দল। সেখান থেকে বিজয়ী হবে একটি দল। কিন্তু যারা বিজয়ী হবে না, তাদের ইশতেহারেও যদি জনবান্ধব ভালো কিছু থাকে তা বাস্তবায়নে জনমত তৈরি করা সম্ভব।’

বিশিষ্ট এই কলামিস্ট বলেন, ‘প্রতিটি দলের দেওয়া ইশতেহার সংরক্ষণে রাখা দরকার যাতে হারিয়ে না যায়। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে যখন নির্বাচন কমিশন কাজ করবেন তখন দলগুলোর আগের ইশতেহার পর্যালোচনা করা দরকার। যদিও নির্বাচন কমিশনের অনেক কর্মকাণ্ডের মধ্যে দলগুলোর দেওয়া ইশতেহার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কিছুই করার নেই। তবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নে এধরনের পর্যালোচনা নির্বাচন কমিশনের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কোনো কাজ লক্ষ্য করা যায় না। মনে হয় সরকারের বলা বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে। নির্বাচন কমিশনারের জনসংযোগ কর্মকতার ভূমিকা পালন করছে সরকার। নির্বাচন কমিশনারের কর্মকাণ্ড সরকার প্রচার করছে। এর মাধ্যমে জনগণের মধ্যে আস্থা আসছে না, যে নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে