জুবায়েরপন্থী তাবলীগের সংবাদ সম্মেলন : ধৈর্যের বাধ ভেঙে গেলে সরকার দায়ী

প্রকাশ | ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৪৭

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছবি : ফোকাস বাংলা

টঙ্গী ইজতেমা মাঠে গত ১ ডিসেম্বর সাদপন্থীদের হামলা পূর্বপরিকল্পিত দাবি করে জুবায়েরপন্থী তাবলীগের সাথী এবং ওলামারা বলেছেন, এতে অন্তত দুই হাজার বা তারও বেশি আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত শতাধিক ব্যক্তি এখনো বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কেউ কেউ আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছে।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির সাগর-রুনি হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাদপন্থীদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আনা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তাবলীগের দায়িত্বশীল মুফতি আমানুল হক। তিনি বলেন, ‘হামলার আগের রাতে ওয়াসিফ ও নাসিমপন্থীরা মালিবাগ চৌধুরীপাড়া একটি মাদরাসায় ও কয়েকটি মসজিদে আবস্থান নিয়েছিল। সকালে হাজার হাজার হামলাকারী বাইরে থেকে এসে লাঠি, রড ও দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা করে। ন্যাক্কারজনক হামলার বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থার জানা থাকার বাইরে নয়। তা ছাড়া হামলার আগে পরিচয় দেওয়া ডিআইজি পদবির একজনসহ চারজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা উপস্থিত হন। কিছুক্ষণ পর টঙ্গী ইজতেমার মাঠে উত্যপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।’

মুফতি আমানুল হক বলেন, ‘জিম্মাদাররা আতঙ্কিত হয়ে পুলিশ কর্মকর্তাদের নিকট প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এমতাবস্থায় মাঠে কোনো অঘটন ঘটবে না-এমন নিশ্চয়তা দিলে মাঠের ভিতরের সাথীরা নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। নামাজের শেষ পর্যায়ে হামলাকারী ওয়াসিফ পন্থীরা আশরাফ সেতু প্রকল্পের ছাদে পূর্ব থেকে জমা করা ইটের টুকরো দিয়ে হামলার সূচনা করে চূড়ান্ত হামলা শুরু করে।’

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, হামলার নির্দেশদাতা ওয়াসিফ, নাসিমসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানসহ কাকরাইলের শুরা থেকে বহিষ্কার করতে হবে। টঙ্গী ময়দান কাকরাইলের ওয়াসিফ বিরোধী শুরার হাতে হস্তান্তর করতে হবে। সারা দেশে ওলামায়ে কেরাম ও শুরাভিত্তিক পরিচালিত সাথীদের ওপর হামলা-মালমা বন্ধ করগে হবে। আগামী ইজতেমা ১৮, ১৯, ২০ জানুয়ারি এবং ২৫, ২৬, ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা নিতে হবে। টঙ্গীর মাঠে নামাজ, শবগুজারী ও মকতব চালু করতে হবে। এর ব্যতিক্রম ঘটলে ওলামাদের ধৈর্য্যর বাধ ভেঙে যাবে তাতে, সরকার দায়ী থাকবে।

অন্যদিকে ইজতেমা ময়দানে হামলার নিন্দা জানিয়েছেন গওহরডাঙ্গা মাদরাসার মহাপরিচালক ও কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড গওহরডাঙ্গার চেয়ারম্যান আল্লামা মুফতি রুহুল আমীন। গোপালগঞ্জের মাদ্রাসায় এক বক্তব্য তিনি বলেন, ‘মাওলানা সাদের ভ্রান্ত আকিদা মওদুদিবাদ ছাড়িয়ে গেছে। এই মতবাদ এখন বাংলাদেশে জঙ্গি ফেতনায় রূপ নিয়েছে। এখনই তাদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় না আনলে দেশের আইনশৃঙ্খলা হুমকির মুখে পড়বে।’ এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের বিধি নিষেধ উপেক্ষা করে প্রকাশ্য দিবালোকে কীভাবে পরিকল্পিত হামলা হলো এমন প্রশ্নও করেন তিনি।