মেয়ের বিয়েতে আনসার দিয়ে কাজ করালেন তিনি

  বড়াইগ্রাম (নাটোর) প্রতিনিধি

০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৩৭ | আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২১:৪১ | অনলাইন সংস্করণ

মেয়ের বিয়েতে আনসার সদস্যদের দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করিয়েছেন এক কর্মকর্তা। আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন আনসার-ভিডিপি ওই কর্মকর্তা।

ঘটনাটি নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার। ওই কর্মকর্তার নাম মনিকা ডি কস্তা। তিনি উপজেলার আনসার-ভিডিপি প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত। নিজের মেয়ের বিয়েতে আনসারের দুই ডজন নারী-পুরুষ সদস্যকে দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ বিনা পয়সায় করিয়ে নিয়েছেন তিনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মনিকার বাড়ির পূর্ব ও দক্ষিণ দিকের প্রতিটি মোড় থেকে বিয়ে বাড়ি পর্যন্ত ইউনিফর্ম পরে দাঁড়িয়ে আছেন আনসার বাহিনীর সদস্যরা। দেখলে মনে হবে এলাকা পরিদর্শনে আসছেন কোনো মন্ত্রী। আদতে বিয়ে বাড়ি পাহারা ও মেহমানদের পথ চিনিয়ে দিতে কাজ করছেন তারা।

ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিয়ে বাড়িতে পরিষ্কারকরণ থেকে শুরু করে অতিথিদের খাওয়ানো, রান্নার কাজ, ধোয়ার কাজ বিনা পারিশ্রমিকেই আনসার সদস্যদের দিয়ে করিয়ে নিয়েছেন এই কর্মকর্তা। অবশ্য এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেই দিন শেষ করেছে ডিউটির বাইরে কর্মরত সদস্যরা।

মনিকার বাড়ির গেটে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্য রাজীব সেখ ও নবাব আলীকে এমন ডিউটির কারণ জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে তারা জানান, ম্যাডামের মেয়ের বিয়েতে আমন্ত্রিত অথিতিদের পাহারায় ডিউটি করছেন তারা।

এর ঠিক ৫০০ গজ দূরে দায়িত্ব পালন করেন দুলাল হোসেন। আরও ৬০০ গজ দূরে আজম আলী ও আবু বক্কর। তাদের কাছেও প্রশ্নের একই উত্তর পাওয়া গেছে। এভাবে মোট সাতটি মোড়ে বিয়ের বাড়ি পাহারা ও মেহমানদের পথ চিনিয়ে দিতে কাজ করেছেন তারা।

একইভাবে ওই কর্মকর্তার বাড়ির ভিতরে কাজ করেছেন কয়েকজন নারী আনসার সদস্য। তাদের মধ্যে কয়েকজন বাসনপত্র ধোয়ার কাজ করেন। কয়েকজন উঠোন পরিষ্কার করতে ও কজনকে মেহমানদের খাবার পরিবেশন করতে দেখা যায়। 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও নিজের অহমিকার নিদর্শন দেখাতে এই কাজ করছেন মনিকা ডি কস্তা।

বিষয়টি নিয়ে মনিকা ডি কস্তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে এই প্রতিবেদককে ধমক দেন তিনি। ব্যক্তিগত প্রোগ্রামে পোশাক পরিহিত দুই ডজন আনসার সদস্যকে দায়িত্ব পালন করানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের বিয়ে। আমি ৫০ জন আনসারকে দিয়ে কাজ করাব। এতে সাংবাদিকদের কি আসে যায়?’

তার এমন ব্যবহারের পর জেলা কমাডেন্ট এ কে এম জিয়াউল আলমকে ফোন করা হয়। আমাদের সময়কে মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কাজ তিনি (মনিকা ডি কস্তা) করতে পারেন না। আমি এখনই নিষেধ করছি। আপনারা দয়া করে লেখা-লেখি করবেন না।’

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আনোয়ার পারভেজ আমাদের সময়কে বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। দেখছি কী করা যায়।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে