১৩ বছর পর পুলিশ হত্যা মামলার রায়, ২০ জনের যাবজ্জীবন

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:৫২ | অনলাইন সংস্করণ

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় জেলা স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) দুই পুলিশ সদস্যকে হত্যা মামলায় ২০ জনের যাবজ্জীবন এবং ছয়জনকে খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ৩ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘ ১৩ বছর পর আজ বুধবার ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মনির কামাল এ রায় ঘোষণা করেন।

তবে মামলার ৩২ জন আসামির মধ্যে চারজন বন্দুকযুদ্ধে এবং দুজন বিচারকালে মারা গেছেন। অপর আসামিদের মধ্যে ১৩ জন পলাতক, ১২ জন জামিনে এবং দিপু ওরফে টিপু বিশ্বাস কারাগারে আছেন।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন-জসিম শেখ, মাছিম শেখ, মজনু মাতুব্বর, উজ্জ্বল হাওলাদার, জাফর মাতুব্বর, কুব্বাস মাতুব্বর, দবির মোল্লা, দাদন ফকির ওরফে দাদন টেইলার, আমির হোসেন শেখ, ফয়েজ শেখ, দিপু ওরফে টিপু বিশ্বাস,  মোশারফ শেখ, আশ্রাব শরীফ, হালিম আকন, মিরাজ শিকদার, বজলু আকন, আজাদ মোল্লা, এমো মোল্লা ওরফে হেমায়েত মোল্লা ওরফে মুন্সি মোল্লা, শওকত মোল্লা ওরফে সাগু মেম্বার, সুমন বাঘা।

মামলা থেকে খালাসপ্রাপ্তরা হলেন-শাহাদাত আকন, মোশারফ হোসেন মোল্লা (চেয়ারম্যান), মোতালেব মাতুব্বর ওরফে মোতালেব মেম্বার, আসলাম ওরফে নুরুল ইসলাম বাবু ওরফে বাবুল, মাসুদ শিকদার, হেলাল শিকদার।

তবে মামলা চলার সময় মৃত ব্যক্তিরা হলেন-আবদুল আজিজ ওরফে সামাদ খাঁ ওরফে সামাদ মেম্বার, ছায়েদ মাতুব্বর ওরফে ছায়েদ,সাত্তার তালুকদার, সুমন ওরফে শামীম, নজরুল ওরফে নুরুল ইসলাম, আবুল কাশেম মোল্লা।

নিহত ওই দুই পুলিশ সদস্যের নাম মো. আবুল হাসনাইন আজম খান ও মো. কামরুল আলম খান ঠাকুর। তারা মাদারীপুর জেলায় ডিএসবির ডিআইও এবং প্রধান সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০০৫ সালের ৩ এপ্রিল তারা কর্মরত অবস্থায় সর্বহারা ডাকাত দলের সদস্যদের হাতে খুন হন। হত্যার পর তাদের লাশ টুকরা টুকরা করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়।

মামলার আসামিদের স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের ৩ এপ্রিল নিহতরা মোটরসাইকেলে করে রাজৈর উপজেলার শাখার পাড় যাওয়ার পর আসামিরা তাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করেন। ওই সময় নিহতরা নিজেদের পুলিশ সদস্য বলে পরিচয় দিলে তাদের মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলেন আসামিরা। এরপর তাদের মোটরসাইকেল শ্রীনদীর দিকে নিয়ে যান তারা। তাদের ট্রলারে উঠিয়ে প্রথমে মোটরসাইকেল নদীতে ফেলে দেন আসামিরা।

প্রথমে কামরুলকে জবাই করার পর তার মাথা কেটে হাসনাইনের হাতে দেন। এরপর কামরুলের লাশ টুকরা টুকরা করে কেটে নদীতে ছিটাতে ছিটাতে ট্রলার এগিয়ে যায়। পরে হাসনাইনকে একইভাবে হত্যা করে তার লাশও টুকরা টুকরা করে নদীতে ফেলে দেন আসামিরা।

মামলাটি তদন্তের পর ২০০৭ সালের ৬ আগস্ট মাদারীপুরের রাজৈর থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরাম আলী মোল্লা চার্জশিট দাখিল করেন। এরপর ২০০৮ সালের ৪ মে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে