স্বামীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছেন দ্বিতীয় স্ত্রী!

  নওগাঁ প্রতিনিধি

১০ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:০১ | অনলাইন সংস্করণ

নওগাঁ শহরের উকিলপাড়া এলাকায় আবদুল লতিফ (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে দ্বিতীয় স্ত্রীর বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ওই এলাকার একটি বাড়ির বারান্দার গ্রিলের সঙ্গে ফাঁস লাগানো অবস্থায় লতিফের লাশ উদ্ধার করে সদর মডেল থানা পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির বড় মেয়ে লাবনী আক্তার আবদুল লতিফের দ্বিতীয় স্ত্রী মৌসুমী আক্তারসহ (৩৫) অজ্ঞাত তিন-চার জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন। মৌসুমী আক্তারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

নিহত আবদুল লতিফ নওগাঁ শহরের পুরাতন মাছ বাজার এলাকায় মেসার্স ইত্যাদি সিরামিকস নামের একটি দোকানের কর্মচারী ছিলেন। তার বাড়ি নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামে।

নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল হাই জানান, এক বছর আগে বদলগাছী উপজেলা সদরের ইয়াসিন আলীর মেয়ে মৌসুমী আক্তারের সঙ্গে লতিফের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা দুজনে নওগাঁ শহরের উকিলপাড়া এলাকায় বসবাস শুরু করেন। কিন্তু বিয়ের কিছু দিন পর থেকেই দুজনের মধ্যে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। এ নিয়ে মৌসুমী আক্তার দেন মোহরের ৪ লাখ টাকা দিয়ে তাকে তালাক দেওয়ার জন্য স্বামী লতিফকে চাপ দিতে শুরু করেন। দেন মোহরের টাকা না দিলে নারী নির্যাতনের মামলা করবেন বলেও একাধিকবার তার স্বামীকে হুমকি দেন।

ওসি আরও জানান, গত রোববার দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। এতে লতিফের গাল ও ঠোঁট কেটে যায়। পরে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় মৌসুমী তার স্বামীকে ফোন করে উকিলপাড়ার ভাড়া বাড়িতে ডেকে নেন। রাতে মৌসুমী ও তার সহযোগীরা মিলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বাড়ির বারান্দার গ্রিলের সঙ্গে লতিফকে ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখে। খবর পেয়ে লতিফের লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

নওগাঁ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এ কে এম নাজমুল হক বলেন, ‘মৌসুমীর আগেও তিন-চারবার বিয়ে হয়েছিল। তিনি একজন প্রতারক ধরনের মেয়ে। বিয়ের সময় বড় অঙ্কের দেনমোহর বাধেন। পরে নানা ছুঁতোয় স্বামীর কাছ থেকে তালাক নিয়ে দেন এবং মোহরের টাকা হাতিয়ে নেয়। নওগাঁ শহরেই তিনি আরও দুটি বিয়ে করেছিলেন।’
নারী নির্যাতনের মামলার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের দেনমোহরের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও জানান নাজমুল হক।

এ বিষয়ে নওগাঁর সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ফয়সাল বিন আহসান বলেন, ‘গলায় ছাড়া লাশের দেহে অন্য কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নওগাঁ সদর হাসপাতালে লতিফের মরদহ ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে বোঝা যাবে, এটা আত্মহত্যা না হত্যা।’

ফয়সাল বিন আহসান আরও বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মৌসুমী আক্তার একজন প্রতারক চক্রের সদস্য। মোটা অঙ্কের দেনমোহরের শর্তে বিয়ে করতেন তিনি। পরে নারী নির্যাতনের মামলার ভয় দেখিয়ে দেনমোহরের টাকা উদ্ধার করায় ছিল তার কাজ।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে