চাকরিদাতা প্রতারক চক্রের ১৩ সদস্য গ্রেপ্তার

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

ছবি : সংগৃহীত

বেকার যুবকদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চাকরিদাতা প্রতারক চক্রের ১৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি) বিভাগ।

গতকাল বুধবার বারিধারার ভাটারা নতুন বাজার এলাকার প্রাইম অর্কেড বিল্ডিংয়ের পঞ্চম তলায় এক্সিলেন্ট ট্রেড মার্কেটিং লিমিটিড নামে একটি কোম্পানির অফিসে অভিযান চালিয়ে ওই ১৩ প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- আশরাফুল ইসলাম, আল আমিন মণ্ডল রতন, উজ্জ্বল হোসেন, শিমুল মোল্লা, জহিরুল ইসলাম ওরফে পাপ্পু মিয়া, আবদুল মোমিন, শাহীন আলম, নুর আলম সিদ্দিকী, মাজেদুল ইসলাম, ইমরুল হাসান, মনিরুজ্জামান, রিঙ্কু কুমার দাস ও অভিজিত পাণ্ডে।

এ সময় তাদের কাছ থেকে কোম্পানির প্যাডে ১১৫টি অঙ্গীকারনামা, কোম্পানির নামে পূরণ করা ৪২টি আবেদনপত্র ও এগ্রিমেন্ট ফরম এবং পূরণ করা ৩০টি ট্রেডিং কার্ড উদ্ধার করে সিআইডি।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডির মালিবাগ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানিয়েছেন সিআইডির (বিশেষ) পুলিশ সুপার মো. এনামুল কবির। তিনি বলেন, ‘প্রতারক চক্রটি এমএলএম পদ্ধতির মতো একেকজনকে ভর্তি করানোর পর প্রশিক্ষণের নামে সময়ক্ষেপণ করে। তারপর চাকরিপ্রার্থীকে আরও কিছু ব্যক্তিকে যুক্ত করার মাধ্যমে অধিক টাকা আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতেন। ভুক্তভোগী কয়েকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে এই চক্রের ১৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।’

এনামুল কবির আরও বলেন, ‘গত অক্টোবর মাসে লাইফওয়ে নামে একটি কোম্পানির ১৭ সদস্যকে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণার অভিযোগে গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই কোম্পানির দুই থেকে তিন জন প্রতারক এই কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এই খবরের ভিত্তিতে কয়েকজন ভুক্তভোগী সিআইডির কাছে অভিযোগ করে জানান, রাজধানীর বারিধারা এলাকায় এরকম একটি কোম্পানি আছে যাদের কাজই হচ্ছে সহজ সরল ছেলেমেয়েদের চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া। টাকা নেওয়া হয়ে গেলে তারা প্রশিক্ষণের নাম করে টালবাহানা করে, কোনো চাকরি দেয় না। এক সময় এমএলএম পদ্ধতির মতো আরও চাকরিপ্রার্থী যোগাড় করতে বলে। তাদের ফাঁদে পড়ে নিরুপায় বেকাররা এক পর্যায়ে চাকরিপ্রার্থী যোগাড় করে এনে দেয়, বিনিময়ে তারা সামান্য কিছু কমিশন পায়।’

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘চাকরিপ্রার্থী না দিলে কমিশনও আসে না। ফলে তাদের সেখান থেকে ফিরে যেতে হয়। এভাবে শত শত ছেলে মেয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছে জানার পর সিআইডি তদন্ত শুরু করে।’

এনামুল কবির জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা স্বীকার করে যে, একজন চাকরিপ্রার্থী ভর্তি হলে তার মাধ্যমে আরেকজন সদস্য সংগ্রহ করা হয়। এভাবে তারা অনেক চাকরিপ্রার্থীকে ভর্তির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেন। তারা কারও কাছ থেকে ৩০ হাজার, কারও থেকে ৪৫ হাজার, কারও থেকে ৮০ হাজার আবার কারও কাছ থেকে এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এভাবে ১৩০ জনের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। এর পেছনে আরও কোনো চক্র জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই চক্রের মূলহোতাকে শনাক্ত করা হয়েছে। তার নাম পরিচয়ও জানা গেছে। এ ঘটনায় ১৮ জনের নামে মামলা হলেও মূলহোতাসহ অন্য প্রতারকদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে