কবর পেল রমেকের ১২ লাশ

  রংপুর প্রতিনিধি

১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

বেওয়ারিশ হিসেবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (রমেক) হিমঘরে পড়ে থাকা ১২টি লাশের সদগতি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর মুন্সিপাড়া করবস্থানে লাশগুলো দাফন করা হয়েছে।

রমেক সূত্রে জানা গেছে, লাশগুলোর কোনো কোনোটি ৫ বছর কিংবা ১ বছরের ধরে হিমঘরে পড়ে ছিল। আইনগত জটিলতার কারণে এসব লাশের দাফণ সম্পন্ন হয়নি। শেষ পর্যন্ত জেলা প্রশাসন, স্থানীয় কাউন্সিলরের আর্থিক সহায়তা ও পুলিশের সার্বিক তত্ত্বাবধানে লাশগুলো দাফন করা হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের সহযোগীতার অভাবে লাশগুলো এতদিন ধরে হিমঘরে পড়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে ১২টি বেওয়ারিশ লাশ পড়ে থাকার কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাজে বেগ পেতে হচ্ছিল। লাশগুলোর সদগতির ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ-জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন-সিটি করপোরেশনের মধ্যে চিঠি চালাচালি হয়েছে। কিন্তু কোনো সমাধান করতে পারছিল না দপ্তরগুলো।

পরবর্তীতে দৈনিক আমাদের সময়সহ আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি হলে দপ্তরগুলো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেয়। এরপর রমেক কর্তৃপক্ষের অনুরোধে স্থানীয় কাউন্সিলর ও পুলিশ প্রশাসন লাশগুলোকে দাফনের ব্যবস্থা করেন। জেলা প্রশাসন, স্থানীয় কাউন্সিলরের আর্থিক সহায়তায় ওই ১২টি বেওয়ারিশ লাশ নগরীর মুন্সিপাড়া করবস্থানে দাফন করা হয়।

রমেক হাসপাতাল ও কোতয়ালী থানা জানিয়েছে, বহুবছরের পুরোনো বেওয়ারিশ লাশগুলোর মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ৩ জন নারী এবং ২টি শিশুর দেহ রয়েছে। রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে এসে এরা হাসপাতালেই মৃত্যু বরণ করে। কোনো দাবিদার না থাকায় দেহগুলো হাসপাতালের হিমঘরে পড়েছিল।

রমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. অজয় রায় আমাদের সময়কে জানান, আইনগত জটিলতার কারণে এসব লাশ দাফনের বিষয়টি এতদিন আটকে ছিল। অবশেষে সব দপ্তরের সমন্বয়ে বেওয়ারিশ লাশগুলোর দাফন কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম জানান, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় কাউন্সিলরের আর্থিক সহায়তায় ও পুলিশের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গতকাল বৃহস্পতিবার লাশগুলো দাফন করা হয়।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে