নেশার টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে নির্যাতন!

  আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

১২ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:০০ | আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:১৮ | অনলাইন সংস্করণ

ছবি : আমাদের সময়

নেশার টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মহিবুল ইসলাম তনু  নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে বরগুনার আমতলী উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। 

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর নাম খাতিজা আকতার। আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে স্বজনরা। 

জানা গেছে, ২০১৬ সালে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার উত্তর চাকামইয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান তালুকদারের মাদ্রাসা পড়ুয়া মেয়ে খাজিদা আক্তারের সঙ্গে বরগুনা আমতলী উপজেলার মহিবুল ইসলাম তনুর সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে দুই লাখ টাকা, দুই ভরী স্বর্ণালংকার ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র দেওয়া হয়। কিন্তু মাদকাসক্ত মহিবুল বিয়ের কিছু দিন যেতে না যেতেই নেশার টাকার জন্য খাজিদাকে নির্যাতন শুরু করেন। মেয়ের সুখের দিকে তাকিয়ে বাবা হাবিব তালুকদার জামাইকে প্রায়ই টাকা দিয়ে আসছেন। দুই মাস আগে আমতলী পৌর শহরের ওয়াপদা সড়কে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন।
 
শুক্রবার দুপুরে স্ত্রীর কাছে নেশার টাকা চান মহিবুল। কিন্তু নেশার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান খাজিদা। টাকা না পেয়ে মহিবুল বাসা থেকে বের হয়ে যান। দুই ঘণ্টা পরে বাসায় এসে স্খাজিদাকে ঘরের মধ্যে আটকে বেধড়ক মারধর করেন তিনি। এক পর্যায় খাজিদা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে মহিবুল অজ্ঞান অবস্থায় খাদিজাকে ঘরের বাহিরে বের করে রেখে ঘরে তালা দিয়ে চলে যান। স্থানীয় লোকজন এসে খাদিজার এ অবস্থা দেখে স্বজনদের খবর দেয়। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। 

আজ শনিবার আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, খাদিজার ডান চোখের নিচে রক্তাক্ত জখমের চিহৃ রয়েছে। এ ছাড়া তার মুখমণ্ডল ফুলে গেছে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার গৌরাঙ্গ হাজড়া বলেন, ‘খাজিদার ডান চোখের নিতে রক্তাক্ত জখম ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। 

খাজিদা আমতলী বন্দর হোসাইনিয়া ফাজিল মাদ্রাসা থেকে এ বছর আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন। অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘বিয়ের দুই বছরের এমন কোনো দিন নেই, যেই দিন আমাকে নির্যাতন করেনি। যখনই নেশার টাকার প্রয়োজন হয় তখনই শুরু করে নির্যাতন।  শুক্রবার দুপুরে আমার কাছে নেশার টাকা চায়। আমি এ টাকা দিতে অস্বীকার করায় আমাকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে মারধর করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’

মহিবুল ইসলাম তনুর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় নিশ্চিত হয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি তিনি। তিনি রাগান্বিত হয়ে ফোন কেটে দেন।

খবর পেয়ে আজ পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে খাজিদার খোঁজ খবর নেয়।  আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল ইসলাম বাদল বলেন, ‘খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে