জাতীয় কৃষি পণ্য মূল্য কমিশন গঠনের দাবি

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ জুন ২০১৬, ১২:৪৮ | আপডেট : ১৫ জুন ২০১৬, ১৩:০৬ | অনলাইন সংস্করণ

কৃষকের জন্য কৃষি পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সরকারকে ‘জাতীয় কৃষি পণ্য মূল্য কমিশন’ গঠনের দাবি জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন।

আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ইক্যুইটি এন্ড জাস্টিস ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ (ইক্যুইটিবিডি), ক্যাম্পেইন ফর সাসটেইনেবল রুরাল লাইভলিহুড (সিএসআরএল), সাউথ এশিয়ান এসোসিয়েশন ফর পোভার্টি ইরাডিকেশন (এসএএপিই) ও এমটিসিপি-২ বাংলাদেশ যৌথভাবে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এ দাবি করেন।

ইক্যুইটিবিডির মোস্তফা কামাল আকন্দের সঞ্চলনায় সেমিনারে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য ইরাফিল আলম, সংসদ সদস্য টিপু সুলতান, কৃষিকদের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

বক্তারা জানান, দেশের কৃষকরা যেভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তাদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে কৃষিপণ্য উৎপাদনে। যা ভবিষ্যতে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

কৃষকদের তথ্যানুযায়ী, এক মণ ধান উৎপাদনে কৃষকের খরচ হয়েছে প্রায় ৬০০-৮০০ টাকা। সেখানে কৃষক একমণ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৩০০-৫০০ টাকায়।

উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে কৃষকেরা তাদের পণ্য রাস্তায় ঢেলে প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

দেখা যাচ্ছে- রমজান মাসে এক মণ ধান বিক্রি করে একজন কৃষক তার পরিবারের জন্য এক কেজি গরুর মাংস কিনতে পারছে না। পাকা ধান কাটতে হিমশিম খাচ্ছে কৃষকরা। এক মণ ধানের মূল্যে তার দুইজন কৃষিশ্রমিকের মজুরি দিতে হয়। এরপর সার, ডিজেল, পানি, কিটনাশক ইত্যাদিতে আরো খরচ।

এমন বাস্তবতায় সরকার প্রস্তাবিত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে কৃষিখাতে ১৪টি বিশেষ কার্যক্রম বা প্রকল্প বাস্তবায়নের তালিকা করেছে, সেখানে ন্যায্যমূল্যের বিষয়টি আছে ১৩ নম্বরে।

এবারও আনুপাতিক হারে কৃষির জন্য বরাদ্দ কমেছে। মোট বাজেটের অন্তত ২০ শতাংশ কৃষির জন্য বরাদ্দের দাবি করেছেন আলোচকরা।

উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের বাজেটে কৃষি মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ১৩ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দর দেওয়া হয়েছে। অথচ ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে কৃষিতে মোট বাজেটের ৪.২১ শতাংশ বরাদ্দ ছিল। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সেটা হয়েছে মাত্র ৪.০১ শতাংশ।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে