মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ার পথে নবদম্পতির স্বপ্নের মৃত্যু

প্রকাশ | ২৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ১৮:১১ | আপডেট: ২৯ ডিসেম্বর ২০১৬, ২১:০৯

নিজস্ব প্রতিবেদক
মনিকা রহমান ও মামুনুর রশিদ।

৬ বছরের প্রণয়ের অবসান ঘটিয়ে মাত্র ৯ দিন আগে বিয়ের পিড়িতে বসেছিলেন ভার্সিটি পড়ুয়া মনিকা রহমান। ব্যাপক ধুমধামের মাধ্যমে রাজধানী বংশালের একটি কমিউনিটি সেন্টারে নববধূর সাজে বৌ হয়ে আসেন তিনি। একটি প্রাইভেট ফার্মে চাকরি করা স্বামী মামুনুর রশিদকে নিয়ে দু’চোখে ছিলো ঘর-সংসার সাজানোর রঙিন স্বপ্ন। কিন্তু হাতের মেহেদীর রঙ শুকানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় সব স্বপ্ন ভেঙে গেল নব-দম্পতির। প্রাণ যায় স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ২১ বছর বয়সি মনিকার। এতে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েন তার পরিবার ও সহপাঠীরা।

বিয়ের পর গতকাল বুধবার রাতে কক্সবাজারে মধুচন্দ্রিমায় যাচ্ছিলেন এ নবদম্পতি। পথে আজ বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার পদুয়া এলাকায় বাস-ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হন দুজনেই। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক নববধূকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বামীর অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

দুর্ঘটনায় তিনজন নিহতসহ ১৩ ব্যক্তি আহত হন। নিহত অপর দুই যাত্রী মেহেরপুরের রফিকুল ইসলাম (৩৫) ও চাঁদপুরের কচুয়ার বাসিন্দা সোহাগ (৩২)।

মনিকার ছোট বোন অনিকা আক্তার জানান, গত ২১ ডিসেম্বর বংশালের একটি কমিউনিটি সেন্টারে মামুনুর রশিদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বুধবার রাতে তারা হানিফ পরিবহনে কক্সবাজার যাচ্ছিলেন। পরে সকালে আমরা খবর পাই কুমিল্লায় তাদের বাস দুর্ঘটনা হয়েছে। পরে আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে (ঢামেক) নিয়ে আসা হয়। সকাল ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মনিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অনিকা বলেন, বংশাল থানার চানখারপুল লেনের ৫৭/২ নম্বর বাসার সাততলায় তারা থাকতেন। এক সপ্তাহের ছুটি নিয়ে তারা অবকাশে যাচ্ছিলেন।

মনিকার সহপাঠী সামিয়া বলেন, ইংরেজী বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী মনিকা ব্যাচের সিআর (ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ) ছিল। ক্লাসের সবাইকে হাসি আনন্দে মাতিয়ে রাখার অসম্ভব ক্ষমতা ছিল তার। ব্যাচের সবার খোঁজ-খবর রাখত সে। মনিকার এভাবে চলে যাওয়া কোনো ভাবেই মানতে পারছি না।