সেই নারীকে স্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার পর তালাক

  নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

০৫ জানুয়ারি ২০১৭, ১৭:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

শামীম আহম্মদ (বামে), মলি খাতুন (ডানে)।
বগুড়ার ধুনট উপজেলায় সেই গৃহবধূকে স্ত্রীর মর্যাদা দেওয়ার পর লাখ টাকার বিনিময়ে উভয় পরিবারের মাঝে সমঝোতার ভিত্তিতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ (তালাক) ঘটানো হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সমঝোতার বৈঠকের প্রধান সমন্বয়কারি ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এম এ তারেক হেলাল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক থেকে ২০১৫ সালের ১৭ জুলাই মলি খাতুন ও শামীম আহম্মেদ বিয়ে করেন। বিয়ের বিষয়টি পরিবারের অন্য সদস্যদের না জানানোর জন্য মলিকে চাপ দেন শামীম। বিয়ের এক বছর পার হলেও বিষয়টি কাউকে জানাননি মলি। কিন্তু শামীমের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে তাকে শামীমের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বার বার অনুরোধ করেন মলি। কিন্তু মলির কথায় রাজি না হয়ে বিভিন্ন ধরনের টালবাহানা করতে থাকেন শামীম। পরে মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে স্বামীর বাড়িতে অনশন করেন মলি। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে প্রতারক স্বামী শামীম আহম্মেদকে আটক করেন।

তিনি আরও জানান, গতকাল বুধবার মধ্যরাত পর্যন্ত উভয় পরিবারের লোকজন ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে বৈঠক করে কাজী ডেকে এনে রেজিস্ট্রি তালাক মূলে স্বামী-স্ত্রীর সন্মতিক্রমে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। তবে, ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী তিন মাসের ভরণপোষন ও অন্যান্য খরচ বাবদ ছেলে (শামীম) পক্ষ মেয়ের (মলি) হাতে এক লাখ টাকা প্রদান করেন।

ধুনট থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, উভয় পরিবারের লোকজন বৈঠক করে সমঝোতার ভিত্তিতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ (তালাক) হয়েছে। মেয়ে বা মেয়ে পক্ষের কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে, থানায় আটক শামীম আহম্মেদকে মুচলেকা লিখে নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে