শাহবাগে শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ মে ২০১৭, ১৪:২৮ | আপডেট : ১৮ মে ২০১৭, ১৭:২২ | অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় বেসরকারি মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুই নারী পুলিশসহ আহত হয়েছেন ২২জন। আহতদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার কিছু পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি পালন শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে লং মার্চ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। তাদের লং মার্চ শাহবাগ পৌঁছালে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান, টিয়ারশেল এবং ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ।

পরে শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছোড়ে। এ সময় শিক্ষার্থীরা কয়েকটি গাড়িও ভাংচুর করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়লে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।

উচ্চশিক্ষাসহ চার দফা দাবিতে ম্যাটস শিক্ষার্থীরা গত ২৬ এপ্রিল থেকে আন্দোলন করছেন। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুসারে শিক্ষার্থীরা আজ সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে কর্মসূচি পালন করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ স্মারকলিপি দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে রওনা দেয়। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়।

আন্দোলনকারীদের দাবি, তাদের প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

দাবির বিষয়ে ম্যাটস শিক্ষার্থীরা জানান, ম্যাটস থেকে ডিপ্লোমা করা শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা পদে নিয়োগের কথা থাকলেও তারা সেই সুযোগ পাচ্ছেন না। ম্যাটসে পড়া শেষে মেডিক্যাল কলেজগুলো থেকে ‍উচ্চশিক্ষার সুযোগের কথা বলা হলেও এখনও তা কার্যকর হয়নি।

ম্যাটস শিক্ষার্থীদের ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক জানান, রাস্তায় আছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সংগঠন মেডিক্যাল অ্যাসিস্টেন্ট ট্রেনিং স্কুলের (ম্যাটস) সহ-সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা চালিয়েছে। আমাদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার সাংবাদিকদের বলেন, ‘শাহবাগে বসে রাস্তা আটকানোর পরিকল্পনা থাকায় আমরা শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছি। সকাল থেকেই তারা শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়েছিল। এরপর তারা প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিতে শাহবাগের দিকে রওনা দেয়। আপনারা জানেন স্মারকলিপি দিতে একটি প্রতিনিধি দল যেতে হয়। তারা সেই নিয়ম না মেনে একদল শিক্ষার্থী শাহবাগের রাস্তা অবরোধ করতে চাইলে আমরা তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেই।’

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে