‘এতদিন ভয়ে কিছু বলিনি, এশা আপু প্রতিদিন মেয়েদের মারে’

  ঢাবি প্রতিনিধি

১১ এপ্রিল ২০১৮, ০৯:৫২ | আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৮, ২০:১৭ | অনলাইন সংস্করণ

‘প্রতিদিন আমাদের মারধর করে। হলের সভাপতি ইশরাত জাহান এশা আপু প্রতিদিন মেয়েদের মারে। ভিডিও কইরেন না। আপনারা আমার দায়িত্ব নিতে পারবেন না। আমরা এতদিন ভয়ে কোনো কথা বলিনি।' এভাবেই বলেছেন নির্যাতনের শিকার হওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বোটানি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্রী মোর্শেদা আক্তার। 

ওই ছাত্রী বলেন, ‘তিন দিন ধরে প্রোগ্রাম হচ্ছে, আমরা গেছি। আমাদের জিজ্ঞাসা করে আমরা কই গেছি, কেন গেছি। আমাদের তো আর সবার সামনে মারে নাই। সেকেন্ড ইয়ারের একটা মেয়েকে মারছে। থাপ্পড় মারছে, মাথায় পানি দিতে হইছে। কষ্ট এটাই, ম্যাডামরা আমাদের দায়িত্ব নিতে পারে নাই। আমরা তো অসহায় হয়েই হলে উঠি। আমাদের থাকার জায়গা নেই বলেই হলে উঠি। মেয়েটা পা পর্যন্ত ধরছে। বলেছে, আপু আমারে কিছু বইলেন না। এগুলা আমাদের চুপচাপ দেখতে হইছে। কোনো ব্যবস্থা নাই। কালকেও মেয়েদের মারছে। তিন চারটা মেয়েকে মারছে।’

এ সময় অন্য শিক্ষার্থীরা জানান, কোটা সংস্কার আন্দোলনে হল থেকে কারা যাচ্ছেন, তাদের চিহ্নিত করে রাতে ডেকে নিয়ে ইশরাত জাহান এশার নেতৃত্বে মারধর করা হয়। মঙ্গলবার রাতেও কয়েকজনকে মারধর করা হয়। এ সময় মোর্শেদার পা কেটে গেলে রক্তক্ষরণ হয়।

পরে তার চিৎকার শুনে সাধারণ ছাত্রীরা বাইরে বের হয়ে আসেন। তারা এশাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন। ছাত্রলীগের হল সভাপতিকে এ সময় বিক্ষুদ্ধ ছাত্রীরা মারধরও করেন বলে জানা গেছে।

পরে আহত ছাত্রীর রক্তাক্ত পা, স্যান্ডেল ও ফ্লোরের বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় অন্যান্য হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় এবং ছাত্রীগের পক্ষ থেকে ঢাবির কবি সুফিয়া কামাল হলের ছাত্রলীগ সভাপতি ইশরাত জাহান এশাকে বহিষ্কার করা হয়।   

তবে এ বিষয়ে ইশরাত জাহান এশার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে