রিজার্ভ চুরির অর্থ ফেরাতে আরসিবিসি'র বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি

  নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ অক্টোবর ২০১৭, ১৯:৩৩ | আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০১৭, ১৯:৪৩ | অনলাইন সংস্করণ

বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়ার রিজার্ভের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারে মধ্যে ১ কোটি ৪৫ লাখ ডলার ফেরত এসেছে। এছাড়া আরও ৩ কোটি ডলার আদালতের আদেশে জব্দ রয়েছে। এসব অর্থ উদ্ধারের পর অনাদায়ী বাকি অর্থ আদায়ে রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) বিরুদ্ধে আইন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। আরসিবিসির মাধ্যমে রিজার্ভ চুরির অর্থ হাতিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।

আজ রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হিসাব হতে সাইবার হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে পাচারকৃত ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে ১ কোটি ৪৫ লাখ ডলার ফিলিপাইন আদালতের আদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংককে গত নভেম্বরে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঘটনার পরপরই গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৭০ হাজার ডলার ফেরত দেয় আরসিবিসি।  

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চুরি হওয়া অর্থের অবশিষ্ট অংশ দ্রুত উদ্ধার এবং তা ফেরত আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন আইনি কার্যক্রম বর্তমানে ফিলিপাইনে চলমান রয়েছে। সোলায় নামক ক্যাসিনোতে যে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার স্থানান্তরিত হয় তা ফিলিপাইনের আদালত কর্তৃক ফ্রিজ করা হয় এবং এ বিষয়টি বর্তমানে ফিলিপাইনের সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

এছাড়া ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কিম অং এর দুইজন কর্মচারির হিসাবে ১২ লাখ ডলার সমপরিমাণ অর্থের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং ফিলিপাইনের আদালত কর্তৃক এসেট প্রিজার্ভেশন অর্ডার জারি করা হয়েছে অর্থাৎ এ অর্থ আদালতের আদেশ ব্যতীত সংশ্লিষ্ট হিসাব হতে কোনো পক্ষই উত্তোলন করতে পারবে না। এ পরিমাণ অর্থ বাজেয়াপ্তকরণপূর্বক বাংলাদেশ ব্যাংককে ফেরত প্রদানের বিষয়টি ম্যানিলার রিজিওনাল কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। এর বাইরে মানি রেমিটেন্স কোম্পানি ফিলরেমের কাছে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার রক্ষিত রয়েছে মর্মে বিভিন্ন পর্যালোচনা ও অনুসন্ধানে পরিলক্ষিত হয়েছে। এ পরিমাণ অর্থ ফিলরেমের কাছে থেকে উদ্ধারের জন্য ফিলিপাইনের এন্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিল (এএমএলসি) কর্তৃক সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হিসাব হতে অর্থ চুরির বিষয়ে আরসিবিসির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং এক্ষেত্রে ব্যাংকের দায় রয়েছে।
 
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, পাচারকৃত অর্থের অবশিষ্ট ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার আইনি প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট আদালতের আদেশের মাধ্যমে বর্ণিত উৎসসমূহ হতে উদ্ধারের পর যে পরিমাণ অর্থ অনাদায়ী থাকবে তা আরসিবিসি ব্যাংকের কাছ থেকে আদায়ের আইনি উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।  ফিলিপাইনের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নকরণের মাধ্যমে আদালতের চূড়ান্ত আদেশপ্রাপ্তি সাপেক্ষে বর্ণিত অবশিষ্ট অর্থ উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ফিলিপাইন সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় আইনি প্রক্রিয়ায় এ অর্থ দ্রুত ফেরত পাওয়ার লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে যা চলমান রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি কতিপয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হতে অর্থ চুরির বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদে কিছু বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের সংবাদ দেশে এবং দেশের বাইরে চলমান তদন্ত কার্যে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে এবং চুরিকৃত অর্থ উদ্ধার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্থ করতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হতে হ্যাকিং এর মাধ্যমে অর্থ চুরির বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংঘবদ্ধ চক্রের অপরাধ হিসেবে প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন পক্ষের তদন্তে পরিলক্ষিত হয়েছে এবং এ অপরাধের সাথে তাদের অপরাধ প্রমাণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পাচারকৃত অর্থের অবশিষ্ট অংশ দ্রুত উদ্ধার ও তা ফেরত আনা এবং তদন্ত কার্যক্রমসহ বিভিন্ন আইনগত বিষয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথেও নিয়মিত আলোচনা চলছে।

সম্প্রতি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক, বাংলাদেশ ব্যাংক ও সুইফট এর মধ্যে অনুষ্ঠিত এক সভার সূত্রে একটি ত্রিপক্ষীয় স্টেটমেন্ট জারি করা হয়েছে যাতে বাংলাদেশের চুরিকৃত অর্থ উদ্ধার এবং দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে।  

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হতে হ্যাকিং এর মাধ্যমে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংক, এপিজি, এগমন্ট গ্রুপ, ইন্টারপোলসহ বিভিন্ন সংস্থার সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

এখানে উল্লেখ্য যে, ফিলিপাইনের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস কর্তৃক ফিলিপাইনের আদালতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হতে হ্যাকিং এর মাধ্যমে অর্থ পাচারের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৭ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ক্রিমিনাল কেস দায়ের করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে