ছয়মাসে রেমিটেন্স বেড়েছে সাড়ে ১২ শতাংশ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০১ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:০৮ | আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:০৯ | অনলাইন সংস্করণ

চলতি অর্থবছরের প্রথম ষান্মাসিকে (জুলাই-ডিসেম্বর) ৬৯৩ কোটি ৫৭ লাখ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন বিদেশি কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা। গত অর্থবছরের একই সময়ে রেমিটেন্স আসে ৬১৬ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে সাড়ে ১২ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিদায় বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ১১৬ কোটি ৭১ লাখ ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত বছরের একই মাসের তুলনায় রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে ২২ শতাংশ। গত বছরের ডিসেম্বরে রেমিটেন্স আসে ৯৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। হুন্ডি প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমার ফলে রেমিটেন্স বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছরে প্রথম ছয়মাসে দেশের রেমিটেন্স আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিটেন্স ১৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ কমে। তবে চলতি অর্থবছরের শুরুতে রেমিটেন্স আয় বাড়তে থাকে। কিন্তু ওই সময়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে হুন্ডি এবং খোলা বাজারে ডলারের দাম বেশি থাকায় সেপ্টেম্বরে গত ৭ বছরের সবচেয়ে কম রেমিটেন্স আসে। সেপ্টেম্বরে রেমিটেন্স আসে মাত্র ৮৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার। রেমিটেন্স কম আসার কারণ অনুসন্ধান ও হুন্ডির বিষয়ে নিশ্চিত হতে সরেজমিনে তদন্ত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই তদন্তে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে হুন্ডিতে রেমিটেন্স পাঠানোর বিষয়টি ধরা পড়ে। হুন্ডির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েক হাজার গ্রাহক ও এজেন্টের একাউন্ট বন্ধের নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর প্রতিমাসেই আগের অর্থবছরের একই মাসের তুলনায় রেমিটেন্স আয় বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের অক্টোবরে ১১৬ কোটি এবং নভেম্বরে ১২১ কোটি ডলার রেমিটেন্স আসে বাংলাদেশে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্টর কর্মকর্তারা জানান, গত এক বছরে ডলারের দাম ৪ থেকে ৫ টাকা বেড়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী গত বছরের ডিসেম্বরে প্রবাসীদের কাছ থেকে প্রতি ডলার ৭৮ টাকা ৫০ পয়সায় কিনতো। চলতি বছরের ডিসেম্বরে ব্যাংকটি ডলার কিনেছে  ৮২ টাকা ৪০ পয়সায়। অর্থাৎ ১ ডলার বিক্রি করে ৪ টাকা আয় বেশি হয়েছে প্রবাসীদের। ব্যাংক ভেদে ডলারের দাম আরও বেশি বেড়েছে। বৈধপথে আয় বেশি হওয়ায় প্রবাসীরা ব্যঅংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন। এছাড়া হুন্ডি প্রতিরোধে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর হওয়ায় বাধ্য হয়ে বৈধপথে রেমিটেন্স পাঠাচ্ছেন প্রবাসীরা।

গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রেকর্ড পরিমান বেড়ে দেড় হাজার কোটি ডলারেরও বেশি রেমিটেন্স আসে। এরপরের বছর থেকেই রেমিটেন্স আয় কমতে থাকে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আড়াই শতাংশ কমে রেমিটেন্স আয় হয় ১ হাজার ১৪৯৩ কোটি ডলার। আর গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আগের বছরের চেয়ে প্রায় ১৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ কম রেমিটেন্স আসে। ওই অর্থবছরে রেমিটেন্স আসে ১ হাজার ২৭৭ কোটি ডলার; যা গত ছয় অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে