ব্যাংকার্স সভা

ব্যাংক দখলে আতঙ্কিত এমডিরা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ জানুয়ারি ২০১৮, ২০:২২ | অনলাইন সংস্করণ

গত বছরে দুটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে আকস্মিকভাবে বড় পরিবর্তন হয়েছে। ওই পরিবর্তনের ফলে চাকরি হারাতে হয়েছে শীর্ষ নির্বাহীদেরকেও। তাই ব্যাংকিং খাতে আকস্মিক পরিবর্তনের ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা (এমডি)। অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহযোগিতা চেয়েছেন এমডিরা। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সভায় গভর্নর ফজলের কবিরের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এমডিদের সংগঠন এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)। বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন গভর্নর।

সূত্র জানায়, গত বছরের শুরুতে ইসলামী ব্যাংকের মালিকানায় বড় পরিবর্তন হয়। আকস্মিকভাবে রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় চেয়ারম্যানÑভাইস চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পদে বড় পরিবর্তন আসে। সোসাল ইসলামী ব্যাংকেও একই প্রক্রিয়া চেয়ারম্যান-ভাইস চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য পদে বড় পরিবর্তন আসে। সংশ্লিষ্টরা এটাকে ‘ব্যাংক দখল’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। ওই দুই ঘটনায় এমডিরাও চাকরি হারিয়েছেন। আরও কয়েকটি ব্যাংকে এ ধরনের পরিবর্তনের গুজব রয়েছে।

আজকের ব্যাংকার্স সভা শেষে এবিবির চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, গত বছর কয়েকটি ব্যাংকের আকস্মিক পরিবর্তন হয়েছে। এতে ম্যানেজমেন্ট ও আমানতকারীরা ভীত হয়ে পড়েছেন। পরিবর্তন অবশ্যই কাম্য। তবে আকস্মিকভাবে কোন পরিবর্তন হওয়া উচিত নয়। গভর্নরের কাছে আমরা বলেছি। গভর্নর বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, শেয়ারহোল্ডারা শেয়ার কেনাবেচা করেন। এতে কেউ বেশি শেয়ার কিনে এজিএম বা বোর্ড সভার মাধ্যমে পরিচালক হতেই পারেন। এক্ষেত্রে কোন অনিয়ম হলে বা সুশাসনের অভাব থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংকটি বিষয়টি দেখে এবং দেখছে।

প্রতি তিন মাস পরপর ওই ব্যাংকার্স সভা অনুষ্ঠিত হয়। গভর্নর সভাপতিত্বে গতকালের সভায় সব ব্যাংকের এমডিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় দেশের সামষ্ঠিক অর্থনীতি, ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ, আমদানি-রপ্তানী, ডলারের বিনিময় মূল্য, রেমিটেন্স পাঠানোর খরচ কমানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সভা সূত্র জানায়, সাধারণ ব্যাংকগুলো সংগৃহীত আমানতের সর্বোচ্চ ৮৫ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংকগুলো সংগৃহীত আমানতের সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে পারে। কোন কোন ব্যাংক এরচেয়ে বেশি ঋণ বিতরণ করেছে। যার ফলে ঋণের প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি হচ্ছে। এই আগ্রাসীভাবে ঋণ বিতরণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর।

 

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে