সংবাদ সম্মেলনে সিপিডি

নির্বাচনী বছরে অর্থনীতি বাড়তি ঝুঁকিতে পড়বে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১৩:০৪ | আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১৪:৫৫ | অনলাইন সংস্করণ

চলতি বছরের শেষের দিকে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। নির্বাচনী বছরে অর্থনীতি বাড়তি ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। ঝুঁকি মোকাবেলায় অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় রক্ষণশীল নীতিতে চলার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া গত বছরের আর্থিক দুর্বলতা সূচক সম্পর্কে যেমন ব্যাংক দখল, অর্থপাচার, দারিদ্র ও  সম্পদের বৈষম্য কমানো, গুণগত প্রবৃদ্ধির বিষয়ে সমালোচনা করে সিপিডি।

আজ শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ অর্থনীতি ২০১৭-১৮ অর্থবছর প্রথম অন্তরবর্তীকালীন পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন  সংস্থাটির গবেষকরা।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য বলেন, অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৭ সাল শুরু হলেও শেষের দিকে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ বাড়েনি। প্রবৃদ্ধি হলেও দারিদ্র্য বিমোচনের হার কমেছে। ফলে আয় ও সম্পদ বৈষম্য বেড়েছে।

চলতি বছর সম্পর্কে তিনি বলেন, ২০১৮ সালের সব কর্মকাণ্ড নির্বাচনমুখী। আগের সংস্কার হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। চলতি বছর এমন ম্যাজিক্যাল কিছু ঘটবে না যাতে বড় ধরনের সংস্কার হবে। সংস্কার করার মত রাজনৈতিক পুঁজিও নাই। গত বছরের আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার সঙ্গে চলতি বছরের নির্বাচনী বাড়তি ঝঁকি যোগ হবে। এজন্য রক্ষণশীল অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা কার্যকর করতে হবে। ঋণ কমাতে হবে, টাকার মূল্যমান ঠিক রাখতে হবে, মূল্যস্ফীতি বিশেষ করে চালের দাম কমাতে হবে। নির্বাচনী বছরে বহুমুখী চাপ সামলাতে রাজনৈতিক দুরদর্শিতা প্রয়োজন।

ব্যাংক খাত সম্পর্কে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য বলেন, ব্যাংকের সামগ্রিক সূচক আরও খারাপ হয়েছে। অপরিশোধিত ঋণের পরিমান বেড়েছে, প্রভিশন কমেছে, ঋণের টাকা কয়েক ব্যক্তির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আশঙ্কার জায়গা প্রশাসনিকভাবে ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতা কারণে এসব বিষয়ে কোন পদক্ষেপ বা সংস্কার করতে পারেনি। সংস্কারের উল্টো দিকে গেছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন  সংশোধন করে পরিবারের হাতে ব্যাংকগুলোকে জিম্মি করার উদ্যোগ নিয়েছে। আগের রাজনৈতিক বিবেচনায় লাইসেন্স দেওয়া ব্যাংকগুলোর অবস্থা খারাপ হলেও নতুন করে আরও ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য্য বলেন, দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার জন্য অর্থমন্ত্রণালয় দায়ী। অর্থমন্ত্রণালয়ের সংস্কারের উদ্যোমের অভাব ছিল। আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় ঘটাতে পারেনি এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল ছিল না।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমদানির আড়ালে অর্থ পাচার হচ্ছে। বিশেষ করে পোশাক শিল্পের কাঁচামাল তুলা আমদানি ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। উৎপাদনের তার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বিদেশি বিভিন্ন  সংস্থার হিসেবে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৮ থেকে ৯ বিলিয়ন ডলার পাচার হচ্ছে। এর মধ্যে ৮০ ভাগই আমদানি-রপ্তানিতে মূল্যকারসাজির মাধ্যমে। বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক  ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) খতিয়ে দেখা উচিত।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, গবেষণা পরিচালক খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বক্তৃতা দেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, আমদানি ব্যয় অনেক বেড়েছে রপ্তানী আয় সেই হারে বাড়েনি। ফলে ব্যালান্স অব পেমেন্টে ঘাটতি হচ্ছে। টাকার মান কমেছে। সার্বিকভাবে সুদ হার কমলেও দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এই সুবিধা পাননি। ঋণের টাকা খেলাপি হয়ে গেছে। সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমান অর্থ জনগণের করের টাকা থেকে মূলধন যোগান দিচ্ছে। এখন বেসরকারি ব্যাংক থেকে বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে।

রোহিঙ্গ সম্পর্কে বলা হয়, গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসেছে। তাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়ার আলোচনা চলচে। বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী প্রতিদিন ৩০০ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠানো হলে সবাইকে ফেরাতে সময় লাগবে কমপক্ষে ৭ বছর। সেইসঙ্গে এতোদিনে খরচ হবে কমপক্ষে ৪৪৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। আর যদি প্রতিদিন ২০০ জন ফেরত পাঠানো হয়, তাহলে সময় লাগবে কমপক্ষে ১২ বছর, এবং খরচ হবে কমপক্ষে ১ হাজার ৪৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে