সংবাদ সম্মেলনে চেয়ারম্যান

পরিচালকদের সুপারিশের ঋণ ফিরিয়ে নিচ্ছে এনআরবিসি ব্যাংক

  নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:৩৮ | আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০১৮, ১৯:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

নিজেদের মধ্যে ঋণ ভাগাভাগি, পারস্পারিক দ্বন্দ্ব ও দৈনন্দিন কাজে হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে নতুন প্রজন্মের ব্যাংক এনআরবি কমার্শিয়ালর (এনআরবিসি) পরিচালকদের বিরুদ্ধে। নানা অভিযোগের ব্যাংকের এমডিকে অপসারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পদ ছাড়েন প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তবে পরিচালক নিজেরা ঋণ নেননি তাদের সুপারিশে অন্যকে ঋণ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন নতুন চেয়ারম্যান তমাল এসএম পারভেজ। সুপারিশের ঋণও আগামী ৬ মাসের মধ্যে ফেরিয়ে নেওয়া হবে। আজ সোমবার ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। এ সময় ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি কাজী মো. তালহা উপস্থিত ছিলেন।

এই চেয়ারম্যান বলেন, পরিচালকরা নিজেরা ঋণ নিতে পারেন না। তবে তাদের আত্মীয়-স্বজন ঋণ নিতে পারেন। এটি অন্যায় নয়। পরিচালকরা অনেককে ঋণ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন। সুপারিশের ভিত্তিতে ২৫০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। ঋণগুলো ভালোমানের ছিল। কিন্তু এরপরও ১০০ কোটি টাকা ঋণ ফেরত নেওয়া হয়েছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে বাকী দেড়শো কোটি টাকাও ফেরত আসবে।

ব্যাংকের বেনামী শেয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ব্যাংকে কোন বেনামী শেয়ার নেই। বিদেশে প্রতিষ্ঠিতরা এই ব্যাংকের মালিকানায় রয়েছে। নতুন ৩জনসহ বর্তমানে ৫৭ জন শেয়ার হোল্ডার রয়েছেন। কামরুন নাহার সাকীর পরিচালক পদ নিয়ে আদালয়ের রায় রয়েছে। তার স্বামীর ঋণ কেলেঙ্কারী বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে। তবে কামরুন নাহার সাকী বা তার কোন প্রতিনিধিকে ব্যাংকের মিটিংয়ে ডাকা হয় না। আইনী প্রক্রিয়া শেষ হলে আগামী ফেব্রুয়ারীর মধ্যে তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ব্যাংকের এমডির অপসারণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, কর্পোরেট সুশাসন ও কমপ্লায়েন্সে ঘাটতি ছিল। ব্যাংকের সব কিছুর জন্য এমডি দায়বদ্ধ। বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে নিয়োগ দিয়েছে। তাকে রক্ষার দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের। কিন্তু পদে থেকে তিনি প্রতিবাদ করেননি। যার ফলে তাকে অপসারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ঋণ কেলেঙ্কারী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৭০১ কোটি টাকার ঋণের অনিয়মের বিষয়টি আমিই প্রথম বাংলাদেশ ব্যাংককে জানিয়েছি। এই ব্যাংকের অনিয়মের খবর প্রকাশ ইমেজ সংকটে পড়েছে। যার ফলে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ৫০০ কোটি টাকা আমানত তুলে নিয়েছে। কিন্তু কোন ব্যক্তি গ্রাহক আমানত তুলে নেননি। আমি ক্রাইস ম্যানেজার। সংকট মোকাবেলা করে এই ব্যাংকটিকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যাবো। বিদেশি বিনিয়োগ আনার যে উদ্দেশ্যে এই ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে দুয়েক বছরের মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগ আনা হবে। প্রবাসীদের জন্য আকর্ষণীয় প্রকল্প চালু করা হবে।

উল্লেখ্য, বর্তমানের সরকারের গত মেয়াদে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন দেওয়া ৯টি ব্যাংকের মধ্যে একটি এনআরবিসি। প্রবাসী উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে গঠিত ব্যাংকটি যাত্রা শুরু করে ২০১৩ সালের এপ্রিলে। ঋণ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে ব্যাংকটির এমডি দেওয়ান মুজিবুর রহমানকে গত ৬ ডিসেম্বর অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১০ ডিসেম্বর ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের জরুরী সভায় প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরাছত আলী, ভাইস চেয়ারম্যান তৌফিক রহমান চৌধুরীসহ অন্য কমিটির সদস্যরা পদত্যাগ করেন। নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তমাল এসএম পারভেজ। এমডিকে তিন মাসের জন্য ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তও হয় ওই সভায়।   

 

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে