মিয়ানমারের অর্থনীতিতে নতুন চাপ

  মোস্তফা তাহান

২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:৫৮ | অনলাইন সংস্করণ

রোহিঙ্গা নিপীড়ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে মিয়ানমারের অর্থনীতি নতুন করে আরও চাপে পড়তে যাচ্ছে। আমেরিকা, কানাডা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিয়ানমারের ওপর নানামুখী চাপ প্রয়োগ করছে। এরই মধ্যে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া মিয়ানমার থেকে পণ্য আমদানি কমিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের বৈধ ও অবৈধ দুই ধরনের বাণিজ্যই কমে গেছে। আমেরিকা, কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন একই ধরনের কথা চিন্তা করছে।

মিয়ানমারে সীমিত আকারে গণতন্ত্র চালুর পর থেকে তাদের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা উঠে গেছে। একই সঙ্গে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ বড় ধরনের অবকাঠামো খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আসতে শুরু করে। কিন্তু গত বছর রোহিঙ্গা নিধন ইস্যুটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক প্রচার পাওয়ায় মিয়ানমার বড় ধরনের চাপে পড়ে। ফলে তাদের মুদ্রার মান কমে যায়। বৈদেশিক বাণিজ্যের মধ্যে তাদের রপ্তানি কমে যায়। বিনিয়োগেও দেখা দিয়েছে মন্থর গতি। বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের গতিও কমে গেছে। যে কারণে আগামী বছরে তাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ)।

চলতি বছরে মিয়ানমারের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার প্রাক্কলন করা হয়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। আগামী বছরে এটি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। একই সঙ্গে বেড়ে যেতে পারে মূল্যস্ফীতির হার। চলতি বছরে এই হার ৬ দশমিক ১ শতাংশ ধরা হয়েছে। আগামী বছরে এটি বেড়ে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে।

এর মধ্যে মিয়ানমার থেকে পণ্য রপ্তানি কমে যাওয়া, বিদেশি বিনিয়োগে মন্থর গতি, বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থগিত মিয়ানমারের অর্থনীতিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে বলে মনে করে আইএমএফ। এরই মধ্যে তাদের মুদ্রার মান কমে যাওয়াটা এ ক্ষেত্রে একটি সতর্কসংকেত বলে মনে করা হচ্ছে। কেননা যে কোনো দেশের অর্থনীতির প্রতি সেই দেশের মানুষের বা বিদেশিদের কতটুকু আস্থা আছে, তা নির্ভর করে সেই দেশের মুদ্রার মানের ওপর। বর্তমানে মিয়ানমারের মুদ্রা ক্যাতের মান কমে গেছে। এমনিতেই এটি খুব কম লেনদেন হয়।

এর মধ্যে কর্মকর্তাদের ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা এলে সেটি বাণিজ্যের ওপরও প্রভাব ফেলবে। তখন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আরও বড় ধরনের কোনো নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা করে মিয়ানমারে তাদের ব্যবসায়িক কর্মকা-কে থামিয়ে দিতে পারেন।

এদিকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর জেনারেলদের বিদেশে যেসব সম্পদ রয়েছে সেগুলো আটক করারও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। যেসব দেশ থেকে টাকা পাচার হয় তার মধ্যে মিয়ানমারও অন্যতম। ফলে এদের সম্পদ আটক হলে দেশটির ইমেজ সংকট আরও প্রকট হবে।

এদিকে মিয়ানমারের ওপর নব্বইয়ের দশক থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপিত রয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞাকে আরও কীভাবে জোরদার করা যায় তাও খুঁজে দেখবে তারা। অন্যান্য প্রভাবশালী দেশকেও তারা এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপে উৎসাহিত করবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে