পাট পাতা থেকে উৎপাদিত চা রপ্তানি হচ্ছে

  মোস্তফা তাহান

১১ মার্চ ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৮, ০৯:২৩ | অনলাইন সংস্করণ

চা পানে মানুষকে উৎসাহিত করতে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো এ দেশে প্রচার চালাত ‘গরমের দিনে শীতল পানীয় চা’, আবার শীতের দিনে প্রচার চালাত ‘শীতের দিনে গরম পানীয় চা’। এই সেøাগানকে কেন্দ্র করে সারা বছর চলত চায়ের জমজমাট ব্যবসা। সেই সময়ে এ দেশে চায়ের ব্যবসা না জমলেও এখন দারুণ জমেছে। গ্রাম থেকে শহর, বাড়ি থেকে বেড়াতে, এমনকি ঘুরতে যেখানেই যাবেন, সেখানেই আপনাকে সাদর সম্ভাষণ জানাতে প্রস্তুত হয়ে আছে নানা স্বাদের চা। এতদিন গ্রিন টি, ব্ল্যাক টি, লেমন টি, তেঁতুল টি, জিনজার টি, ব্যানানা টিসহ নানা স্বাদের ও নামের চায়ের স্বাদ নিয়েছেন অনেকেই। কিন্তু চা-প্রেমীদের জন্য এবার একেবারে ভিন্ন স্বাদ ও মানের দেশীয় চা নিয়ে এসেছে একটি কোম্পানি। এর নাম পাট পাতার চা।

ইনটারট্রোপ অ্যাগ্রিকালচারাল প্রোডাক্ট অ্যান্ড সার্ভিস কোম্পানি লিমিটেড তৈরি করেছে এই চা। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই চা ডায়াবেটিক রোগীদের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। এতে আরও অনেক ভেষজ গুণ রয়েছে, যেগুলো মানুষকে উপকৃত করবে।

গত মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত রাজধানীর শেরেবাংলানগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত পাটপণ্য মেলায় পাট পাতার তৈরি চা প্রদর্শন করা হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান থেকে ১৯৯৩ সালে পাট পাতা নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। এতে তারা পাট পাতার অনেক ভেষজ গুণ পান। ফলে তারা গবেষণাকে আরও এগিয়ে নেন। ২০১৬ সালে পাট পাতা থেকে চা তৈরি করে সফলতা লাভ করেন তারা। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নাসিমুল গনি। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও তাদের সহায়তা করেছে।

আগে পাট পাতা গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হতো। একই মানুষ পাটশাক হিসেবেও খেত। এখন এর চেয়েও বেশি মূল্য সংযোজন হবে পাট পাতা থেকে।

পাটের ফুল আসার আগেই উপরের দিক থেকে কচি পাতা সংগ্রহ করে সেগুলো তাপ প্রয়োগ করে শুকিয়ে গুঁড়া করা হয়। এই গুঁড়াই চা-পাতার মতো ব্যবহার করা যাবে। এই চা গ্রিনটি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। গরম পানিতে এই গুঁড়া রাখলেই কিছুক্ষণের মধ্যে লালচে সবুজ রঙ ধারণ করবে। এই চা মধু বা চিনি দিয়ে পান করা যাবে। তবে এগুলোয় দুধ ব্যবহার করা যাবে না। আবার কোনোকিছু না দিয়েও পান করা যাবে।

দুটি প্রতিষ্ঠান এখন পাট পাতার চা উৎপাদন করছে। এর মধ্যে জার্মানিতে কিছু চা রপ্তানিও করা হয়েছে। বিদেশের বাজারে এর চাহিদা বাড়ছে। একই সঙ্গে দেশের বাজারেও চাহিদা আছে। বড় বড় শোরুমে পাট পাতার চা বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে ১০০ গ্রামের প্যাকেট ১৫০ টাকা এবং ৫০ গ্রামের প্যাকেট ১০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে