‘ইসলামী ব্যাংক রাজনৈতিক মতাদর্শে পরিচালিত হয় না’

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৮ জানুয়ারি ২০১৭, ১৯:২১ | আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৭, ২০:৩৩ | অনলাইন সংস্করণ

ইসলামী ব্যাংকিংয়ের মৌলিক নীতিমালা ও ইসলামী শরিআহর সকল বিধান ব্যাংক পরিচালনার ক্ষেত্রে কঠোরভাবে পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান আরাস্তু খান। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক অনেক বড় ব্যাংক। এটি একটি রাজনৈতিক মতাদর্শে পরিচালিত হয় না। যার ফলে প্রায় ১ কোটিরও বেশি গ্রাহকের আস্থার জায়গা এই ব্যাংক।

আজ রোববার মতিঝিলের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

আরস্তু খান বলেন, ম্যানেজমেন্টে কিছু পরিবর্তন হলেও মূলনীতিতে কোনো পরিবর্তন হবে না। বর্তমানের পর্ষদের কার্যক্রমে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্দেশ্য ও শরীয়াহ নিয়মনীতি লঙ্ঘিত হবে না। কয়েকজন মানুষ একসঙ্গে পরিবর্তন হয়েছে। আগের মতই সুদবিহীন ও লাভ-ক্ষতির ভাগাভাগি পদ্ধতিতেই ইসলামী ব্যাংক পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক ভালোভাবে চলেছে বলে গ্রাহকের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে ব্যাংকটি। একটি রাজনৈতিক দলের ব্যাংক এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সিএসআর খাতে ব্যাংকটি হাসপাতাল, শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে খরচ করেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে অনুপযুক্ত কোনো খাতে অর্থ ব্যয় করা হবে না।

তিনি বলেন, শীর্ষ পদে পরিবর্তনে ফলে কারও চাকরি যাবে না। সবার চাকরির নিশ্চয়তা দিচ্ছি। রাজনৈতিক কারণে কাউকে বিদায় করা হবে না। তবে কেউ অর্থের অপব্যবহার করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে সাড়ে ১৩ হাজার কর্মী নিরলস কাজ করছে। তাদের জন্য  ৫টি বোনাস দেওয়া হয়েছে এবং বেতনও বাড়ানো হবে।

আরস্তু খান বলেন, ইসলামী ব্যাংকের নিয়োগ প্রক্রিয়া ও পদোন্নতি মেধার ভিত্তিতে করা হবে। হিন্দু, বৌদ্ধ ও নারীরা যেন মেধার ভিত্তিতে কাজ করার সুযোগ পায় সেই ভাবে নিয়োগ পদ্ধতি প্রণয়ন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মেগা প্রকল্পে ব্যাংকের মাধ্যমে কিভাবে অর্থায়ন করা যায় সেই বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এই ব্যাংকের অর্থায়নে মাধ্যমে ১ শতাংশ জিডিপি বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। আরও ১০ লাখ নারীকে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করবে ব্যাংকটি।

ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আহসানুল আলম বলেন, কারো চাপে চেয়ারম্যান ও এমডিকে সরানো হয়নি। শারীরিক অসুস্থ্যতার কারণ দেখিয়ে তারা পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। পর্ষদ তা গ্রহণ করে নতুন চেয়ারম্যান ও এমডি ঠিক করেছেন। বেসরাকরি ব্যাংকে সরকার কোনো পরিচালক নিয়োগ দিতে পারে না। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন লাগে। মীর কাসিম আলীকে ভাইস চেয়ারম্যান করার অনুমতি চাইলে নিশ্চয় তা পাওয়া যেত না। নিয়োগ প্রক্রিয়া হয় ইসার আমলে ইসা ও মুসার আমলে মুসা।  

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দর্শনে কথা বলে ইসলামী ব্যাংকের নামে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ইসলাম ব্যাংকের একটি ধারণাগত সমস্যার রয়েছে। ব্যাংকের পর্ষদ ও কর্মীরা অনেক ভালো। কিন্তু তাদের সম্পর্কে রাজনৈতিক আদর্শের বিষয়ে তীর্যক মন্তব্য করা হয়। তাদের সম্মান করা হয়না। রাজনৈতিক বিবেচনায় কারও চাকরি যাবে না। তবে কেউ যদি বোমা মারতে গিয়ে ধরা পড়েন তাকে লাভ লেটার বা সাসপেনশন লেটার দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বড় বড় গ্রুপের বেশ কয়েকটি ব্যাংকে শেয়ার আছে। এসআলমের ৫-৬টি ব্যাংকে শেয়ার রয়েছে। তবে ইসলামী ব্যাংকে এই গ্রুপের নামে কোনো শেয়ার নেই।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মতিন, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ড. মো. জিল্লর রহমান, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মো. আবদুল মাবুদ, পিপিএম, পরিচালক প্রফেসর ড. কাজী শহীদুল আলম ও ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. মাহবুব-উল-আলমসহ উর্ধ্বতন নির্বাহীবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
  • নির্বাচিত

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে