প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সংবাদ সম্মেলনে

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

শিক্ষামন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা

  বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২১:২৩ | আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২১:২৫ | অনলাইন সংস্করণ

দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি পেশ করেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট। রোববার বেলা সাড়ে ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রজোট আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান তারা। এছাড়া ২৫ ফেব্রুয়ারি বেলা ১২টায় শিক্ষামন্ত্রণালয় ঘেরাওয়েরও ঘোষণা দেয়া হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি না করে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে অন্তঃসারশূণ্য করেছেন। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি পাবলিক পরীক্ষায় লাগামহীনভাবে প্রশ্নপত্র্র ফাঁস হচ্ছে। বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী তার দায়িত্ব পালনের ব্যর্থ হয়েছেন।

তাদের তিন দফা দাবিগুলো হলো- অবিলম্বে ‘ব্যর্থ’ শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের পদত্যাগ, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত ও শিক্ষাখাতে ঘুষ-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার। এই দাবিতে তারা আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জোটের সমন্বয়ক গোলাম মোস্তফা। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের একাংশের সভাপতি নাঈমা খালেদ মনিকা, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জি এম জিলানী শুভ, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের অন্য অংশের সভাপতি ইমরান হাবিব রুমন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ইকবাল কবীর, ছাত্র ঐক্য ফোরামের যুগ্ম আহবায়ক সরকার আল ইমরান প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি না করে পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে অন্তঃসারশূণ্য করেছে। শতভাগ পাসের পরিসংখ্যান তৈরি করতে গিয়ে প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে লাগামহীনভাবে উসকে দিচ্ছেন। শিশুদের নৈতিকতা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাখাতে ঘুষের পসরা সাজানো হচ্ছে। ফলে শিক্ষা ব্যবস্থায় ভয়াবহ নৈরাজ্যিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই অবস্থায় শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার নৈতিক ভিত্তি হারিয়ে ফেলেছে। অবিলম্বে তাকে পদত্যাগ করতে হবে।’
 
তিনি বলেন, ‘প্রশ্নফাঁস কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার চরম অসাড়তার ফল। বিগত দিনেও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটছে। প্রশাসনের ঘুষ দুর্নীতির কারণেই এই ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত।  প্রশাসনের উর্ধ্বতন ব্যাক্তিবর্গ প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত। উর্ধ্বতন ব্যাক্তিরা জড়িত না থাকলে কেউ ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস করতে পারবে না। প্রশ্নফাঁস হওয়ার পরে ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্ন ফাঁসকারীদের শাস্তি হয় কিন্তু রাঘব বোয়ালরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়। প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে কিনা এটা সম্পূর্ণ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রধান দায় প্রত্যেকটি পাবলিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। পাশাপাশি প্রধান কর্তা ব্যাক্তি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রীকেও নিতে হবে।’

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে
close