রুয়েটে ফের ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৬

  রাবি প্রতিনিধি

০৯ মার্চ ২০১৮, ১৭:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

পূর্ব শত্রুতার জের ধরে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট)  ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ছয় নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আব্দুল হামিদ হলে ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে রুয়েট ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

আহতরা হলেন- রুয়েট ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আবিদ হাসান মিতুল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাফি, প্রচার সম্পাদক মাহাথির, ক্রীড়া সম্পাদক রবিন, ছাত্রলীগকর্মী ইমরান ও রাহাত। এদের মধ্যে রাহাত রুয়েট ছাত্রলীগ সভাপতি নাইম রহমান নিবিড়ের অনুসারী। বাকিরা সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাহফুজুর রহমান তপুর অনুসারী। আহতরা বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সভাপতির অনুসারী বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী রুয়েটের হামিদ হলে যায়। খবর পেয়ে সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীরাও অস্ত্র নিয়ে প্রস্তুতি নেয়। হলে পৌছানোর কিছুক্ষণ পরেই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় দেড় ঘন্টা চলা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে গুরুতর আহত ছয়জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল বিকেল থেকেই দুই পক্ষের শতাধিক নেতাকর্মী ক্যাম্পাসে শোডাউন দিলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধা নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যার সময়ও দুই পক্ষ স্থানীয় বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে শোডাউন দেন। মধ্যরাতে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণও ঘটে বলে জানা যায়।

এর আগে র্যাটগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত ২৩ জানুয়ারি রাতে সভাপতি গ্রুপের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীরা। এতে সভাপতি গ্রুপের ১১জন নেতাকর্মী আহত হয়। ওই ঘটনার জেরে সভাপতি গ্রুপের নেতাকর্মীরা সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীদের ওপর অতর্কিত এ হামলা চালায়।

এ বিষয়ে রুয়েট ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈম রহমান নিবিড় বলেন, ‘ভুল বোঝাবুঝির জায়গা থেকে এ ঘটনা ঘটেছে। আমরা বিষয়টি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি।’

রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাদাত হোসাইন বলেন, ‘ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে মারামারি হয়েছে। অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’ বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান ওসি।

এদিকে সংঘর্ষের ঘটনায় রুয়েট ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈম রহমান নিবিড় ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাহফুজুর রহমান তপুর বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে না, আগামী আটচল্লিশ ঘন্টার মধ্যে তার কারণ দর্শাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ওইদিন রাত দেড়টার দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে