জাবিতে আ.লীগপন্থী শিক্ষকদের হাতাহাতি

  অনলাইন ডেস্ক

১৭ এপ্রিল ২০১৮, ১৫:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতিতে পাঁচজন শিক্ষক লাঞ্ছিত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশমাইল পরিবহন ডিপোতে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবিরের অনুসারী শিক্ষকদের সঙ্গে বর্তমান উপাচার্য ফারজানা ইসলামের সমর্থক শিক্ষকদের মধ্যে এ হাতাহাতি হয়। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট-১৯৭৩, স্ট্যাটিউট ও সিন্ডিকেট পরিচালনা বিধি লঙ্ঘন করে নয়টি হলের প্রাধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে উপাচার্য ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে সাবেক উপাচার্য শরীফ এনামুলের সমর্থক শিক্ষকরা ধর্মঘটের ডাক দেন। ধর্মঘটের অংশ হিসেবে আজ ভোর ৫টার দিকে তারা পরিবহন ডিপোর ফটকে তালা ঝুঁলিয়ে সেখানে অবস্থান নেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের অনুসারী শিক্ষকরা সেখানে উপস্থিত হলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শরীফ এনামুলের সমর্থক শিক্ষকরা গাড়ি আটকাতে গেলে অপর পক্ষের শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। 

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক শাহেদুর রশিদ বলেন, ‘উপাচার্যের অবৈধ নিয়োগের প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ ধর্মঘট পালন করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডিসহ উপাচার্যের সমর্থক অন্তত ২৫ শিক্ষক এসে আমাদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালান। এতে পাঁচজন শিক্ষক লাঞ্ছিত হন।’

পরে সকাল ৮টার দিকে শরীফ এনামুলের সমর্থক অন্তত ৪০ জন শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে ধর্মঘট পালন করেন। এ সময় উপাচার্য ফারজানা ইসলাম প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে তাদের অবস্থান ধর্মঘট সরিয়ে নিতে বললে শিক্ষকরা অস্বীকৃতি জানান। এতে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম বলেন, নয়টি হলের প্রধ্যক্ষরা প্রশাসনিক কাজ বন্ধ রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। তাই তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অবস্থানরত শিক্ষকদের সরিয়ে দিতে উপাচার্য ব্যর্থ হলে তার অনুসারী শিক্ষকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রাখার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেন।

এদিকে লাঞ্ছনার ঘটনার বিচার দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষকরা। তারা প্রক্টরিয়াল বডির অপসারণ ও শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনার বিচার করতে উপাচার্যকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সময় বেধে দেন। অন্যথায় তারা উপাচার্যের পদত্যাগের একদফা আন্দোলনে যাবেন বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে