আজ কোটার প্রজ্ঞাপন না হলে কাল থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন

  বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

১৩ মে ২০১৮, ১৮:৫৩ | আপডেট : ১৩ মে ২০১৮, ২০:২৪ | অনলাইন সংস্করণ

ছবি : ফোকাস বাংলা
সরকারি চাকরিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোটা বাতিলের ঘোষণা অতি দ্রুত প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করার দাবি জানিয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্লাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। আজ রোববারের মধ্যে এ প্রজ্ঞাপন জারি না হলে আগামীকাল সোমবার থেকে দেশের সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা। 

আজ দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশ থেকে এ ঘোষণা দেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন।

হাসান আল মামুন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে কোটা বাতিলের ঘোষণা দিলেও এখন পর্যন্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। আজকের মধ্যে যদি প্রজ্ঞাপন জারি না হয় তবে আগামীকাল সকাল ১০টা থেকে ছাত্রসমাজ ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করবে। যদি প্রজ্ঞাপন জারি হয়, তবে আমাদের পাঁচ দফার আলোকেই হতে হবে।’

যুগ্ম-আহ্বায়ক ফারুক হাসান বলেন, ‘সম্প্রতি দেশের পাঁচ জেলার নাম এক সপ্তাহের মধ্যে পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর দীর্ঘ ৩২দিন পার হলেও এখনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। আজকের মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি না হলে আগামীকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করা হবে।’

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ দেশের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা। কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাবি এলাকায় বেলা সাড়ে ১১টায় একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে মধুর ক্যান্টিন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, বিজয় একাত্তর হল, বসুনিয়া চত্বর, উপাচার্য চত্বর, শহীদ মিনার হয়ে কার্জন হলের দিকে যায়। তার পর কার্জন হল ঘুরে হাইকোর্ট মোড়ে গেলে বৃষ্টি শুরু হয়। তবে বৃষ্টি উপেক্ষা করে তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যান। বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে শাহবাগ হয়ে টিএসসি প্রাঙ্গণে এসে তাদের বিক্ষোভ মিছিল শেষ হয়। 

মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘আর নয় কাল ক্ষেপন, দিতে হবে প্রজ্ঞাপন’, ‘শেখ হাসিনার ঘোষণা, বাস্তবায়ন করতে হবে’ এসব স্লোগান দিতে থাকেন।

গত ৮ এপ্রিল শাহবাগ অবরোধ করে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। পুলিশ তাদের উঠিয়ে দিলে রাতভর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। ওই রাতে ঢাবি উপাচার্যের বাসভবনে অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও তাণ্ডব চালায় দুর্বৃত্তরা। 

পক্ষে-বিপক্ষে সংসদ ও দেশব্যাপী তুমুল আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী সংসদে ঘোষণা দেন, চাকরিতে আর কোটাই থাকবে না। কোটা বাতিলের ঘোষণার পর আন্দোলনকারীরা ক্যাম্পাসে আনন্দ মিছিল করে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘মাদার অব এডুকেশন’ উপাধিতে ভূষিত করে। এর পর তারা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছে। 

গত ৯ এপ্রিল বুধবার ঢাবিতে মানববন্ধন থেকে গত বৃহস্পতিবারের মধ্যে প্রজ্ঞাপনের দাবি জানান। অন্যথায় আজ থেকে তারা ফের আন্দোলনের নামবেন বলে ঘোষণা দেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কোটা সংস্কারে কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাঠায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কমিটি গঠনের এ উদ্যোগকে আন্দোলন ভণ্ডলের ষড়যন্ত্র আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেন আন্দোলনকারীরা।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে