আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার দাবি

  বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

০৪ জুন ২০১৮, ২১:২১ | অনলাইন সংস্করণ

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত জাতিগত নিধনকে গণহত্যা আখ্যায়িত করে এর জন্য মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) মাধ্যমে বিচার দাবি করেছেন দেশী ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

আজ  সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত ‘জবাবদিহিতা : আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও রোহিঙ্গা সংকট’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে তারা এ দাবি জানান তারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ, একশন এইড বাংলাদেশ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস এন্ড জাস্টিস যৌথভবে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারে সংঘটিত জাতিগত নিধনযজ্ঞের বিভিন্ন দিক উঠে আসে। আলোচকরা মনে করেন, মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী রোহিঙ্গাদের উপর যে নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তার তদন্ত ও বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) মাধ্যমে করা সম্ভব।

এ বিচার নিশ্চিত হলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও ‘গণহত্যা’র বিষয়ে মিয়ানমারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা যাবে। সেক্ষেত্রে আগামী ১১ জুনের মধ্যে বাংলাদেশের কাছে আইসিসি যে তথ্য চেয়েছ তা দেয়া উচিত বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

মিয়ানমারে সংঘটিত গণহত্যাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সাবেক প্রসিকিউটর কেট ভিগনেসওয়ারেন বলেন, ‘হত্যা ও নিপীড়নের পরেই মানুষ বাংলাদেশে আসতে বাধ্য হয়েছে। তাই এক্ষেত্রে আইসিসি ভৌগলিক বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। রোম বিধি ধারা-১২ অনুযায়ী মিয়ানমারকে বিচারের আওতায় আনা সম্ভব। এছাড়া যেহেতু মিয়ানমার হত্যা ও ধর্ষণের মত মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত,তাই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব।'

সেমিনারে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ফিলিপ রুডক বলেন, ‘মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর পরিচালিত পরিকল্পিত নিধনযজ্ঞকে গণহত্যা বলার মতো যথেষ্ট তথ্য ও প্রমাণ আছে। তাই মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে। এজন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদসহ সকলকে একসঙ্গে কাজ করা খুবই জরুরী।’

সেমিনারে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের (হাইকোর্ট বিভাগ) বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বাংলাদেশের কাছে যে তথ্য-প্রমাণ চেয়েছে সেগুলো দেয়া উচিত। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মূল ভিত্তি ‘রোম বিধি’ অনুযায়ী আইসিসি চাইলে মিয়ানমার যে নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে তার তদন্ত করতে পারে। মিযানমারে অনেক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। সাত লাখেরও বেশি মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। যার মধ্যে অর্ধেকই শিশু।’

সৈয়দ রেফাত আহমেদ আরও বলেন, ‘মিয়ানমারে যে মানবতা বিরোধী অপরাধগুলো সংঘটিত হয়েছে আইসিসি চাইলে তা আমলে নিয়ে তাদের বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। এই অপরাধের যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ আছে।’

আলোচনার সমাপনী বক্তব্যে একশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ্ কবির বলেন, ‘মিয়ানমারকে যতক্ষণ পর্যন্ত আইনি বাধ্যবাধকতার আওতায় আনা না যায়, ততক্ষণ তারা বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের ফেরত নেবে না। সে কারণে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও জাতিসংঘকে উদ্যোগী হয়ে মিয়ারমারকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে