গাঁজা খাওয়ার অনুমতি চাওয়া ছাত্রের বিরুদ্ধে এবার যৌন হয়রানির অভিযোগ

  জাবি প্রতিনিধি

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:০৩ | আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৬:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

কিশোর কুমার দাস। ছবি : সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন এক ছাত্রী। হয়রানির বিচার চেয়ে গতকাল সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলে লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই ছাত্রী।

যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠা ওই ছাত্র এর আগে বিভাগের সভাপতি বরাবর গাঁজা সেবনের অনুমতি চেয়ে লিখিত আবেদন করেছিল। 

ওই ছাত্রের নাম কিশোর কুমার দাস। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ৪১তম ব্যাচের ছাত্র।

পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, ‘ওই ছেলে মাদকাসক্ত। এর আগে আমার কাছে গাঁজা খাওয়ার অনুমতি চেয়ে লিখিত আবেদন করেছিল। সে আবেদনে উল্লেখ করেছিল, গাঁজা নাকি খুব ভালো জিনিস।’

যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ ওই ছাত্রী উল্লেখ করেন, ‘কিশোর কুমার দাস রোববার দুপুরে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ছাদে আমাকে যৌন হয়রানিমূলক অশালীন মন্তব্য করে। এই ঘটনায় প্রতিবাদ করলে আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। এই অবস্থায় আমি বিভাগে যাতায়াতের ক্ষেত্রে অনিরাপদ বোধ করছি। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

ওই ছাত্রীকে অশালিন মন্তব্য করার পর ছাত্রীর সহপাঠীরা কিশোর কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে তিনি কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে তাদের মারতে আসেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাকে গণপিঠুনি দেন। পরে বিভাগের শিক্ষকরা তাকে উদ্ধার করেন।

এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কিশোর কুমারের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে তার সহপাঠীরা জানান, মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে। ওই ছাত্রীর সঙ্গে কথা বলার সময়ও মাদকাসক্ত ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, ‘তাকে (কিশোর কুমার) আমরা পরীক্ষার হল থেকে গাঁজাসহ ধরে প্রক্টরিয়াল অফিসে নিয়ে আসি। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, গাঁজা খুবই উপকারী জিনিস, গাঁজা খেলে আমার পরীক্ষা ভালো হয়। তাই আমাকে গাঁজা খাওয়ার অনুমতি দিন নতুবা আমাকে শাস্তি দিন। এতে আমরা তার মানসিক ভারসাম্যহীনতা বুঝতে পেরেছি। তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে