শিক্ষিকা হাসনা হেনার মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত অনশন

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ১০:৪২ | অনলাইন সংস্করণ

রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার শিক্ষক হাসনা হেনার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে একদল শিক্ষার্থী। আজ রোববার সকালে ওই শিক্ষককে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত অনশনের ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

এর আগে সকাল ৮টা থেকেই স্কুলের সামনে হাজির হন দশম ও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। ক্লাস বর্জন করে শিক্ষিকা হাসনা হেনার মুক্তির দাবি করছেন তারা। তাদের এ আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন বেশ কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থীও।

শিক্ষার্থীদের দাবি, শিক্ষিকা হাসনা হেনার দ্রুত মুক্তি। একই সঙ্গে অরিত্রিকে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকদের ব্যাপারেও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা।  

তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে, বিক্ষোভের কারণে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষায় কোনো ব্যাঘাত ঘটছে না।

এর আগে গতকাল শনিবার বেলা ১১টার দিকে বেইলি রোডে প্রতিষ্ঠানের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষক হাসনা হেনার মুক্তির দাবিতে নানা ধরনের স্লোগান দিতে দেখা গেছে আন্দোলনকারীদের। গতকাল শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, শিক্ষক হাসনা হেনাকে মুক্তি না দিলে রোববার থেকে ক্লাস বর্জন করা হবে। একই দাবিতে গত শুক্রবারও বিক্ষোভ হয়েছে।

গত রোববার পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল অরিত্রি অধিকারী (১৫)। ফোনে নকল থাকার অভিযোগ তুলে তাকে পরীক্ষা থেকে বহিষ্কার করা হয়।  এর পর ওই ছাত্রীর মা-বাবাকে ডেকে পাঠায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। সোমবার সকালে তারা স্কুলে যান এবং মেয়ের হয়ে দফায় দফায় ক্ষমা চান। কিন্তু এর পরও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তাদের অপমান করেন এবং স্কুল থেকে অরিত্রি অধিকারীকে ছাড়পত্র দেওয়ার ঘোষণা দেন।

নিজের সামনে বাবা-মায়ের এমন অপমান সইতে না পেরে ওইদিন দুপুরে শান্তিনগরের বাসায় ফিরে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে ওই ছাত্রী।  ওই ঘটনার জেরে মঙ্গলবার শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠে বেইলি রোডে ভিকারুননিসার ক্যাম্পাস।

মঙ্গলবার রাতে অরিত্রির আত্মহত্যার ঘটনায় পল্টন থানায় ওই মামলা করেন তার বাবা। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে হওয়া মামলায় শিক্ষা ভিকারুননিসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতি শাখার প্রধান জিনাত আখতার এবং শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনাকে আসামি করা হয়।

বুধবারও চলে আন্দোলন।  এ সময় অধ্যক্ষের পদত্যাগ ও তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচণার দায়ে শাস্তিসহ ছয় দফা দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা।  বিকেলে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেয় তারা। পরে সন্ধ্যায় ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির এক জরুরি সভায় ওই তিনজনকে বহিষ্কার করা হয়।

এদিন দুপুরে অরিত্রির আত্মহত্যার ঘটনায় গঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের সারাংশ তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এতে বলা হয়, অভিযুক্তরা মানসিকভাবে অরিত্রিকে বিপর্যস্ত করে তোলে এবং তাকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করে। এ জন্য কমিটি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলেছে।

এর মধ্যে বুধবার রাতেই রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেফতার করা হয় শিক্ষক হাসনা হেনাকে। বৃহস্পতিবার তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে