শিক্ষকদের ‘চাকরিচ্যুতির’ প্রতিবাদে স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বিক্ষোভ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৮:৫৭ | আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:০৪ | অনলাইন সংস্করণ

ছবি : আমাদের সময়

স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এসইউবি) কয়েকজন শিক্ষককে ‘চাকরি ছাড়তে বাধ্য’ করার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিতে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ফারহানা শারমিনের পদত্যাগসহ ১১ দফা দাবি তুলে ধরেন তারা।

আজ রোববার রাজধানীর কলাবাগানে অবস্থিত বিজয় ক্যাম্পাসে সকাল থেকে অবস্থান করে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন বিভাগের কয়েক’ শ শিক্ষার্থী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী দৈনিক আমাদের সময় অনলাইনকে বলেন, ‘বোর্ড অব ট্রাস্টিজের অযাচিত বিভিন্ন হস্তক্ষেপের কারণে অনেক শিক্ষকের চাকরি চলে গেছে। তাই এবার আন্দোলনে নামতে বাধ্য হলাম আমরা। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের দাবি মেনে নেওয়া হবে না,ততক্ষণ আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে অবরুদ্ধ করে রাখব।’

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আগেও আমরা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলনে নেমেছি, তখনও কর্তৃপক্ষ শুধু আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু এবার আর কোনো আশ্বাস নয়, সরাসরি আমাদের দাবিগুলোর বাস্তবায়ন চাই।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত এক মাসে বিভিন্ন বিভাগের মোট সাতজন শিক্ষককে নানা কারণ দেখিয়ে চাকরি ছেড়ে দিতে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারা হলেন- এসইউবির উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ, ব্যবসা শিক্ষা বিভাগের উপদেষ্টা অধ্যাপক মহব্বত আলী,একই বিভাগের প্রভাষক এজাজ জামান, জাবের আল ইসলাম,প্রভাষক ও সহকারী প্রক্টর হাবিবা কিবরিয়া, স্থাপত্য বিভাগের প্রধান সাজ্জাদ কবির, স্থাপত্য বিভাগের প্রভাষক মিজান।

এর মধ্যে অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বাকি বেশ কয়েকজন শিক্ষক আমাদের সময়কে জানিয়েছেন, চাপে পড়ে পদত্যাগপত্র জমা দিতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

স্থাপত্য বিভাগের প্রধান সাজ্জাদ কবির বলেন,‘ইউনিভার্সিটি কোনো কারণ ছাড়াই হয়তো সাশ্রয়ের কারণে এটি করে থাকতে পারেন। তারা আসলে কোনো রিজন (কারণ) দেখাচ্ছেন না।’

সরাসরি চাকরিচ্যুত করা হয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে সাজ্জাদ কবি বলেন,‘তারা আমাদের রেজিগনেশন (পদত্যাগ) দিতে বলেন। সে মোতাবেক আমরা রেজিগনেশন লেটার সাবমিট করি।’

ব্যবসা শিক্ষা বিভাগের উপদেষ্টা ড. মহব্বত আলী,‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। অন্য কোথাও ক্লাস নিতে হলে আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট থেকে অনুমতি নিতে হয়। আমাকে তিন বছরের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আমার জাস্ট দুই বছর কমপ্লিট হলো।’

ড. মহব্বত আলী বলেন, ‘আমাকে অপসরণ করা হয়েছে এমন কোনো কিছু রিটেন (লিখিত) দেয়নি। তবে স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলের আমাকে জানালো যে, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রেসিডেন্ট চান আপনি যদি না থাকেন তাহলে ভালো হয়। আমি পরে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রেসিডেন্টকে এ বিষয়ে জানতে ম্যাসেজ পাঠালে তিনি কোনো উত্তর দেননি। যখন দেখলাম এই জিনিসটি ঘটবে, তখন আমি নিজে থেকেই রেজিগনেশন দেওয়ার কথা জানাই। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ খরচ কমানোর কথা প্রায় বলে থাকেন। এটাও কারণ হতে পারে। তবে আমার জানা নেই সঠিক।’

শিক্ষকদের চাকরি ছাড়তে বলার কারণ নিয়ে এসইউবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. মো. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

একই বিষয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার ফারহানা শারমিনের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলে ‘মিটিংয়ে ব্যস্ত আছি’ বলে ফোন রেখে দেন।

এদিকে সমস্যা সমাধানে বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীরা। বৈঠকে উপ-উপাচর্য অধ্যাপক ড.আনোয়ারুল কবির অভিযোগের তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে আন্দোলন বন্ধ করেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের ১১ দফা দাবি হলো-

১. চাকরিচ্যুত সকল শিক্ষকদের সম্মানে স্বপদে বহাল রাখতে হবে।

২. বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজকে স্বপদে বহাল করতে হবে।

৩. বিনা নোটিশে বা ইউজিসির আইনের বাইরে গিয়ে কোনো শিক্ষককে অপসারণ করা যাবে না।

৪. বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ফারহানাকে অপসারণ করতে হবে।

৫. বোর্ড অব ট্রাস্টিজের দ্বারা কোনো শিক্ষকের সঙ্গে খারাপ ভাষায় (কুরুচিপূর্ণ) কথা বলা যাবে না।

৬. সেমিস্টারের টিউশন ফি কমাতে হবে।

৭. সকল জরিমানা সম্পূর্ণরূপে মওকুফ করতে হবে।

৮. বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘নতুন কিছু ডটকম’ আবার চালু করতে হবে।

৯. লাইব্রেরিতে আধুনিক বইসহ সকল সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে।

১০. ক্যান্টিনের খাবারের মান আরও বাড়াতে হবে। দাম কমাতে হবে,খাবারের আইটেম বাড়াতে হবে।

১১.আন্দোলনরত কোনো শিক্ষার্থীর ওপর একাডেমিক, শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার করা যাবে না।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে