যৌন হয়রানির অভিযোগকারী শাবি ছাত্রী বহিষ্কার

  শাবি প্রতিনিধি

১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:১০ | আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৯:৩৯ | অনলাইন সংস্করণ

ছাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনার প্রমাণ পেয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক প্লাবন চন্দ্র সাহাকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। পাশাপাশি যৌন হয়রানির শিকার ওই ছাত্রীকেও দুই বছরের জন্য বহিস্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

গতকাল শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১১তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে নিশ্চিত করেন সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. মস্তাবুর রহমান।

একই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত দুই পক্ষকেই শাস্তি দেওয়ায় ঘটনাটিকে ‘নজিরহীন’ সিদ্ধান্ত বলে আখ্যায়িত করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাদের অনেকেই বলছেন, যৌন নিপীড়নের শিকার অভিযোগকারী ওই ছাত্রীকে বহিস্কার করা কোনোভাবেই উচিত হয়নি। ভবিষ্যতে কোনো ছাত্রী যৌন নিপীড়নের শিকার হলে অভিযোগ করতে ভয় পাবেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিন্ডিকেট সদস্য বলেন, ঘটনার সঙ্গে ওই ছাত্রীর সম্পৃক্ততা থাকায় সিন্ডিকেট এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চুলচেরা বিশ্লেষণ করে সিন্ডিকেটে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, এ বছর এপ্রিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত একটি বিভাগের এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলেন সহকারী অধ্যাপক প্লাবন চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে। প্লাবন সাহা ওই সময় সহকারী প্রক্টরের দায়িত্বে ছিলেন। গত সেপ্টেম্বরে প্লাবন সাহার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন যৌন হয়রানির শিকার ওই ছাত্রী। ওই অভিযোগের পর গত ১৫ অক্টোবর ২১০তম সিন্ডিকেট সভায় সহকারী প্রক্টরের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় প্লাবন সাহাকে। এরপর যৌন হয়রানির অভিযোগটি তদন্ত করে ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ সেল’। তদন্তে উঠে আসে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধের অভিযোগের সত্যতা। পরে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার একটি সুপারিশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পাঠায় তদন্তকারী দলের সদস্যরা। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১১তম সিন্ডিকেটে ওই শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়। একই সিন্ডিকেটে ওই ছাত্রীকে দুই বছরের জন্য বহিস্কার করা হয়।

প্লাবন চন্দ্র সাহা

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধের আচরণবিধি-২০১০-এর ৫.৩ ধারার ২ উপ-ধারার ‘চ’ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘যদি প্রমাণিত হয় যে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কেউ সাজানো অভিযোগ উত্থাপন করেছেন, তাহলে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তি যে শাস্তি ভোগ করতেন মিথ্যা অভিযোগকারীর বেলায় অনুরূপ শাস্তির সুপারিশ করে সংশ্লিষ্ট কমিটি কর্তৃপক্ষের নিকট রিপোর্ট জমা দিবে। বিশ্ববিদ্যালয় উক্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান এবং যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ সেলের সভাপতি অধ্যাপক ড. নাজিয়া চৌধুরী বলেন, ‘সিন্ডিকেটের এই সিদ্ধান্ত শুনে আমি স্তম্ভিত। ছাত্রীকে দেওয়া এই শাস্তি অপরাধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এটা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত। তাকে সর্বোচ্চ সতর্ক করা যেত বলে আমি মনে করি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘সংক্ষুব্ধ যেকেউ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল করতে পারবেন। তবে যৌন নিপীড়নের শিকার ওই ছাত্রীর ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে