ঢাবি ছাত্রীকে ‘তুলে নেওয়ার চেষ্টা’, সাবেক ছাত্রলীগ নেতার বিচার দাবি

  বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:১২ | আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, ১৬:৩৫ | অনলাইন সংস্করণ

ছবি : আমাদের সময়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের তৃতীয় বর্ষের  ছাত্রী সিথী কিবরিয়াকে তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে জড়িত সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে আটক ও উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে শিক্ষার্থী এ দাবি জানান।

জানা যায়, গত ২ জানুয়ারি বিকেলে লালমনিরহাটে 'আমরাই পারি' নামে একটি সংগঠনের অনুষ্ঠান শেষে হাতীবান্ধা তিস্তা ব্যারাজ থেকে মাইক্রোবাসে সহপাঠীদের নিয়ে বাসায় ফিরছিলেন ঢাবি ছাত্রী সিথী কিবরিয়া। সেখানে হাতীবান্ধা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তফিউজ্জামান ও তার সঙ্গীরা ওঁৎ পেতে ছিলেন। একপর্যায়ে ছাত্রীকে একটি মাইক্রোবাসে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তারা। এ সময় ছাত্রীর চিৎকারে পথচারীরা ছুটে এসে মাইক্রোবাসের সামনে দাঁড়ালে চালক গাড়ি থামাতে বাধ্য হন। এরপর ওই ছাত্রী গাড়ি থেকে বাইরে বের হয়ে আসেন এবং উপস্থিত লোকজন তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। পরে অপহরণকারীরা দ্রুত পালিয়ে যান। তফিউজ্জামান প্রায় দুই বছর ধরে ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাবের পাশাপাশি উত্ত্যক্ত করে আসছিল। কিন্তু ছাত্রীর পরিবার তার ওই প্রস্তাবে রাজি হয়নি।

এ ঘটনায় হাতিবান্ধা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তফিউজ্জামান জুয়েলকে প্রধান আসামি করে হাতিবান্ধা থানায় মামলা দায়ের করেছেন ওই শিক্ষার্থীর মা মাসুদা আখতার।

মানববন্ধনে মো. গোলাম আজাদ বলেন, সিথী কিবরিয়া আমাদের বিভাগের প্রথম স্থান অর্জনকারী ছাত্রী। তার মতো একজন মেধাবী ছাত্রীর নিরাপত্তা যদি রাষ্ট্রও দিতে না পারে তখন আমরা বাধ্য হই রাস্তায় নেমে আসতে। আইন যদি আমাদের সহযোগিতা না করে সেক্ষেত্রে রাষ্ট্র আমাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। যতদিন পর্যন্ত না আমরা এর বিচার পাবো ততোদিন পর্যন্ত সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিবাদী কন্ঠ বন্ধ করবে না।

মো. গোলাম আজাদ বলেন, সিথী কিবরিয়া বাংলাদেশের প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীর একটি প্রতীক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তাদের কাছে আমাদের আকুল আবেদন আপনারা দোষীদের বিচার করুন। না হলে সিথী কিবরিয়াদের সংখ্যা দিন দিন বাড়বে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র তানভীর হাসান সৈকত বলেন, সিথিকে অপহরণের যে চেষ্টা করা হয়েছে সেটা কিন্তু ধর্ষণের চেষ্টা। এভাবেই কিন্তু ধর্ষণ হয়। আমরা ধর্ষণের প্রতিবাদ করি কিন্তু ধর্ষণ করার যে প্রক্রিয়া চালানো হয় তার প্রতিবাদ করি না। আমরা কেমন মানুষ? কীভাবে দুষ্কৃতিকারীরা আমাদের মধ্যে ঠিকে থাকে? কীভাবে তারা অন্যায় করে পার পেয়ে যায়? আমরা চাই এই পাপিরা যারা সমাজের নিকৃষ্টতম মানুষ তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে সমাজকে জানিয়ে দেওয়া যে, এই সমাজে এদের কোনো ঠাঁই নেই।

মানববন্ধনে সিথী কিবরিয়ার বড় ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা বিষয়ক উপসম্পাদক মাসুদ আল ইসলাম বলেন, গত ২ জানুয়ারি আমার বোনকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়। আমরা মামলা করতে গেলে পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করেনি। তারা মামলা নিতে গড়িমসি করে এবং এর মধ্যে মামলার যে মূল আসামি তফিউজ্জামান জুয়েলসহ অন্যরা গা ঢাকা দেয়।

মাসুম আল ইসলাম বলেন, অপরাধীরা সবাই ক্ষমতাসীন দলের লোক, সেটা তাদের বড় পরিচর নয়। যারা অপরাধ করে তাদের কোনো দল নেই, তাদের কোনো ধর্ম নেই, তাদের কোনো জাত নেই। তারা যে দল ক্ষমতায় আসে সে দলের ব্যানারকে কাজে লাগিয়ে অপরাধ করার পায়তারা করে থাকে। আমার বোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে কিন্তু যারা গ্রাম-মফস্বল শহরে আছেন তাদের দাবি তো এ পর্যন্ত আসতে পারে না, তাদের আওয়াজ তো আমরা শুনতে পাই না। আমার বোন যেখানে নিরাপদ নয় সেখানে আমার অন্যান্য বোনেরা কীভাবে নিরাপধ? আমি এর সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই এবং এর সঙ্গে জড়িত তফিউজ্জামান জুয়েলের বিভাগীয় শাস্তির দাবি জানাই।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে