ঢাবিতে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষ

  বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:৫৪ | অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টার দা সূর্যসেন হলে ছাত্রলীগের দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হলের কক্ষ দখলকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর হলের আবাসিক শিক্ষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে হল প্রশাসন।

সংঘর্ষে জড়ানো পক্ষ দুটি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইনের হল শাখার অনুসারী বলে জানা যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন ছাত্র জানান, মঙ্গলবার মধ্যরাতে সূর্যসেন হলের ২০৭ নম্বর কক্ষটি নিয়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। কক্ষটি এতদিন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হকের অনুসারীদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ওই কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসাইনের হল শাখার অনুসারীরা তাদের কর্মীদের ওঠানোর চেষ্টা করলে এ নিয়ে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। পরে সাদ্দাম হোসাইনের অনুসারীরা হলের অতিথিকক্ষে আর রেজওয়ানুল হকের অনুসারীরা দোকানের সামনে জড়ো হন।

জড়ো হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই পক্ষের সংঘর্ষ শুরু হয়। উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে পরস্পরের ওপর চড়াও হন। আধা ঘণ্টা ধরে এই সংঘর্ষ চলে। তবে গুরুতর আহত কেউ হননি। পরে রেজওয়ানুল হক ও সাদ্দাম হোসাইনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

সূর্যসেন হল শাখা ছাত্রলীগ সূত্রে জানা গেছে, সূর্যসেন হলে সাদ্দাম হোসাইনের অনুসারীরা হল শাখা ছাত্রলীগের সংস্কৃতিবিষয়ক উপসম্পাদক সিয়াম রহমান এবং রেজওয়ানুল হকের অনুসারীরা ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খ. ম. মুহতাসিম মাহমুদ হাসিবের সঙ্গে রাজনীতি করেন। এই দুই পক্ষের মধ্যেই গতকাল রাতে কথা-কাটাকাটি ও সংঘর্ষ হয়।

ঘটনার পর ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন জানান, তিনি এখনো ঘটনাটি ভালোভাবে জানেন না। আজ বুধবার সকালে তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রুপিং এর কিছু নেই উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন আমাদের সময়কে বলেন, ‘ছাত্রলীগে আমার বা কারো অনুসারী নেই। ছাত্রলীগে যারা আছে তারা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী। এখন এদের মধ্যে যদি কোনো ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। আমি চাই না ছাত্রলীগের নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ হোক এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের জীবন অনিরাপদ হোক। এ ধরণের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত আছে তাদের ছাত্রলীগ করার কোনো অধিকার নেই।’

ঘটনার বিষয়ে সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আমিও ছিলাম। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি করে দিয়েছি। যারা বিবাদে লিপ্ত হয়েছিল, তাদের ডেকে নিয়ে তাদের বক্তব্য শুনছি। কমিটি আজ প্রতিবেদন দেবে। প্রতিবেদন দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে