জবির ১১ শিক্ষার্থীকে রাতভর নির্যাতন, ৩ পুলিশ ক্লোজড

  জবি প্রতিবেদক

০৯ জানুয়ারি ২০১৯, ২১:৪৫ | আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:২৬ | অনলাইন সংস্করণ

চাঁদা না দেওয়ায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ শিক্ষার্থীকে থানায় নিয়ে রাতভর নির্য়াতনের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বুধরার সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সদরঘাট-গুলিস্তান সড়কের রায়সাহেব বাজার চাররাস্তার মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তাদের সহপাঠীরা।

বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, গতকাল মঙ্গলবার রাত ১টায় ওয়ারি থানাল সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নজরুল ইসলাম ও তার দলের নেতৃত্বে এ নির্যাতন চালানো হয়। আজ বুধবার সকাল ৭টায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিন পুলিশকে সদস্যকে অব্যাহতি দেন ওয়ারি জোনের ডিসি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন। একইসঙ্গে ঘটনা তদন্তের জন্য এডিসি নুরুল আমিনকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিক এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীরা উপাচার্য বরাবর লিখিত আবেদন করেন।

জানা গেছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী মহিদুল ইসলাম ও অ্যাকাউন্টিং বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী নিক্সন ক্যাম্পাস থেকে বাসায় ফেরার সময় গোয়ালঘাট লেনে রাজধানীর ওয়ারী থানার এএসআই নজরুল ইসলাম তাদের সন্দেহমূলক তল্লাশি করেন। এ সময় তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী পরিচয় দিলে তাদেরকে ইয়াবা ও মাদকের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেন। এমনকি থানায় নিয়ে মাদক মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন।

ওই ছাত্রদের কাছে যথেষ্ট টাকা না থাকায় নজরুল ইসলাম তাদের সিনিয়র কাউকে টাকা নিয়ে আসার জন্য বলেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নয় জন শিক্ষার্থী খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

এ সময় তারা দুই শিক্ষার্থীকে আটক করার কারণ জানতে চাইলে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে এসআই আবদুল আওয়াল ও এএসআই নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে সবাইকে পুলিশের ভ্যানে উঠিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের থানায় বেধড়ক মারধর করা হয়।

শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে সকাল ৮টা থেকে শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ করেন। এ সময় সদরঘাট টু গুলিস্তান সড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসন আটক শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দেওয়ার ও অপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিলে অবরোধ তুলে ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন শিক্ষার্থীরা।

ওয়ারি জোনের এডিসি নুরুল আমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের কথা স্বীকার করে দু:খ প্রকাশ করে বলেন, ‘ওয়ারী জোনের ডিসি আমাকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। তদন্ত কমিটি পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেবেন। এ ছাড়া এ ঘটনায় ইতিমধ্যে ওয়ারি থানার ডিউটি অফিসার এসআই অপু, এসআই আবদুল আওয়াল ও এএসআই নজরুল ইসলামকে প্রাথমিকভাবে ক্লোজড করা হয়েছে।’

শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমনা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনো শিক্ষার্থীকে আটক করা বেআইনি। এ ছাড়া তাদের মারধর করা চরম অন্যায়। আমরা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নালিশ করেছি। বৃহস্পতিবার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ডিএমপি কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হবে।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে