ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধনে বৈঠক

  বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

১০ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:০৩ | আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০১৯, ১৪:৫৬ | অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন আয়োজনের অংশ হিসেবে এর গঠনতন্ত্র সংশোধনের লক্ষ্যে ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বৈঠক চলছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের লাউঞ্জে বৈঠকটি শুরু হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ডাকসুর গঠনন্ত্র বেশ আগে প্রণীত হয়েছিল। এর সর্বশেষ সংশোধন হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। গঠনতন্ত্র যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গঠনতন্ত্রের কোনো সংশোধনী প্রয়োজন হলে তা আজকের সভায় সিদ্ধান্ত হবে। এ ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্র যাদের ভোটার বলে চিহ্নিত করবে তারাই ভোটার হবে।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘আমাদের ভেতরে বাহিরে কাজ একই। সবকিছুই স্বচ্ছতার ভিত্তিতে হচ্ছে। ৩১ মার্চের মধ্যেই নির্বাচন করার প্রয়াস আছে আমাদের। সেভাবেই আমরা এগুচ্ছি।’ সহাবস্থানের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘প্রভোস্ট কমিটি সকল হলে সহাবস্থান আছে বলে অবহিত করেছেন। সকল শিক্ষার্থীই ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য কার্যাবলি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে করতে পারছে।’

বৈঠকে উপস্থিত আছেন- গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির আহ্বায়ক আইন বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান, সদস্য অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল, অধ্যাপক রহমত উল্লাহ, অধ্যাপক সুপ্রিয়া সাহা ও অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা।

ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাদের মধ্যে আছেন- ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন, ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মেহেদী তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দীকী, ছাত্রফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক তমা বর্মন, ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীরসহ ১৩ টি ছাত্র সংগঠনের নেতারা।

এবারের ডাকসু নির্বাচনে কারা প্রার্থী ও ভোটার হতে পারবেন তা নির্ধারণ হবে আজকের গঠনতন্ত্র সংশোধন-সংক্রান্ত বৈঠক। বর্তমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ও অনাবাসিক সব নিয়মিত শিক্ষার্থীই ডাকসুর সদস্য। তবে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সব আর্থিক প্রাপ্য পরিশোধ করতে হবে। অনিয়মিত শিক্ষার্থীরাও ডাকসুর সদস্য হতে পারেন, তবে তাদের ডাকসু নির্ধারিত নিবন্ধন ফি দিতে হয়।

গঠনতন্ত্রের ৪ ধারার ৩, ৪ ও ৫ উপধারায় আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদেরও নিবন্ধন ফির বিনিময়ে ডাকসুর সদস্য হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ প্রক্রিয়া দুই ধরনের- একটি হচ্ছে সাধারণ সদস্য, অন্যটি আজীবন সদস্য। ডাকসুর কার্যনির্বাহী সংসদ চাইলে দেশের যে কোনো বিশিষ্ট নাগরিককে আজীবন সদস্য ঘোষণা করতে পারে। ৪ ধারার ৬ উপধারায় বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রি-ডিগ্রি, বিএফএ, এমফিল ও পিএইচডি শিক্ষার্থীরা ভোটার হতে পারবেন; কিন্তু প্রার্থী হতে পারবেন না।

১৯৯১ সালের ১৭ জুন সিন্ডিকেটের সভায় একটি সংশোধনী আনা হয়। এতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা প্রিলিমিনারি, ইন্ডাস্ট্রিয়াল আর্টসের ডিগ্রি পাস কোর্স, বিএফএ, বিবিএ, ডিপ্লোমা, পরিসংখ্যান ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র সার্টিফিকেট কোর্সের শিক্ষার্থীরা ভোটার হতে পারবেন। কিন্তু এদের মধ্যে যারা কোনো কোর্সে শিক্ষাবিরতি দিয়ে পুনর্ভর্তি হয়েছেন বা ফি দেওয়ার সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে, তারা সে সুযোগ পাবেন না।

জানা যায়, ১৯৯০ সালের ৬ জুলাই ডাকসুর সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর আর ডাকসু নির্বাচন হয়নি। এ প্রেক্ষাপটে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্দেশনা চেয়ে ২০১২ সালের ২১ মার্চ হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন ঢাবির ২৫ শিক্ষার্থী। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৭ জানুয়ারি রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ছয় মাসের মধ্যে ঢাবি কর্তৃপক্ষকে ডাকসু নির্বাচনের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় ২০১৯ সালের ৩১ মার্চ ডাকসু নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এর পরও নির্বাচনের দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ঢাবি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গত সেপ্টেম্বরে আদালত অবমাননার আবেদন করেন রিটকারী আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

এ পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তখন থেকে ছয় মাসের মধ্যে, অর্থাৎ ১৫ মার্চের মধ্যে ডাকসু নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে মর্মে হাইকোর্টকে চিঠি দিয়ে আবেদন দাখিল করে। তখন হাইকোর্টের সংশ্নিষ্ট বেঞ্চ আদালত অবমাননার আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দেন। তবে এর পরও ১ অক্টোবর ঢাবি কর্তৃপক্ষ ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে।পরে ওই দিনই চেম্বার আদালত বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার আপিল বিভাগ ঢাবি কর্তৃপক্ষের আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার আদালতের দেওয়া আদেশ প্রত্যাহার করে নেন।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে