জবির বাসে হামলা, আহত ১০ শিক্ষার্থী

প্রকাশ | ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৮:৫৫ | আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:২৪

জবি প্রতিবেদক
হামলায় আহত শিক্ষার্থীদের কয়েকজন। ছবি : আমাদের সময়

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী বহনকারী বাসে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাস থেকে ফেরার পথে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নোঙর’ নামের একটি বাস ভাঙচুর ও শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় অন্তত ১০ জন শিক্ষার্থী ও এক শ্রমিক আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শিক্ষার্থী বহনকারী নারায়ণগঞ্জগামী বাসটি রূপগঞ্জ এলাকায় যানজটে আটকা পড়ে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটি যানজটে আটকা থাকলেও ‘জাপান বাংলাদেশ টেক্সটাইল’ নামক একটি গার্মেন্টসের কর্মীবাহী বাস উল্টো পথে যাত্রা শুরু করে। এতে বেশ কিছু শিক্ষার্থী বাস থেকে নেমে প্রতিবাদ জানান। এসময় শ্রমিক ও শিক্ষার্থীরা বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। এসময় শ্রমিকরা শিক্ষার্থীবাহী বাসের রিয়াজ নামের এক স্টাফকে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির ভেতরে নিয়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে দু’পক্ষের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির এক পর্যায়ে আরও সহকর্মী শ্রমিকদের নিয়ে ছাত্রদের ওপর হামলা চালান তারা। এসময় বাসের বাইরে থাকা ছাত্রদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বাসে থাকা মেয়ে শিক্ষার্থীদের ওপরেও হামলা চালায় শ্রমিকরা। এছাড়া বাসটি ভাঙচুর করেন শ্রমিকরা।

হামলায় আহত শিক্ষার্থীরা হলেন- প্রান্ত, রাহাদ, উজ্জ্বল, শান্ত, সৌরভ, উদিতা, শিমলাসহ অনেকে। তাদের স্থানীয় আবদুল মালেক হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঘটনার কিছু সময় পর পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে পুলিশ আসার পরেও শ্রমিকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটি আটকে রাখেন। পরে পুলিশের সহায়তায় রাত ৯টার দিকে বাসটি নারায়ণগঞ্জে নিয়ে আসা হয়।

ঘটনার সময় বাসে থাকা শিক্ষার্থী সাদিয়া রাহা আমাদের সময়কে বলেন, ‘আমাদের বাসের ছেলেরা একটি ন্যায়সম্মত কথা বলায় তারা আমাদের ওপর হামলা করেছে। তাদের আক্রমণ এতটাই হিংস্র ছিল যে এ থেকে মেয়েরাও রেহায় পায়নি।’

হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ জবির বাস। ছবি : আমাদের সময়

জবির প্রক্টর নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘আমাদের প্রক্টর অফিস ও পরিবহন পুলের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে যান এবং স্থানীয় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কারা এর সাথে সংশ্লিষ্ট তা বের করার চেষ্টা করছে।’

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ আব্দুল হক আমাদের সময়কে বলেন, ‘আমাদের কাছে দু’পক্ষেই অভিযোগ দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষতিপূরণ চেয়েছে।’