জাপায় কী হচ্ছে?

  মুহম্মদ আকবর

০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৯:৪০ | আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৫:০৮ | অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যানের দলীয় কার্যালয়। ভেতরে কেন্দ্রীয় বেশ কজন নেতা অবস্থান করছেন। বাইরে কয়েকশ নেতাকর্মী। তাদের অনেকেই ক্ষুব্ধ, উত্তেজিত। কারও নাম উল্লেখ না করেই তারা ‘ধর’ ‘ধর’ বলে সজোরে চিৎকার করছেন। ফাঁকে ফাঁকে চলছে স্লোগান- ‘আওয়ামী লীগের দালালেরা/ হুঁশিয়ার সাবধান।’

সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জাপায় বিরাজ করছে এক ধরনের অস্থিরতা। নেতাকর্মীরা ভাবছেন এক, ঘটছে আরেক; অপ্রত্যাশিতভাবে বদলে যাচ্ছে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত। এহেন পরিস্থিতিতে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা তো বটেই, কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছেন।

৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের জন্য যখন চলছে জাপার প্রস্তুতি, আওয়ামী লীগের সঙ্গে চলছে আসন প্রাপ্তি নিয়ে দরকষাকষির বৈঠক, তখন হঠাৎই দলের মহাসচিব পদে আসে পরিবর্তন। এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের পরিবর্তে জাপা মহাসচিব করা হয় মশিউর রহমান রাঙ্গাকে। গতকাল শনিবার রাতে আসে আরেকটি সিদ্ধান্ত। দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- মহাসচিব পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া রুহুল আমিন হাওলাদারকে জাপা চেয়ারম্যানের বিশেষ সহকারী করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে তিনি চেয়ারম্যানের সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করবেন। তিনিই দলের দ্বিতীয় শীর্ষনেতা।

কেন হাওলাদারকে মহাসচিব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো, কেনই বা ফের বিশেষ পদে আনা হলো- এর বিন্দুবিসর্গ কিছ্ইু জানেন না দলের কোনো নেতাকর্মী। গতরাতে কেন্দ্রীয় একাধিক নেতাকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তারা এড়িয়ে যান। এদিন রাত ৮টায় জাপার নতুন মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গার পূর্বঘোষিত সংবাদ সম্মেলন ছিল। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিক হিসেবে জাপার প্রাপ্ত আসন নিয়ে বিস্তারিত জানানোর কথা ছিল এ সংবাদ সম্মেলনে। কিন্তু ‘অনিবার্য’ কারণ দেখিয়ে তা স্থগিত করা হয়। কেন সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করা হলো, জানতে চাইলে কোনো নেতাই মুখ খোলেননি।

জানা গেছে, পার্টিতে রুহুল আমিন হাওলাদারকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়ায় দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী অনেক নেতাই ক্ষুব্ধ; তারা চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছেন। সূত্রমতে, মনোনয়ন পাচ্ছেন না এমনটি আঁচ করতে পেরে কিছু নেতা প্রস্তুত ছিলেন মনোনয়নপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করার পর অনভিপ্রেত কা- ঘটানোর জন্য। দলের প্রার্থিতা থেকে বঞ্চিত তিন নেতা মনে খেদ নিয়ে আমাদের সময়কে বলেন, মনোনয়ন-বাণিজ্য করলে যে পুরস্কার পাওয়া যায়, তা জানা ছিল না। এটা জাতীয় পার্টির নতুন সংযোজন। এমন অনৈতিক কাজে হাওলাদারকে উৎসাহিত করায় পরবর্তী সময়েও এ ধরনের অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতে কেউ দ্বিধা করবেন না।

গতকাল রাতে সরেজমিনে দেখা গেছে, বনানীর জাপা কার্যালয়ে অবস্থান করছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয় পার্টির সভাপতি এসএম ফয়সাল চিশতী ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সেন্টুসহ বেশ কজন কেন্দ্রীয় নেতা। বাইরে কয়েকশ নেতাকর্মী তখন ‘ধর’ ‘ধর’ বলে চিৎকার করছিলেন। তারাই দলের কিছু নেতাকে আওয়ামী লীগের দালাল আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে স্লোগানও দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে এসএম ফয়সাল চিশতী ও শফিকুল ইসলাম সেন্টু কার্যালয় থেকে বের হন। তারা নেতাকর্মীদের স্লোগান থামানোর অনুরোধ জানালে তা থেমে যায়।

পার্টিতে কী হচ্ছে? এমন প্রশ্ন রাখা হলে ফয়সাল চিশতী ও সেন্টু কেউই উত্তর না দিয়ে সেই স্থান ত্যাগ করেন। এ সময় কৌতূহলী নেতাকর্মীরা উল্টো গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্ন করতে শুরু করেন, কী হচ্ছে জাতীয় পার্টিতে? এরই মধ্যে দেখা গেছে, ভিড়ে দাঁড়িয়ে থাকা জাপার এক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও তার অনুসারীরা বলছেন, ‘...ভিন্ন কিছু হলে কাউরে ছাড়ব না।’

উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে দলের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের কোনো নেতা মন্তব্য করতে রাজি হননি।

 

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে