ড. কামালকে ‘হত্যা’র পরিকল্পনা, অডিও ফাঁস!

  অনলাইন ডেস্ক

২৬ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৭:২৭ | অনলাইন সংস্করণ

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান হত্যা পরিকল্পনা করছেন বলে এক টেলিফোন আলাপে তথ্য মিলেছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টায় ঐক্যফ্রন্টের এই আহ্বায়ককে হত্যা করা হতে পারে বলে ওই ফোনালাপে বলা হয়েছে।

গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুর সঙ্গে শওকত নামে সিলেটের স্থানীয় এক রাজনীতিবিদের ফোনালাপটি প্রকাশ্যে এনেছে দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল। আজ বুধবার সকাল ৯টার পর আলাপ হয় তাদের। পরে এটি ফাঁস করে টেলিভিশন চ্যানেলটি। ফোনালাপ থেকে জানা যায়, শেষ চেষ্টা হিসাবে লন্ডনে এই হত্যা পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সকাল ৯টার পরে শওকত নামে সিলেটের ওই রাজনীতিবিদ গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টুকে ফোন করেন। আমাদের সময় অনলাইন পাঠকদের জন্য তাদের কথোপকথন তুলে ধরা হলো :
শওকত : আসসালামুআলাইকুম
মন্টু : ওয়ালাইকুম সালাম
শওকত : মন্টু ভাই, আমি শওকত বলছিলাম বিএনএফ।
মন্টু: হ্যাঁ, কেমন আছো?
শওকত : আছি ভাই, আপনি কেমন আছেন? আমি একটা ইম্পর্ট্যান্ট খবর দেওয়ার জন্য আপনাকে ফোন করলাম। আপনি ড. কামাল হোসেনকে যে কোনো ভাবে কোনো নিরাপত্তা হেফাজতে নিয়ে যান। উনার উপরে এটেম্প আছেন। এটা হচ্ছে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য। যদি টাকা পয়সায় কোনো কাজ না হয় বিএনপির। তাহলে তারা লাস্ট ইয়ে হলো ড. কামাল হোসেনকে হত্যা করা।

শওকত : ড. কামাল হোসেন বিএনপির কেউ না। ওনাকে মারলে তারা রাজনৈতিক ফায়দা লুটবে। বুঝছেন? আপনি ইমিডিয়েটলি মন্টু ভাই, যেহেতু আমি আপনি আমরা একসাথের। আমি এটা লন্ডন থেকে খবর পেয়েছি। তারেক রহমানের খুব ক্লোজ, আমাদের সিলেটের। কারণ আপনি জানেন যে বিএনপি সব নেতাকর্মীরা হলো সিলেটের, লন্ডনে এবং সে ওখানে তারেক রহমানের খুব কাছের। দুবাই থেকে অলরেডি সাতজন কিলার বাংলাদেশে ঢুকসে। লাস্ট মোমেন্টে তারা চেষ্টা করবে, এবং ইলেকশনের আগের দিন হলেও ড. কামালকে হত্যা করা। আমি ডিসি ডিবিকে বলসি। তারা ইয়ে নিচ্ছে। তারা বলবে যে তাদের অপমান করসে ড. কামাল হোসেন, সেই অজুহাতে আপনি ওনাকে নিয়ে আসেন। কারণ, তাকে সেইফ করাই হচ্ছে এখন আপনাদের দায়িত্ব।

মন্টু : ওরা কোথায় নিয়ে যাবে?
শওকত : ওরা নিয়ে যাবে, কাস্টডিতে রাখবে। অ্যারেস্ট না।
মন্টু : কাস্টডিতে রাখলে, কাস্টডি থেকে নিরাপত্তা দিলে তো...
শওকত : কিন্তু বাইরে থাকলে তো ওনার লাইফ রিস্কে থাকবে।
মন্টু : কেন ওরা কি কারণে নিয়ে যাবে?
শওকত : ওনার জীবনের নিরাপত্তার জন্য। যে গ্রাউন্ড তো ব্যাপার না এখানে মন্টু ভাই।
মন্টু : নিরাপত্তা তো বঙ্গবন্ধুর বাড়িতেও ছিল না, জাতীয় চার নেতার জেলখানার ভিতরেও ছিল না।
শওকত : না না না মন্টু ভাই, সেটাতো ধরেন তখন জিয়ার হাতে ছিল।
মন্টু : আমাদের হেফাজতে কি মানুষ মরে না?
শওকত : না তা তো মরে, কিন্তু এটা তো রাজনৈতিক ফায়দা লুটার জন্য যদি কেউ করে, তাহলে তো এখন....
এই কথার পর যদিও অডিওতে আর কোনো কথা ছিল না।

এর পরেই গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ সময় তারা ড. কামালের কাছে তার নিরাপত্তার বিষয়ে জানতে চান।

দুপুরে মতিঝিলে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য স্বাক্ষাৎ করেন পুলিশ কর্মকর্তারা। প্রায় ১৫ মিনিট এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় মতিঝিল বিভাগের ডিসি আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের প্রতিনিধি দলে ছিলেন-এডিসি শিবলি নোমান, নাজমুন নাহার, সরোয়ার, এসি মিশু, ওসি ফারুক, পিআই শহীদ প্রমুখ।

সাক্ষাৎ শেষে মতিঝিল বিভাগের ডিসি আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘স্বাভাবিক কাজের অংশ হিসেবে আমরা এখানে এসেছিলাম। তার (কামাল হোসেন) নিরাপত্তার বিষয়ে আলোচনা করতে এসেছিলাম।’

ড. কামালের ওপরে হুমকি আছে কি না-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে উনি, সে আশঙ্কা প্রকাশ করেন নাই।’

তবে কী কারণে ড.কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন-জানতে চাইলে আনোয়ার বলেন, ‘ড. কামালের সঙ্গে আমার সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলাম। ড. কামাল হোসেনের আলাদা কোনো অবজারভেশন আছে কি না? এ বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে