মহারণের অপেক্ষায়

প্রচার শেষ এবার ভোটের পালা

  আলী আসিফ শাওন ও আসাদুর রহমান

২৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৩:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

আর মাত্র একদিনের অপেক্ষা। বাংলাদেশে ভোট নিয়ে যে মহারণ আসন্ন, তারই প্রস্তুতি চলছে রাজনৈতিক দলগুলোয়। গত ২০ দিনের প্রচার লড়াইয়েও আভাস মিলেছে, ‘কেহ কারে নাহি ছাড়ে, সমানে সমান’ লড়াইয়ের। মাসখানেক ধরে চলমান নির্বাচনী উত্তেজনায় সব দলের অংশগ্রহণে এ মহারণে জয়-পরাজয় দেখার প্রতীক্ষায় এখন মুখিয়ে আছে পুরো জাতি।

গত ১০ ডিসেম্বর শুরু হয় আনুষ্ঠানিক প্রচার। এর মাধ্যমে ভোটের যে বাদ্য বেজে উঠেছে, ৩০ ডিসেম্বর তার সমাপ্তি ঘটবে। ২৯৯টি আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট এবং প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিবেচিত বিএনপির নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের মধ্যকার এ মহারণের পরপরই পরিষ্কার হয়ে যাবে, আগামী পাঁচ বছরের জন্য সরকার গঠন করবে কোন জোট? এ প্রশ্নের উত্তর পেতে এখন প্রতীক্ষারত দেশের মানুষ।

২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবারই প্রথম অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচন ছিল বিএনপিবিহীন, অনেকটা একতরফা ও নিয়ম রক্ষার নির্বাচন। ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় একাদশ সংসদ নির্বাচনে ১০ বছর পর ভোটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে নৌকা ও ধানের শীষ।

টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় আসীন থাকা আওয়ামী লীগ এবারের লড়াইয়ে অনেকটাই নির্ভার; উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে দেশবাসী এবারও তাদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে বলে প্রত্যাশা দলটির শীর্ষনেতাদের। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের ‘অত্যাচার-নিপীড়ন’ থেকে মুক্তি পেতে ৩০ ডিসেম্বর ভোটাররা ব্যালট বিপ্লব ঘটাবেন এবং বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস দলটির নীতিনির্ধারকদের।

এমনিতেই বিরোধপূর্ণ প্রেক্ষাপট, তদুপরি পরিবেশও ভিন্ন। প্রচারের শুরুতে লড়াইয়ের যেমন আভাস পাওয়া গেছে, ভোটের দিন যত এগিয়ে এসেছে, চিত্রটাও ততই পাল্টে গেছে। সারাদেশে জমজমাট প্রচারে ছিল আওয়ামী লীগ ও এর শরিক দলগুলো। অন্যদিকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা প্রচারের মাঠে ছিলেন অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। হামলা-মামলার কারণে ফ্রন্টের প্রার্থীদের গণসংযোগ ব্যাহত হয়েছে; অর্ধশত প্রার্থী প্রচারকালে হামলার শিকার হয়েছেন; আহত হয়েছেন কয়েক হাজার নেতাকর্মী। দেশজুড়ে গত মাসখানেকে ন্যূনতম আড়াইশ সহিংস ঘটনা ঘটেছে।

ভোটের দিন পরিবেশ কেমন থাকবে, এ প্রশ্নে উদ্বেগমুক্ত নন দেশবাসী। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর স্থানীয় মুখপাত্ররাও সহিংসতার আশঙ্কা করছেন। সাধারণ মানুষের মধ্যেও পছন্দের দলের পক্ষে বিরোধী মানসিকতার মানুষের সঙ্গে চলছে বাগযুদ্ধ। তবে এতকিছুর মধ্যেও দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ সব মানুষেরই প্রত্যাশা-অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন।

এবারের নির্বাচনে বেশকিছু ভিন্নতা রয়েছে গত ১০টি সংসদ নির্বাচন থেকে। দলীয় সরকারের অধীনে এবারই প্রথম সব দল নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছে। এবারই প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহার হচ্ছে নির্ধারিত ৬টি আসনে। কারাদণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার জেরে এবার নির্বাচন করতে পারছেন না বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তার ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দণ্ডিত হয়েছেন। যদিও তিনি দীর্ঘদিন ধরেই দেশ থেকে স্বেচ্ছা নির্বাসনে আছেন। এ কারণে এবারের লড়াইয়ে তিনি নিজেও প্রত্যক্ষ কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না।

আসন্ন এ নির্বাচন নিয়ে নানা নাটকীয় ঘটনাও ঘটেছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো-ধানের শীষের প্রার্থীদের প্রার্থিতা বাতিল হওয়া। সর্বশেষ হিসাবে ৩শ আসনের মধ্যে ১৬টি আসনে বিএনপির প্রার্থী নেই। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রত্যাশায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের বাদানুবাদের ঘটনাও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে ইসিতে এমন প্রকাশ্য মতপার্থক্য দেখা যায়নি। ভোটের চার দিন আগে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতাদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর বৈঠক বর্জন এবং পরে সিইসির পদত্যাগ দাবিও নির্বাচনী আলোচনায় খোরাক জুগিয়েছে। তবে নানা ঘটনার পরও শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইসিতে জমেছে অভিযোগের স্তূপ। প্রতিদিনই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ছাড়াও প্রার্থী ও সমর্থকদের পক্ষ থেকে ইসিতে জমা পড়ে বিস্তর অভিযোগ। সর্বশেষ হিসাবে সেখানে ৫ শতাধিক অভিযোগ জমা আছে। কয়েক কর্মকর্তাকে বদলি করা ছাড়া এসব অভিযোগের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি ইসি কর্তৃপক্ষকে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ২৮ নভেম্বর; মনোনয়নপত্র বাছাই ২ ডিসেম্বর; প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর এবং ভোটগ্রহণ ৩০ ডিসেম্বর। আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়াই এবার নির্বাচনে এসেছে দলটি। বিজয়ী হলে কারারুদ্ধ নেত্রী মুক্তি পাবেন, এ কথাই ছিল দলটির নির্বাচনী প্রচারের মূল প্রতিপাদ্য। ভোটের প্রচার চালানোর সময় ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের হামলার শিকার হয়েছে বলে লাগাতার অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের প্রার্থীরা। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা আছেন অনেকটাই ফুরফুরে মেজাজে। সংসদ বহাল থাকায় সরকারি দলের অধিকাংশ প্রার্থী এমপি পদে থেকেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনী প্রচারে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে নৌকা ও জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের প্রার্থীরা। মূলত উন্নয়নকে পুঁজি করেই ভোট চাইছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ‘একতরফা’ নির্বাচনের পর পরবর্তী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক করে তোলা খুব একটা সহজ ছিল না সরকারের জন্য। সে জন্য নির্বাচন কমিশন গঠন থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে অনেকেরই মতামত নিতে হয়েছে। সেই ভিত্তিতেই এগিয়েছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। সব দলের সঙ্গে সংলাপের পর নির্বাচন কমিশন গঠন করেন রাষ্ট্রপতি। শুরুতে এ কমিশন নিয়ে বিএনপিসহ সরকারবিরোধীদের তেমন একটা আপত্তি না থাকলেও নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগমুহূর্তে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) পদত্যাগ দাবি করছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং দলটির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেন।

নির্বাচন কমিশন গঠনউত্তর ধাপটি ছিল নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। ‘নিরপেক্ষ সরকারের অধীন ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি’ এ দাবিতেই দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট। দলীয় সরকারের অধীনে সেই নির্বাচনে অংশ নেয়নি এ জোট। কিন্তু সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর বলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের ‘ওয়েস্ট মিনস্টার ডেমোক্রেসি’ পদ্ধতিতেই দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

এবারের নির্বাচনেও বিএনপিসহ সরকারবিরোধীরা দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে আসবে কিনা, এ নিয়ে সংশয় ছিল। বিরোধী পক্ষ থেকে বারবার সংলাপের দাবি জানানো হচ্ছিল কয়েক বছর ধরেই। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে তা বরাবরই নাকচ করা হচ্ছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত ইউটার্ন নেয় সরকার। স্বাগত জানায় সংলাপকে। বিএনপিকে সংলাপের টেবিলে বসান গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেন। নির্বাচনের কয়েক মাস আগে থেকেই সরকারবিরোধী ছোট ছোট দলকে নিয়ে একটা দৃশ্যমান প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ শুরু করেন ড. কামাল হোসেনসহ জাতীয় পর্যায়ের একাধিক নেতা।

শেষ পর্যন্ত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বিএনপি যোগ দেয় ঐক্যফ্রন্টে। ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন সংলাপের আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর। প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবেই রাজি হয়ে যান সংলাপ প্রস্তাবে। এরপর শুধু ঐক্যফ্রন্টই নয়, অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও ধারাবাহিক সংলাপে বসে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোট। একদিকে যখন সংলাপ চলমান, অন্যদিকে তখন নির্বাচন কমিশন জানায়, যে কোনো সময় ঘোষণা করা হবে তফসিল।

এর পর সংলাপের শেষদিকে এসে তফসিল ঘোষণা করে কমিশন। সেই মোতাবেক ২৩ ডিসেম্বর ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিএনপিসহ অন্যান্য দলের দাবির মুখে এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণের চূড়ান্ত দিন ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা। এর পরও বিএনপি ভোটানুষ্ঠান আরও পেছানোর দাবি তোলে। এক্ষেত্রে কমিশন জানায়, তা আর কোনোভাবেই সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য মাঠে নামে বিএনপি ও এর নেতৃত্বাধীন জোটবদ্ধ দলগুলো।

তফসিল ঘোষণার পরদিন থেকেই দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করে আওয়ামী লীগ। ৩০০ আসনের বিপরীতে ৪ হাজার ২৩ জন দলীয় মনোনয়ন সংগ্রহ করেন। এদের মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক করে প্রার্থী চূড়ান্ত করে আওয়ামী লীগ। ১৪-দলীয় জোট, মহাজোট ও দলীয় প্রার্থী মিলিয়ে ২৭৩ আসনে নৌকার প্রার্থী দেয় দলটি, বাকি ২৭টি আসনে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির জন্য ছাড় দেওয়া হয়।

জাতীয় পার্টি শুরুতে ১৪৭টি আসনে প্রার্থী দিলেও শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে মহাজোটের ছেড়ে দেওয়া ২৭টিতেই দলটির প্রার্থীরা নির্বাচন করছেন। গতকাল রাতে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়ে উন্মুক্ত আসনগুলোয় লড়াই থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সিঙ্গাপুর থেকে ফেরার একদিন পরই সংবাদ সম্মেলন কেের ঢাকা-১৭ আসন থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি।

অন্যদিকে বিএনপির ফরম বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার ৫৮০টি। বিএনপি ও জোটসঙ্গীদের ১০৪৯ জন দলীয় প্রত্যয়নপত্র নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। বিএনপি তার দলের ৬৯৬ প্রার্থীকে মনোনয়নের চিঠি দেন। ২০-দলীয় শরিকদের এবং ঐক্যফ্রন্টভুক্ত দলগুলোর নেতাদের মিলিয়ে মোট ৫৯টি আসনে এবার ছাড় দিচ্ছে বিএনপি।

নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেশের প্রায় ২ শতাধিক আসনে হামলা, মামলা ও বাধার সম্মুখীন হয়েছেন সরকারবিরোধী জোটের প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগের প্রার্থীরাও আক্রান্ত হয়েছেন বেশ কয়েকটি স্থানে। দেশের বিভিন্ন জেলা ও সংসদীয় আসন সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হলেও উৎসবমুখর হচ্ছে না এবারের নির্বাচন। উৎসবের আমেজ শুধু সরকারি দলের প্রার্থীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বিরোধী জোটের প্রার্থীরা অনেকটা শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশে নীরবে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন। অনেক আসনে ধানের শীষের পোস্টারও সাঁটাতে পারেননি ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীরা। বিপরীতে সারাদেশ ছেয়ে গেছে নৌকার নির্বাচনী পোস্টারে। শহরের অলি-গলি, পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জে পর্যন্ত সর্বত্র ভাসছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী গানÑ ‘জয় বাংলা, জিতবে এবার নৌকা’।

এবারের নির্বাচনে ভোটার ১০ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার ৫৭৩ জন। পুরুষ ও নারী ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান সমান। প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখ তরুণ ভোটার এবার প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। ৪০ হাজার ১৮৩টি ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৬ লাখ সদস্য। পরীক্ষামূলকভাবে ৬টি আসনের সব কেন্দ্রে ইভিএমে ভোট হবে এবার। ভোটের পরিবেশ নির্বিঘ্নে করতে গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও মাঠে নেমেছেন। ইতোমধ্যে দেশের ৬২ জেলার ৩৮৯টি উপজেলায় নিয়মিত টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেনাবাহিনী। এ ছাড়া সীমান্তবর্তী উপজেলায় বিজিবি, উপকূলীয় এলাকায় কাজ করছে নৌবাহিনী। জরুরি বিমানসেবার জন্য প্রস্তুত বিমানবাহিনীও।

এবারের নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়, সে জন্য বিদেশিদের পক্ষ থেকেও চাপ রয়েছে। বিভিন্ন দেশের ঢাকাস্থ রাষ্ট্রদূত এ জন্য একাধিকবার বৈঠক করেছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে ১৬টি দেশ ও সংস্থার ১৭৮ জন পর্যবেক্ষকের মধ্যে বিদেশি পর্যবেক্ষক থাকবেন ৯৭ জন এবং বিদেশিদের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশি থাকবেন ৮১ জন।

নবম ও দশমের মতো একাদশ সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের জয় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলটির সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি ইতোমধ্যে বিভিন্ন নির্বাচনী সভায় বলেছেন, ‘সারাদেশে নৌকার পালে হাওয়া লেগেছে। নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আবারও বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসব, ইনশা আল্লাহ।’

অন্যদিকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সকল পথসভায় দলের নেতাকর্মী ও জনগণকে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ফল ঘোষণা হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্র পাহারা দেওয়ারও অনুরোধ রাখেন তিনি। ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেন ও মির্জা ফখরুলসহ বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, জনগণ যথাযথভাবে ভোট দিতে পারলে দেশে এক নীরব বিপ্লব ঘটে যাবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে