নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা চ্যালেঞ্জের মুখে

  ড. এম সাখাওয়াত হোসেন

২৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১২:২৯ | অনলাইন সংস্করণ

পুরনো ছবি
আর মাত্র একদিন পরই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, যেখানে গবেষকদের জন্য উপাদানে ভরপুর হয়ে উঠেছে। ওই সময় যখন নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের মধ্যে বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ কমিশনার এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে বিতর্ক আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে, তখনো মাঠে নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে নানা ধরনের ব্যত্যয়ের খবর প্রকাশিত হচ্ছে।

একদিকে বিরোধী জোটের, বিশেষ করে বিএনপিসহ অন্যান্য প্রার্থীর সমর্থকদের ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে আদালতের রায়ের কারণে প্রায় সাতটি সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থী শূন্য হয়ে পড়েছে।

এরই মধ্যে কয়েকটি আসন তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এই স্থগিতাদেশের জন্য ওই আসনগুলোয় নির্বাচন স্থগিত থাকবে, না নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তার অনেকটাই নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত নির্ণয়ের ওপর। এর মধ্যে উচ্চ আদালতে জামায়াতে ইসলামীর কথিত সদস্যদের বিএনপি কর্তৃক মনোনয়ন দেওয়ার রিটে আদালত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের ওপরে ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু সমস্যা যা নির্বাচন কমিশনকে বিবৃত করবে তাহলো, আরপিও-এর ১২ ধারার উপধারা (র) বাদ দেওয়ার পর প্রার্থীর অযোগ্যতার ক্ষেত্রে আর কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই। কাজেই নির্বাচন কমিশন দারুণ এক পরীক্ষার মুখে পড়েছিল। তাদের সিদ্ধান্তই আইন সঙ্গত হয়েছে।

এবারের মতো এ ধরনের অব্যবস্থাপনার মধ্যে অতীতের কোনো নির্বাচন কমিশনকে পড়তে হয়নি। ইতোপূর্বে আদালতের রায়ে কোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনের পর বাতিল হয়নি বরং যুক্ত হয়েছে। এবার দারুণ জটিল এক অব্যবস্থা, কারণ লাখ লাখ ব্যালট পেপার পরিবর্তন আনতে হবে আর ব্যালট পেপার ছাপানো হলে যেগুলো জ্বালিয়ে ফেলতে হবে।

২০০৮ সালে অন্তর্ভুক্তির ফলে এমন করতে হয়েছিল, কিন্তু প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হতাশা ব্যক্ত করার পর বন্ধ হয়েছিল। এবার এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনকে ১০ কোটির বেশি ব্যালট ছাপাতে হবে। এ বিষয়টিও নির্বাচন কমিশনকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। তথাপি বলতে হয়, নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশ্য হতে হবে যেন কোনো সংসদীয় আসনে নির্বাচনের সব প্রার্থী যাদের কমিশন বৈধতা দিয়েছে অংশগ্রহণ করতে পারে।

অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অব্যাহত গ্রেপ্তার কর্মকাণ্ডের মধ্যে ক্রমেই প্রচারের দরজা বন্ধ হওয়ার পথে। একদিন পরেই ভোট, তথাপি অনেকাংশের জনমনে আশঙ্কা আর অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে, বিশেষ করে অনেক অঞ্চলের নারী ও বয়স্ক ভোটারের মধ্যে এমনই তথ্য প্রচারিত হয়েছে বিবিসি বাংলা খবর ও বিশ্লেষণে। যদিও কয়েকটি জায়গায় কিছু কিছু ব্যবস্থা নিলেও তা যথেষ্ট বলে মনে হয় না, কারণ প্রতিদিনই গ্রেপ্তার, হামলা এবং প্রার্থী গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতি আগের কোনো নির্বাচনে ঘটেনি, যে কারণে ভোটার বিশেষ করে প্রান্তিক ভোটাররা আতঙ্কিত ও ভোট দিতে যাওয়ার ব্যাপারেও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।

ভোট প্রদানের আতঙ্কের মধ্যে শুধু সংখ্যালঘু ভোটাররাই নন, রয়েছেন নারী ও প্রথমবারের ভোটাররাও। ইতোমধ্যেই বিশেষ করে রাজধানীর বহু মধ্যবিত্ত এবং তরুণ ভোটার, যারা ভোট প্রদানে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন, দেশ ছাড়ছেন। খোঁজ নিলে জানা যাবে যে, কাছাকাছি দেশে যাওয়ার সব যানবাহনে ডিসেম্বর ৩১ পর্যন্ত অগ্রিম বুকিং হয়ে রয়েছে। তদুপরি বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সময়মতো ভিসা না পাওয়ার এবং বিভিন্ন দেশের উদ্বেগের সংবাদ ও অব্যাহত সংঘর্ষের সংবাদ দোদুল্যমান ভোটারদের ভীত করে তুলেছে।

নির্বাচন কমিশনের আশ্বাসের ওপরেও মানুষ আস্থা রাখতে পারছে না। সিংহভাগ ভোটারের মনে প্রশ্ন, এই নির্বাচন আদৌ সুষ্ঠু হবে কিনা? এসব প্রশ্নের মাধ্যমে ফুটে উঠছে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানের ওপর মানুষের আস্থা-বিশ্বাসের অভাব। ধারাবাহিকভাবে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হলে নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা ও গণতন্ত্রের ওপর আস্থা কমতে থাকে।

উদ্বেগ শুধু ভোটারদের মধ্যেই নয়, উদ্বেগ রয়েছে অনেক প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারের নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে, বিশেষ করে স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও বিভিন্ন ব্যাংক কর্মকর্তাদের মধ্যে। এই আতঙ্কের বহুবিধ কারণ রয়েছে। প্রথমত, এ ধরনের কর্মকর্তাদের নিয়োগের প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকেন রিটার্নিং অফিসার, তা নির্বাচন কমিশনে যাদের নাম আগেই তালিকাভুক্ত করা হয় এবং প্রকাশিত হয়ে থাকে। এসব নামের তালিকায় কারো বিরুদ্ধে কোনো প্রার্থীর অভিযোগ থাকলে তা রিটার্নিং অফিসারের ক্ষতিয়ে দেখার কথা এবং কমিশনের সম্মতিতে প্রয়োজনে পরিবর্তন করা হয়ে থাকে।

এ প্রক্রিয়ার মধ্যে অন্য কোনো এজেন্সির ভূমিকা থাকার কথা নয়, কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে এমনটাই ২০১৮ সালের নির্বাচনে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের বেলায় হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার খবরদারির তথ্য বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও এমন তথ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, তবে কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে তা জানা যায়নি। যদিও চেষ্টা করা হয়, এসব কর্মকর্তা-কর্মচারী সরকারি অথবা আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা থেকে নিয়োগ দেওয়ার, তথাপি ঘাটতি পূরণের জন্য বেসরকারি ব্যাংক অথবা এমপিওভুক্ত কলেজ ও স্কুলের শিক্ষক নিয়োজিত হতে পারেন। এই ধরনের বাধ্যতামূলক নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের দ্বিমত গ্রহণযোগ্য নয়। নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করা দণ্ডনীয় অপরাধ।

বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিক প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন এবং সহিংস ২০১৪ সালের নির্বাচন ও পরবর্তী সহিংস স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারদের ওপর যে ধরনের হামলা-ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং অনিয়ম করতে বাধ্য করা হয়েছে, সেসব কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে এবারের আতঙ্ক বেশ প্রসারিত মনে হচ্ছে। এমন কয়েকজনের আত্মীয়স্বজন আতঙ্কিত হয়ে তাদের করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তাদের হতাশ হতেই হয়েছে।

প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের জন্য আতঙ্কের সময়টি ভোটগ্রহণের আগের রাতটি, যখন তাদের আওতায় রক্ষিত ব্যালট পেপার ও বক্স নিয়ে শঙ্কিত বিত্তের প্রান্তিক অঞ্চলে রাত কাটাতে হয়। অহরহ অভিযোগ এবং তথ্য প্রকাশ পায় যে, শক্তিশালী ও প্রভাবশালী প্রার্থীদের হয়ে আগের রাতেই ব্যালট বাক্সে জোরপূর্বক ব্যালট পেপার ঢুকানো হয়। এসব ক্ষেত্রে একটি নির্বাচন কেন্দ্রে প্রদত্ত অতিরিক্ত ব্যালট বাক্স, যা প্রিসাইডিং অফিসারের হেফাজতে থাকে, বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ওঠে যে, সেগুলো দখল ও ব্যবহার হয়ে থাকে। এসব নির্বাচনী সামগ্রী রক্ষার দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালনের অভিযোগও এন্তার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে আসছে।

একটি কেন্দ্রে কয়টি অতিরিক্ত ব্যালট বক্স দেওয়া হবে, তা পরিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হয়, তবে একটি কেন্দ্রে একটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের বেশি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এবং এই অতিরিক্ত ব্যালট বাক্স যতদূর সম্ভব ভোট গ্রহণের দিনে আরও কর্তৃক কেন্দ্রে পৌঁছানো যেতে পারে। এখানে কয়েকটি বিষয় উল্লেখ যে, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স আন্তর্জাতিক বিধি মোতাবেক তৈরি ও আমদানিকৃত। প্রতিটি ব্যালট বাক্সের গায়ে ইউনিক নম্বর রয়েছে এবং ব্যালট বাক্স বন্ধ করতে যে ইউনিক সিল ব্যবহার করা হয় ওই পাঁচটির প্রত্যেকটিতে ইউনিক নম্বর দেওয়া আছে।

ব্যালট বাক্সের এবং সিলগুলোর নম্বর অবশ্যই উপস্থিত এজেন্টদের লিপিবদ্ধ করার নিয়ম রয়েছে, যে নম্বরগুলো পরবর্তী সময়ে গণনার আগে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স খোলার পরে পোলিং এজেন্টদের মিলিয়ে নিতে হয়। এ কাজটি অত্যাবশ্যকীয়। আরও উল্লেখ্য, বিধি মোতাবেক প্রতিটি ব্যালট বাক্সের হিসাব, বাক্সের নম্বর এবং সিল নম্বরসহ একটি নির্ধারিত ফরমে অন্তর্ভুক্তিকরত ভোটগ্রহণ শেষ হলে অন্যান্য প্রয়োজন নথির সঙ্গে সংরক্ষিত থাকে। লক্ষণীয় যে, একটি স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ব্যালট ধারণের ক্ষমতা রয়েছে, যা একটি বুথের ভোটার সংখ্যা থেকে কয়েকগুণ বেশি।

কাজেই অতিরিক্ত ব্যালট বাক্সের সচরাচর প্রয়োজন পড়ার কথা নয়। ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপার নিয়ে আরেকটি শঙ্কা, অহরহ ব্যালট পেপার ছিনতাই অথবা ভোটগ্রহণের পূর্ব রাতে জোর করে পেপার অতিরিক্ত বাক্সে ভর্তি করার অভিযোগ ওঠে। এ ক্ষেত্রে সত্যিকারের ব্যবস্থা অবশ্যই রয়েছে। পুনঃগণনা করার সময় ব্যালটের সংরক্ষিত মুড়িতে ভোটারের সই এবং ভোটার নম্বর অবশ্যই দেখা প্রয়োজন। এমনকি আদালতে অভিযোগের মাধ্যমে যে কোনো প্রার্থী অবশ্য বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি করতে পারেন। ব্যালটের মুড়ি নিরীক্ষণ করলেই জালভোটের অভিযোগ খতিয়ে দেখা সম্ভব।

ভোটার নম্বর ও স্বাক্ষরবিহীন মুড়ি অবশ্যই জালভোট বলে শনাক্ত করা হবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি ব্যালটের পেছনে অফিশিয়াল সিল এবং পোলিং অফিসারের স্বাক্ষর বিধি মোতাবেক অত্যাবশ্যকীয়। এবং এ কাজটি একজন ভোটারকে ব্যালট পেপার প্রদানের আগেই ভোটারের উপস্থিতিতে সম্পন্ন করতে হয়। এর আগে এ ধরনের সিল ব্যবহার আইনবহির্ভূত বলে গণ্য করা হবে। কাজেই ব্যালট পেপার ও বাক্স ব্যবহার বেআইনি হলে তা সহজেই খতিয়ে দেখা সম্ভব, তবে অবশ্যই এ বিষয়টি প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারের আইনত দায়িত্ব।

তবে নির্বাচনী বাজেটের ৬০ শতাংশ শুধু নিরাপত্তার জন্য খরচের পরও যদি প্রার্থী ভোটার নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং নির্বাচনে ব্যবহার্য সামগ্রীর নিরাপত্তা বিধান না করতে পারে, তবে তার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে দায়িত্ব নিতে হবে। এ দায়িত্ব অবহেলার কারণে অবশ্যই নির্বাচন কমিশনকে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতিটি কেন্দ্রের নিরাপত্তা বিধানে নিয়োজিত প্রধানের নাম ও মোবাইল নম্বর অবশ্যই রিটার্নিং অফিসারের কাছে রক্ষিত থাকতে হবে। এই তথ্যগুলো নির্বাচন কমিশনের যোগাযোগ সেলে অবশ্যই সংরক্ষিত রাখা অবশ্যকীয়।

ভোটার, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও নির্বাচনী সামগ্রীর রক্ষা জন্য এত খরচে যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়, তাদের পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে গণ্য করতে হবে। অন্যদিকে যেসব শঙ্কা এখনো ভোটারদের মধ্যে রয়েছে তা নিরসন করা নির্বাচন কমিশনের প্রধান দায়িত্ব। কাজেই সব ধরনের নিরাপত্তা বিধানের বিষয়ে কোনো ধরনের শিথিলতা কাম্য নয়। একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা ও দায়িত্ব অপরিসীম। ২০১৮ সালের নির্বাচনে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা অবশ্যই নির্বাচন কমিশনকে নিরসন করতে হবে। প্রচারের সময় যেসব ব্যত্যয় ও হানাহানি হয়েছে তা কাম্য ছিল না, তবে ভোটের দিন ভোটাররা নির্বিঘেœ ভোট এবং সঠিক গণনার সঠিক ফলাফল প্রকাশ করতে পারলে নির্বাচন কমিশনের অন্য ব্যত্যয়গুলো ছাপিয়ে যেতে পারে।

২০১৮ সালের নির্বাচন বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় বড় তিনটি চ্যালেঞ্জে জন্ম, যার সঠিক নিষ্পত্তি আগামী বছরগুলোয় উন্নয়ন এবং রাজনীতিকে দিকনির্দেশনা দিতে পারে। এসব চ্যালেঞ্জ হলো ১. তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অপ্রয়োজনীয়তা প্রমাণ এবং সংসদ বহাল থাকা অবস্থায় সবার কাছে দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত করা এবং ভবিষ্যতের পন্থা নির্ধারণ করা। ২. দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হলো, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সাংগঠনিক প্রতিষ্ঠানের ওপর জনমানুষে আস্তা শুধু আজকেই নয়, দেশে মানুষের বিশ্বাস রাখার বিষয়ে। এই নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের দক্ষতা, ক্ষমতার প্রয়োগ ও দূরদর্শী পরিকল্পনার সঙ্গে সঙ্গে জনগণের আস্থা অর্জন। ৩. সম্পূর্ণ নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার ওপরে মানুষের বিশ্বাস অটুট রাখা।

২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে নির্বাচন কমিশন, সরকার ও নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা। এই নির্বাচনই নির্ধারণ করবে আগামীতে বাংলাদেশের রাজনীতির গতি-প্রকৃতি। সিংহভাগ মানুষের মনের শঙ্কা দূর করার দায়িত্বে যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তাদের অবশ্যই ভবিষ্যতের বাংলাদেশের কথা মনে রাখতে হবে। বাংলাদেশ অন্যান্য বিষয়ে বহুদূর এগিয়ে গিয়েছে সে ক্ষেত্রে আমাদের দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা এবং ‘রাজনীতি’ পিছিয়ে থাকবে কেন? এ প্রশ্নের জবাব খুঁজতে হবে ২০১৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে।

ড. এম সাখাওয়াত হোসেন : সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং বর্তমানে এনএসইউর অনারারি ফেলো

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে