যে কারণে দুজনার পথ গেল বেঁকে

আজ থেকে কার্যকর হবে তালাকনামা

  ফয়সাল আহমেদ

২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:৪৪ | অনলাইন সংস্করণ

গত বছরের ২২ নভেম্বর আইনজীবী শেখ সিরাজুল ইসলাম সিরাজের মাধ্যমে স্ত্রী অপু বিশ্বাসের বাসায় তালাকনামা পাঠিয়েছিলেন স্বামী শাকিব খান। নিয়ম হলো ঢাকা সিটি করপোরেশনের সালিশি পরিষদ দুজনকে ডেকে বসবে যেন সংসার ভেঙে না যায়। তার পরও যদি শাকিব খান মনে করেন এটাই তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, তবে ৯০ দিন পর তালাকনামা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যাবে। সে হিসাবে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ হচ্ছে শাকিব খান-অপু বিশ্বাসের।

কথায় আছে, এক হাতে তালি বাজে না। মানে ভালো-মন্দ যাই ঘটুক, তার অংশীদার কমপে দুজন বা তার অধিক লোক। বিয়ে যেমন দুটি হাত মিলিত করে, তেমনি বিচ্ছেদের পেছনেও হাত থাকে দুজনের। আবার তাদের সঙ্গে অন্য কেউও থাকতে পারে। কিন্তু ‘এক হাতে তালি বাজে না’ কথাটা মিথ্যা প্রমাণ করতে চাইছেন শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস। কীভাবে?

শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের বিবাহবিচ্ছেদ নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই বিচ্ছেদের জন্য দায়ী শাকিব-অপু দুজনেই। অনেকে আবার দায়ী করছেন শাকিব-বুবলিকে। কিন্তু এটা মানতে নারাজ এই ত্রয়ী। শাকিব দোষ দিচ্ছেন অপুর। অপু দোষ দিচ্ছেন শাকিব ও বুবলির। আবার বুবলি এ বিষয়ে চুপ থাকলেও আকারে-ইঙ্গিতে পুরো ঘটনার জন্য অপুকে

দায়ী করছেন।

অপু বিশ্বাস বলেন, আমি নই, বরং শাকিবই আমাকে বিয়ের পর থেকে অবহেলা করছেন। তার কাছে আমার শেষ অনুরোধ ছিল, সে যেন বুবলির সঙ্গে কাজ না করে। কারণ শাকিব আর বুবলির সম্পর্কে নানাজন নানা কথা আমাকে বলছিল, যা স্ত্রী হিসেবে আমি সহ্য করতে পারছিলাম না। কিন্তু শাকিব আমার এ অনুরোধকে পাত্তা দেয়নি। তাই দুজনের ইচ্ছায় নয়, বরং শাকিবের একক সিদ্ধান্তে আমাদের বৈবাহিক জীবনের পর্দা নামছে।

আর শাকিবের কথায়, ‘সহ্যের সীমা আছে, অপুর জন্য কী করিনি, সে আমাকে স্বামী হিসেবে কখনো মানেনি। ২০০৮ সালে বিয়ের পর ২০১০ সালে এক নায়কের সঙ্গে তাকে হাতেনাতে ধরার কথা তখন পত্রপত্রিকায় এসেছে। একজন স্ত্রীকে পরপুরুষের সঙ্গে অন্য অবস্থায় ধরে ফেলার পর কোনো স্বামী কি তা মা করে। কিন্তু আমি করে দিয়েছিলাম। চেয়েছিলাম সুখে-শান্তিতে ঘর করতে। তার পরও সে নানাভাবে আমাকে মানসিক যন্ত্রণা দিয়েছে। সর্বশেষ গত বছরের ১০ এপ্রিল আমার বিরুদ্ধে আমার সন্তানকে নিয়ে টেলিভিশন চ্যানেলে লাইভ অনুষ্ঠানে যাওয়া কি তার উচিত ছিল? সেদিন থেকে অবিরাম পত্রপত্রিকা আর টিভি চ্যানেল এবং ব্যক্তিগতভাবে সে আমার বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেই চলেছে। এটি কি ভালোবাসার নমুনা? তার পরও আমি তার ও আমার সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে বারবার সব ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করেছি। এত কিছুর পরও সে কখনো আমাকে ঘিরে তার করা নেতিবাচক কর্মকা-ের জন্য একবারও সরি বলেনি। সে শুধু আমাকেই অপমান করেনি, আমার বাবা-মাকেও অসম্মান করেছে। সে যদি একবার সবার সামনে এর জন্য মা চাইত, আমি অবশ্যই সব ভুলে গিয়ে আবার ঘর-সংসার শুরু করতাম। কিন্তু অপু মা তো চায়নি, বরং আমার বিরুদ্ধে আবার বিষোদ্গার শুরু করে। এ অবস্থায় তাকে ডিভোর্স দেওয়া ছাড়া আমার আর কোনো পথ ছিল না।’

শাকিব খানের কথা শুনে বোঝাই যাচ্ছে, বুবলির বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য পুরোপুরি অপুকেই দায়ী করছেন। অথচ শাকিব-অপুর সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয় কিন্তু এই বুবলির জন্য। আট বছর সংসারের খবর গোপন রাখার পর হঠাৎ অপু বিশ্বাসকে তার স্বামী ও সন্তানের বাবার স্বীকৃতিতে টিভি লাইভে এসে কথা বলতে হয় শবনম বুবলির কারণে। বুবলির সঙ্গে শাকিবের ঘনিষ্ঠতা মানতে পারেননি অপু বিশ্বাস। অপু তখন অভিযোগ করে বলেছিলেন, “গত এক বছর শাকিবকে ঠিকমতো কাছে পাননি তিনি। জয়ের জন্ম হওয়ার সময়টাতেও শাকিবকে কাছে পাইনি। এ সময়টায় শাকিব সিনেমার শুটিং নিয়ে ব্যস্ত ছিল। আমার ছেড়ে দেওয়া দুটো ছবিতে বুবলিকে নিয়ে অভিনয় করেছে শাকিব। আমি তাকে বলেছি, অন্য কোনো নায়িকার সঙ্গে অভিনয় করো। নুসরাত ফারিয়া কিংবা অন্য কোনো নায়িকা হলে তো আমার আপত্তি নেই। তার মধ্যে বুবলি তার ফেসবুকে শাকিবের সঙ্গে ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন ‘ফ্যামিলি টাইম’! এটা আমি মেনে নিতে পারিনি।”

এসব বিষয়ে বুবলি কথা বলেছেন বেশ ভেবেচিন্তে। তিনি বলেন, “আমি স্বভাবতই নিজের মতো থাকতে পছন্দ করি। কিন্তু যখন আমার কিছু ইস্যু আসে, তখন তো কিছু বলতে হয়। বাই দ্য ওয়ে, আমি প্রথমেই জানতে চাই, অপু বিশ্বাস এত দিনের আড়াল ভেঙেই কেন এসব কথা বললেন? কই, এত দিন তো যাননি, কারো সামনে আসতে চাননি? অপু বিশ্বাস বলেছেন, তার সঙ্গে শাকিবের গত এক বছরের মতো কথা হয় না। এটা কি কোনো সম্পর্কের জন্য স্বাভাবিক? আসলে ‘রংবাজ’ ছবিতে আমার নাম দেখে তার মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিল। তিনি (অপু) চান না শাকিব-বুবলি একসঙ্গে কাজ করুক। তিনি শাকিবকে লোক মারফতে জানালেন, তাকে নিয়ে একটি ছবির নিউজ করাতে, না হয় আমাকে নিয়ে ছবির নিউজ অফ করাতে, না হলে এটার শেষ দেখে ছাড়বেন তিনি। আজকে এখানে বুবলি না থেকে অন্য কেউ থাকতে পারত, যার সঙ্গে শাকিবের জুটি গড়ে উঠেছে। অপু বিশ্বাস যেটা আগের অনেক নায়িকার েেত্র করতে দেননি, যা শাকিব নিজেই বলেছেন। সত্যি কথা অপু সংসার নয়, নায়িকা হতে চায়।”

অপু দোষ চাপালেন শাকিবের ঘাড়ে সঙ্গে দায়ী করছেন বুবলিকে। শাকিব বুবলিকে দোষ না দিয়ে বিচ্ছেদের জন্য পুরোপুরি দায়ী করলেন অপুকে। আর বুবলি নির্দোষ প্রমাণ করতে নিজের সাফাই গাইলেন। তাহলে এই বিচ্ছেদের জন্য কে দায়ী?

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে