ধর্ষণের প্রতিবাদে তারকারা

একটু ভাবুন, সচেতন হোন

  ফয়সাল আহমেদ, তারেক আনন্দ ও জাহিদ ভূঁইয়া

২৬ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ২৬ এপ্রিল ২০১৮, ০০:৫০ | অনলাইন সংস্করণ

আধুনিক এই পৃথিবীতে এখনো প্রতিদিন কিশোরী, মধ্যবয়স্ক, প্রাপ্তবয়স্ক নারী থেকে শুরু করে শিশুরা পর্যন্ত হচ্ছে ধর্ষণের শিকার। অথচ ধর্ষিতার সুবিচার পেতে লেগে যায় অনেক বছর! ফলে মানবতাবিরোধী ও ঘৃণ্য এই অপরাধ পরিণত হয়েছে এক সামাজিক ব্যাধিতে। এই অপরাধ প্রতিরোধে সমাজের সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বক্তব্য দিয়েছেন বিনোদন অঙ্গনের তারকারা। লিখেছেন- ফয়সাল আহমেদ, তারেক আনন্দ ও জাহিদ ভূঁইয়া

ড. ইনামুল হক

পারিবারিক শিক্ষাই সবচেয়ে বড় শিক্ষা। মেয়েদের সম্মান দেওয়ার শিক্ষাটা পরিবার থেকেই শেখানো উচিত। সব পরিবার যদি তার সন্তানকে এই অপরাধ সম্পর্কে সচেতন করেন, তা হলে কিন্তু এটা হবে না। আর এ ধরনের অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে যথাযথ সাজা দিতে হবে।

ফারুক

সবার আগে নিজের মধ্যের শয়তানটা মেরে ফেলতে হবে। আপনি যদি নিজের মধ্যের দানবটাকে দাবিয়ে রাখতে পারেন, তবে আপনাকে দিয়ে কোনো খারাপ কাজ হবে না। সবাইকে প্রেম-ভালোবাসা দিয়ে বোঝাতে হবে, এটা খারাপ আর ওটা ভালো। তবে সব সময় প্রেম-ভালোবাসা দিয়ে সব কিছু হয় না। তখনই শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। আইনকে কঠোর হতে হবে। আর এসব বিষয় চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। চলচ্চিত্রই পারে সবার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে।

কুমার বিশ্বজিৎ

আমাদের সামাজিক অবস্থানও অনেক দিকে পরিবর্তন হয়েছে। যদি শুরু থেকে বলিÑ একান্নবর্তী পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হতে এখন আমরা স্ত্রী, সন্তান ছাড়া অন্য কাউকে চিনি না। আমরা কখনো ভাবিনি বাংলাদেশে বৃদ্ধাশ্রম হবে। এই যে সামাজিক পরিবর্তন, পরিবর্তনের ছোঁয়ায় আমরা যতই বলি বিশ্বায়ন, বিশ্বায়নের কিছু পজিটিভ-নেগেটিভ দিক আছে। ভার্চুয়াল জগতে প্রবেশে যে অবাধ সুবিধা সেটাও একটা কারণ। আমারা বাঙালিরা সব সময় নরম মনের মানুষ ছিলাম। এখন যেভাবে খুনখারাবি হচ্ছে, খুনের পর ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই উগ্রতা কিন্তু বাঙালির ভেতর ছিল না। মানুষের পাশবিক অত্যাচার দেখলে মনে হয় বিবেক, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা দিন দিন কমে যাচ্ছে। সৎমানুষের সংখ্যাও খুব নগণ্য। আমাদের মাঝে ধর্মের একটা ভয় ছিল। ধর্মের প্রতি ভয় থাকলেও কিন্তু মানুষ অন্যায় করতে পারে না। ভারতে যেমন সর্বোচ্চ আইন ফাঁসি, আমাদের দেশেও সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ ধরনের অপরাধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে কিছুতেই অন্যায় কমবে না। দুই-চারটা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিলে অবশ্যই এসব কমে আসবে। জনসম্মুখে শাস্তি দিতে হবে।

সামিনা চৌধুরী

যারা এ ধরনের কাজ করে তাদের অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। মানুষের সম্মুখে খোলা মঞ্চে শাস্তি দেওয়া উচিত। পর পর কয়েক নরপশুকে শাস্তি দিলেই অন্যরা এ ধরনের কাজ করতে ভয় পাবে। এমন শাস্তি দেওয়া উচিত যেটা দেখে অন্যরা এই ন্যক্কারজনক কাজ করতে আর সাহস পাবে না।

রিয়াজ

ধর্ষণ একটি সামাজিক ব্যাধি। সবারই এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। আমাদের দেশের মানুষ কিন্তু আইনকে শ্রদ্ধা করে, যদি আইনের সঠিক প্রয়োগ থাকে। যারা আইন প্রণেতা তাদের নতুন করে ধর্ষণ আইন নিয়ে ভাবা উচিত। আমি মনে করি একটি নির্দিষ্ট বয়সের নিচে কাউকে ধর্ষণ করলে ধর্ষণকারীর মৃত্যুদ- হওয়া

উচিত।

ফেরদৌস

আন্দোলন করে এই বিষয় রোধ করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত না বোধ জাগ্রত হবে। আপনার যদি মনে হয়, এটা অন্যায় তা হলে নিশ্চয় এটা আপনি করবেন না। সবার মধ্যে এই বোধ জাগাতে আমাদের কাজ করা উচিত। আর এসব বিষয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত।

শাকিব খান

ধর্ষণ একটি ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। এটা রোধ করতে সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি ধর্ষণকারীর কঠোর সাজা নিশ্চিত করতে হবে। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে ধর্ষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায়। আমি নিজেও এটা নিয়ে একটি কাজ করছি, যা অচিরেই আমার চ্যানেলে (ইউটিউব চ্যানেলÑ শাকিব খান অফিসিয়াল) প্রকাশ করা হবে।

অপু বিশ্বাস

ছেলেদের বলব আপনারা কারো বাবা, কারো ভাই, কারো স্বামী এবং কারো সন্তান। এ ধরনের জঘন্য অপরাধ করার আগে নিজের মা, বোন, স্ত্রী কিংবা সন্তানের কথা ভাবুন। তাদের সঙ্গে এমন হলে আপনার কেমন লাগবে। মেয়ে হচ্ছে মা জাতি। বাংলাদেশ একটি শান্তিপ্রিয় দেশ, এদেশে সবাই সবার। নিজের বিবেকের কাছে প্রশ্ন করুন, কাকে ধর্ষণ করছেন?

অমিত হাসান

ধর্ষণকারী অমানুষ। এসব অমানুষ সামাজের কীট। সমাজের প্রতিটি মানুষের উচিত এই কীটকে বর্জন করা। আইনের আওতায় এনে এদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। অনেক সময় দেখা যায় ধর্ষণের শিকার নারী ভয়ে নিজেকে লুকিয়ে রাখেন। আমাদের সমাজ অনেক সময় তাকে খারাপ দৃষ্টিতে দেখে, এটা ঠিক নয়। ধর্ষিতাকে নয়, ধর্ষককে ঘৃণা করুন।

নিরব

আন্দোলন করে সব অপরাধ বন্ধ করা যায় না। ধর্ষণের মতো অপরাধ বন্ধ করতে হলে নিজেদের ভালো-খারাপের পার্থক্য বুঝতে হবে। আমি কত বড় অন্যায় করছি সেটা বুঝতে হবে। আর যত দ্রুত সম্ভব আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ইমন

সবাই বলেÑ ধর্ষণকারীর ফাঁসি চাই। আমি মনে করি ফাঁসি দিলে সাজাটা হলো না! তাকে তিলে তিলে শেষ করতে হবে। তাকে বোঝাতে হবে, সে যে অন্যায়টা করেছেÑ সেটার ক্ষমা নেই। আমার মনে হয়, ধর্ষণকারীকে জনসম্মুখে এনে তারপর বিচার করা উচিত।

পরীমনি

শাস্তিটা যথাযথ হতে হবে। ধর্ষণকারীর মনে যদি সাজারই ভয় না থাকে তবে সামাজিক আন্দোলন করে খুব একটা লাভ হবে না।

আরিফিন শুভ

এসব বিষয় সামনে আসার পর নিজেকে পুরুষগোত্রের ভাবতে কিছুটা লজ্জাবোধ করছি। ধর্ষণ শুধু শারীরিকভাবেই হয় না, মানসিকভাবেও হয়। আমাদের নারীরা প্রতিনিয়ত অন্যের চোখ দিয়েও ধর্ষিত হচ্ছেন। এটা প্রতিরোধে আইনটা আরও কঠোর হওয়া উচিত। একজন ধর্ষণকারীর যদি ফাঁসি হয়ে যায় তবে অন্যজন অবশ্যই সতর্ক হবে।

সাইমন সাদিক

ধর্ষণকারীর ফাঁসি হওয়া উচিত। যে ব্যক্তি নিজের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে না, যে অমানুষ তার বেঁচে থেকে লাভ কী? প্রতিটি মানুষের নিজের আপনজনের কথা ভাবা উচিত। আমি একটি অন্যায় করার আগে যদি পরিবারের কথা চিন্তা করি, তবে কোনো বাজে কাজ করব না।

মিশু সাব্বির

এসব বর্বর মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার নেই। ধর্ষণকারী সমাজের কীট, এদের কীটনাশক দিয়ে শেষ করে ফেলতে হবে। ধরুন আর ফাঁসিতে ঝোলানÑ এদের বিচার এটাই। এমন একটা অন্যায় করার পর একজন তো বুক ফুলিয়ে হাঁটতে পারে না। তার দেখাদেখি অন্যজনও উৎসাহিত হবে। তাই ধরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিলে, অন্যজন ভয়েও এই কাজ করবে না।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে