৪০ বছর পর স্বপ্ন দেখছে ফিল্ম আর্কাইভ

  বিনোদন সময় প্রতিবেদক

১৮ মে ২০১৮, ০০:০০ | আপডেট : ১৮ মে ২০১৮, ০১:১১ | অনলাইন সংস্করণ

১৯৭৮ সালের ১৭ মে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ। নানা চড়াই-উতরাই পার করে চার দশক পূর্ণ করেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ফিল্ম আর্কাইভ নিয়ে এ আয়োজন।

১৯৭৮ সালের ১৭ মে ধানম-ির শংকরের একটি ভাড়া বাড়িতে একেএম আবদুর রউফের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু হয় ফিল্ম আর্কাইভের। স্থান স্বল্পতার কারণে সেখানে বেশিদিন কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়নি। ১৯৮৫ সালে আর্কাইভ স্থানান্তরিত হয় গণভবনে। এখানকার ৩ নম্বর ব্লকে দুটি ফ্লোর নিয়ে কার্যক্রম চালায় ফিল্ম আর্কাইভ। ১৯৯৮ সালে আবার স্থান পরিবর্তন। এবার কলেজগেটের একটি ভাড়া বাড়িতে। এখানেও দুটি ফ্লোর বরাদ্দ পায় আর্কাইভ। ২০০৮ সালে তৃতীয়বারের মতো ফিল্ম আর্কাইভ স্থানান্তরিত হয় শাহবাগের বেতার ভবনে। ২০১৭ সালে নতুন ভবন নির্মাণের আগ পর্যন্ত বেতার ভবনের একটি ফ্লোরে চলে কার্যক্রম।

২০১৭ সালের জুন মাসে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ পুরোপুরি স্থানান্তরিত হয়ে আগারগাঁও চলে আসে। ১ দশমিক ১২ একর জমির ওপর নির্মিত সাততলা ভবনটিতে রয়েছে প্রশাসনিক কার্যক্রম, ফিল্ম সংরক্ষণের জন্য ভল্ট, ৫০০ আসনের অডিটোরিয়াম, ৩০০ আসনের সিনেমা হল, ১২০ আসনবিশিষ্ট সেমিনার হল। রয়েছে ডুপ্লেক্স লাইব্রেরি, ডিজিটাল ল্যাব, কারিগরি বিভাগসহ নানা কিছু।

প্রযোজক-পরিচালক ও সিনেমাসংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বিনামূল্যে চলচ্চিত্র সংগ্রহ করেন আর্কাইভের নিজস্ব সংগ্রাহকরা। অনেক সময় বাজার থেকে সিডি বা ভিসিডি কিনেও সংরক্ষণ করা হয়। তিনটি ফরম্যাটে সংরক্ষণ করা হয় চলচ্চিত্র। অ্যানালগ, ডিজিটাল ও ডিভিক্যাম। প্রথমেই চেক করা হয় ছবিটির রিল/সিডি ঠিক আছে কিনা। এর জন্য রয়েছে চেকিং মেশিন। এর পর নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়। আর্কাইভে রয়েছে মোট ছয়টি ভল্ট। ছবির ধরন, সিডি বা রিলের অবস্থা বিবেচনায় এনে তা নির্দিষ্ট তাপমাত্রার ভল্টে রাখা হয়।

সিডি, ডিভিডি, বেটাক্যাম, ডিভিক্যাম, ভিএইচএস, সিনেমার পোস্টার ও ফটোসেট রাখা হয় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার ভল্টে। ৮ ও ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের দুটি ভল্টে সংরক্ষণ করা হয় সাদাকালো ছবি। রঙিন ছবি, প্রিন্ট, নেগেটিভ ও ডিউপ নেগেটিভ সংরক্ষণ করা হয় জিরো, মাইনাস ৪ ও মাইনাস ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার তিনটি ভল্টে।

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক শচীন্দ্র নাথ হালদার বলেন, ‘৪০ বছরে অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আমরা এ জায়গায় এসেছি। প্রথম কিউরেটর একেএম আবদুর রউফ থেকে শুরু করে আমার মেয়াদ পর্যন্ত বিবেচনা করলে বলতে হয়, ফিল্ম আর্কাইভের যাত্রা এইমাত্র শুরু হলো। কারণ এতদিন আমাদের নিজস্ব ভবন ছিল না। ছিল না সংরক্ষণ করার পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও। এখন সেটা হয়েছে। ফিল্ম সংরক্ষণ করা অনেক বড় একটা দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালন করার জন্য লোকবল ও পারিপার্শ্বিক অবস্থাও আগে ছিল না। ৪০ বছর পরে এসে বলব, আমরা এখন সক্ষম।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে