ঈদে মুক্তি পাচ্ছে ‘পোড়ামন ২’, অথচ সমিতির সদস্যই নন পরিচালক

  এ মিজান

১৩ জুন ২০১৮, ১৫:২৬ | আপডেট : ১৩ জুন ২০১৮, ১৫:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ

জাজ মাল্টিমিডিয়ার ছবি ‘পোড়ামন ২’। রায়হান রাফির পরিচালনায় ঈদে মুক্তি পেতে যাচ্ছে ছবিটি। ইতিমধ্যেই সিয়াম-পূজা অভিনীত ছবিটি সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্রও পেয়ে গেছে। নতুন খবর হলো ছবিটি সেন্সর ছাড়পত্র পেয়ে মুক্তির সব প্রস্তুতি শেষ হলেও পরিচালক রায়হান রাফি বাংলাদেশ পরিচালক সমিতির সদস্যই নন।

তাহলে কি তিনি ভিনদেশি কেউ? আর পরিচালক সমিতির সদস্য না হয়ে একটা ছবি কিভাবে সেন্সরছাড় পেয়ে মুক্তি দ্বারপ্রান্তে? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সিনেমাপাড়ায়। অনেকেই প্রশ্ন তুলছে সেন্সর ছাড়পত্র কিংবা ছবি মুক্তির ক্ষেত্রে তাহলে পরিচালক সমিতির কি কোনো প্রয়োজন নেই। যদি প্রয়োজনই না থাকবে তাহলে এতো টাকা দিয়ে কেন অন্যান্য পরিচালকরা সমিতির সদস্যপদ নেন?

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে যোগাযোগ করা হয় পরিচালক সমিতির মহাসচির বদিউল খোকনের সঙ্গে। তিনি আমাদের সময় অনলাইনকে বলেন, ‘জাজের আব্দুল আজিজ আইন ভঙ্গ করেছে। সমিতিতে ২০১৭ সালের মার্চ মাসে জাজের আব্দুল আজিজের নামে ‘পোড়ামন ২’ ছবির নাম এন্ট্রি করেন। পরবর্তীতে আমাদেরকে না জানিয়ে এফডিসি কর্তৃপক্ষকে পরিচালক পরিবর্তনের জন্য একটা চিঠি দেন। এফডিসি আর এটা নিয়ে কিছু বলেনি। পরিচালক যে পরিবর্তন করছে এটা আমরা জানি না। এফডিসি এটা ভুল করছে। কারণ পরিচালক যখন চেঞ্জ হয়, নিয়ম হলো পরিচালক সমিতির প্রত্যায়নপত্র নতুন করে চিঠির সাথে যুক্ত করা। এটা এফডিসির কেউ বলেনি।’

ছবি নির্মাণ করতে হলে পরিচালক সমিতির সদস্যপদ বাধ্যতামূলক বা সমিতির প্রত্যায়নপত্র নিতে হবে সরকারি এমন কোনো নিয়ম আছে কি না-এমন প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে বদিউল আলম খোকন বলেন, ‘সরকারি নিয়ম নাই। আমাদের একটা নেগোসিয়েশন ছিল এবং হাইকোর্টের একটা আদেশ ছিল। নিয়মশৃঙ্খলা যাতে ভঙ্গ না হয় এজন্য হাইকোর্ট ১৯৯৫ সালে একটা রুল জারি করেছিল। এছাড়া এফডিসির আগে একটা ফরম ছিল সেই ফরমে লেখা ছিল পরিচালক সমিতির প্রত্যায়নপত্রসহ পরিচালকের বায়োডাটা জমা দিতে হবে। কিন্তু এফডিসির নতুন কর্মকর্তা এসে ডিজিটাল ফরমেটে ফরমের ওই অপশন বাদ দিয়ে দিয়েছে। আগের প্রিন্টের ফরম, যেটা পরিচালনা পরিষদে পাশ করা সেখানে পরিচালক সমিতির প্রত্যায়পত্রের কথা স্পষ্ট উল্লেখ ছিল।’

এ সম্পর্কে সেন্সর বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান আজিজুল রহমান বলেন, ‘সেন্সরের জন্য পরিচালক সমিতির মেম্বার কি মেম্বার না, সেটাতো আমাদের কাছে ব্যাপার না। ওইটা পরিচালক সমিতির বিষয়। আমাদের কাছে যে কেউ ছবি নিয়ে আসতে পারে। সেটা পরিচালক সমিতির মেম্বার হওয়ার দরকার নাই। আমাদের সেন্সর ফি দিয়ে যে কেউ ছবি জমা দিলে ছবিটি প্রদর্শনের উপযোগী হলে সার্টিফিকেট দেই। কোনো সংশোধনের দরকার হলে সেটাও করে দেই।’

তাহলে কি পরিচালক সমিতিরই প্রয়োজন নেই- প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ওইটা আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। কোনো সমিতি আমাদের এখানে নেই। আমাদের এখানে কোনো সমিতি এনলিস্টেট নয়।’

এ সম্পর্কে বদিউল আলম খোকন বলেন, ‘এটা এফডিসির সঙ্গে আমাদের ব্যাপার। সেন্সরের পূর্বে এফডিসি যদি নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দেয়, তখনই পরিচালক সমিতির ক্লিয়ারেন্সটা লাগে। এই ছবিটির ক্ষেত্রে এফডিসি এটা করেনি এবং আমাদের জানায়নি।’

পরিচালক সমিতির সদস্যপদ ছাড়া যদি কেউ ছবি নির্মাণ করে মুক্তি দিতে পারে, তাহলে ৫৫ হাজার ৩ শত টাকা দিয়ে পরিচালক সমিতির সদস্যপদ নেওয়া   একজন পরিচালকের কি দরকার?

জবাবে বদিউল আলম খোকন বলেন, ‘আমরা যদি ধরি অনেক কিছু ধরা যায়। পরিচালক সমিতির সাথে প্রযোজক সমিতির অলিখিত একটা চুক্তি আছে। আমাদের প্রত্যায়নপত্র ছাড়া তারা প্রত্যায়নপ্রত্র দেবে না। এখন ঈদের সময় তা না হলে কিন্তু পোড়ামন-২ ছবির বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতাম।’

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে ‌‌'পোড়ামন ২' ছবির পরিচালক রায়হান রাফির মোবাইল ফোনে আজ বুধবার বিকেলে দুইবার কল করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে