সন্তানের মুখে খাবার দিতে নগ্ন হতেন, পেতেন ৫০ টাকা

  অনলাইন ডেস্ক

১৭ জুলাই ২০১৮, ১৩:৫৪ | আপডেট : ১৭ জুলাই ২০১৮, ১৪:২২ | অনলাইন সংস্করণ

সমাজে নগ্নতাকে অশ্লীল হিসেবে দেখা হয়। কেউ নগ্ন হলে সামাজিকভাবে তাকে নানা রকম সম্যস্যার মুখে পড়তে হয়। কিন্তু সেই নগ্নতাই আবার কারো কারো বেলায় সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

ন্যুড আর্টিস্ট, মানে নগ্ন শিল্পী। বাংলা ভাষায় নগ্নতাকে অশ্লীলতার কাতারে নিয়ে গেলেও ইংরেজী ভাষায় কিন্তু তা অনেক সম্মানের। ইংরেজী ভাষার ন্যুড আর্টিস্টদের অনেক সম্মান দেওয়া হয়। ছবি তোলা থেকে শুরু করে তাদের শরীরের প্রত্যেকটি বাঁক তুলির আঁচড়ে ফুটিয়ে তোলাও অনেক সম্মানের। যে আঁকে আর যে শরীর দেখায়, দুজনকেই সম্মান করে মানুষ।

কিন্তু যে নারী সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিয়ে নিজের শরীর দেখায় তাকে কি কেউ সম্মান করে? ভারতের একজন প্রখ্যাত নগ্ন শিল্পী লক্ষ্মী। সন্তানের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দিতে যিনি নিজের শরীর দেখিয়েছেন বারবার। কখনও কোন আঁকিয়ের সামনে কিংবা কখনও কোনো চিত্রগাহকের সামনে। যার শরীরের বাঁক দেখেননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। তিনি যে সময় তার খোলা শরীর নিয়ে আঁকিয়েদের সামনে হাজির হতেন, সে সময় নগ্নতাকে সম্মান করেনি কেউ। কিন্তু আজ যখন সেই নগ্নতাকে সম্মান করা হচ্ছে, পূজা করা হচ্ছে তখন সরব হলেন তিনি। লক্ষ্মী বলেছেন, ‘নগ্নতা শিল্প, প্রেরণা। আজ নগ্নতা শেষমেশ সম্মান পাচ্ছে। আমি খুব খুশি।’

মুক্তি পেতে যাচ্ছে রবি যাদব পরিচালিত সিনেমা ‘ন্যুড’। একজন নগ্ন শিল্পীকে নিয়ে নির্মিত সিনেমা। গত এপ্রিলে মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও কিছু জটিলতার কারণে মুক্তি পায়নি। তবে আসছে আগস্টের শেষ দিকে মুক্তি পেতে পারে সিনেমাটি।

সিনেমাটি লক্ষ্মীর জীবনের অনেকটা অংশ নিয়ে নির্মিত হয়েছে। তার জীবনের স্টোরি লাইনও বলা চলে। সিনেমা হবে জেনে অনেক খুশি হয়েছেন লক্ষ্মী।

হিন্দুস্তান টাইমসকে লক্ষ্মী জানিয়েছেন, তার স্বামী যখন মারা যান, তার সন্তানের বয়স তখন ৩ বছর। ছেলের মুখে খাবার তুলে দেওয়া, সংসার চালানো, সবকিছু নিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছিলেন তিনি। তবে দমে যাননি। হন্যে হয়ে কাজ খুঁজেছেন সেসময়।

তিনি বলেন, 'আমি আমার এক কাকিমার কাছে কাজ খুঁজতাম। কিন্তু তিনি কোনো কথা বলতেন না। একদিন আমি পিছু পিছু তার কাজের জায়গায় যাই। পরে জানতে পারি তিনি সেখানে ন্যুড আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করেন। পরে সেখান থেকেই আমার যাত্রা শুরু হয়। কাজের বিনিময়ে যা পেতাম তা দিয়ে সংসার চালাতাম। ছেলের মুখে খাবার তুলে দিতাম।'

কাজের ব্যাপারে লক্ষ্মী জানান, প্রথম দিন দশ জন পুরুষের সামনে তার শরীর থেকে কাপড় খুলতে হয়েছিল। অস্বস্তি তাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল। বাস্তবতা মেনে নিতে না পেরে নগ্ন দেহ নিয়ে মেঝেতে পড়ে কেঁদেছিলেন তিনি। কিন্তু সে সময় প্রতিষ্ঠানের প্রফেসররা তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সাহস জুগিয়েছিলেন। মনের মধ্যে গেঁথে দিয়েছিলেন- 'এটাই আমার কাছে পৃথিবীর সেরা কাজ'।

অনেকেই তার কাজ ভালো চেখে দেখতেন না। সবাই তাকে বাজারের যৌন কর্মীর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। আর এখন একজন নগ্ন শিল্পীকে সম্মানের চোখে দেখা হয়।

এ বিষয়ে লক্ষ্মী বলেন, 'সে সময় ৫০ টাকা পেতাম কাজের জন্য, আজ যারা এই কাজ করছে তারা ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পাচ্ছে। আগে সম্মান দেওয়া হতো না। এখন আমাদের মতো শিল্পীদের অসামান্য সম্মান দেওয়া হয়। আমি এতে ভীষণ খুশি।’

এই নগ্ন শিল্পী মনে করেন, সমাজ ব্যবস্থাপনা উন্নত হচ্ছে। শিল্পীদের চোখে তাদের কদর রয়েছে। ভবিষ্যতে আরও বদলাবে। নগ্ন শিল্পীদের প্রতি সমাজেরও দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে