'ভাইজান এলো রে' রিভিউ

ভয় হয়, বিনোদন সবসময় যেন আমদানি হয়ে না আসে

  সেলিম আহমেদ

০১ আগস্ট ২০১৮, ১৩:৪২ | আপডেট : ০১ আগস্ট ২০১৮, ১৩:৪৭ | অনলাইন সংস্করণ

বিনিময় চুক্তির অধীনে 'ভাইজান এলো রে' ছবিটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এন ইউ আহাম্মদ ট্রেডার্স, ছবিটি প্রযোজনা করেছে কলকাতার এসকে মুভিজ। আর পরিচালনা করেছেন জয়দীপ মুখার্জী। আমদানিকৃত ছবিতে এ দেশের জনপ্রিয় নায়ক শাকিবকে দেখা যায় প্রধান চরিত্রে, আর শ্রাবন্তীর পাশাপাশি রয়েছেন কলকাতার আরেক জনপ্রিয় নায়িকা পায়েল সরকার।

এতে আরও অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের মনিরা মিঠু, দীপা খন্দকার ও কলকাতার রজতাভ দত্ত, বিশ্বনাথ বসু, শান্তিলাল মুখার্জি, সাগ্নিক, সুপ্রিয় দত্ত প্রমুখ।

ছবিতে গল্প শুরু হওয়ার যে বাঁক তা একটু দ্রুতই হয়। সুতরাং সিনেমা হলের সিটে বসে থিতু হওয়ার আগেই একটা গল্পের ধারণা জন্ম দেয়, এ তো গল্প বলার ভীষণ দুর্বল পিঠ।

গল্পে জমজদের নিয়ে এক অদ্ভুত ধারণার কথা খুব দ্রুত বলে পাশ কাটানো হয়েছে। প্রকৃতির নিয়মে দুইভাবে জমজ শিশু জন্ম নেয় (১) বাইনোভুলার বা ডাইজাইগোটিক এবং (২) ইউনিওভুলার বা মনোজাইগোটিক।

এদের লিঙ্গ ভিন্ন হতে পারে, আবার আলাদাও হতে পারে। এরা জমজ হলেও এদের লিঙ্গ, রক্তের গ্রুপ, গড়ন, গায়ের রঙ বা অন্যান্য অনেক বৈশিষ্ট্য এক নয়। আবার দুজন একই রকম হওয়াটাও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বা অস্বাভাবিক নয়। জমজদের মনবিকাশের ছোট একটা মজার ঘটনা এ ছবির গল্পে আছে একটু প্রচ্ছন্ন, কিন্তু তার ব্যাপ্তি ছড়িয়ে আছে পুরো ছবিজুড়ে। সারাক্ষণ সিনেমা হলের দর্শকদের হাততালি শিষ আর চিৎকার জমজদের সেই অদ্ভুত ধারণার সর্ম্পককে মানুষের ভাললাগার বিষয় প্রমাণ করে।

নায়ক শাকিব দর্শকদের কাছে কতটা জনপ্রিয় তা সিনেমা হলে বুঝতে সহজ হয়, এ ছবিতে ভিনদেশী গল্প আর ভিনদেশী নায়িকার সাথে পর্দায় আসা শাকিব অনেক আশা জাগানিয়া।

শাকিবের অভিনয়ের পরিবর্তন ঘটেছে অথবা একদম পরিমিত অভিনয়কে প্রাধান্য করে পুরো ছবি জুড়ে থাকার একটা ভাল উদ্যোগ বেশ অনুভূত হয়। জয় শাকিব।

এ দেশের মানুষ যদি পুরো ছবি জুড়ে আনন্দ আগ্রহ ধরে রাখে তবে যুক্তিতর্ক ছেড়ে আপাতত বলতে হবে এটাই ছবি, এটাই চলচ্চিত্র।

এ ছবির আয়োজন বেশ পরিকল্পিত বোঝা যায় কিন্তু ছোট এক লাইনের গল্পকে টেনে ছবি তৈরি করতে যে সব বিপত্তি হয় তার সব এ ছবিতে আছে, বোঝা যায়।

গল্পের চলন-গড়ন এখন দর্শকরা বেশ ভাল বোঝে সুতরাং সবাইকে বোকা ভেবে গল্প বলা ঠিক হবে না। গানের দৃশ্যাবলী দারুণ কিন্তু গান তেমন মনোহর না। দৃশ্য রচনায় তিন/চারটে দৃশ্য পরিকল্পনায় ভীষণ অবহেলা এবং দারিদ্রতা আছে। পরিচালনায় লয় কেটে গেলে তা ছবিতে বেশ দৃশ্যমান এবং আশাহত করে। আমাদের দেশে বিনোদনকে বিভিন্ন কঠিন শব্দে সাধারণ দর্শকদের থেকে বহুদূরে পাঠানোর এক ধরনের লেখা চর্চা চলে, সুশীল হয়ে উঠার এক নির্লজ্জ প্রচেষ্টা চলে প্রতিদিন সব লেখার কাগজে। মানুষের নির্মল হাসি আর আনন্দকে কেন অস্বীকার করা হয়, আপনার জীবনে আর আনন্দ নাই বলে?

বাংলাদেশের নায়ক শাকিবসহ অন্য শিল্পীরা দারুন আশা জাগিয়েছে প্রাণে। দীপা খন্দকার দারুন। হয়তো দীপা খন্দকার এ ছবিতেই ওপার বাংলায় ভাল জায়গা তৈরি করে ফেলেছেন, তার উপস্থিতি মনে রাখবার মতো।

বহুদিন পর সিনেমা হলজুড়ে যখন ঠাসাঠাসি দর্শকদের দেখি, তাদের হাততালি হল্লা একধরনের আশা জাগানিয়া মনে হয়। আহা বিনোদন। ভয় হয়, আমাদের বিনোদন সবসময় যেন আমদানি হয়ে না আসে।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে