মঞ্চে, গিটারে কাঁদলেন জেমস

  অনলাইন ডেস্ক

১৯ অক্টোবর ২০১৮, ১০:১৪ | অনলাইন সংস্করণ

ফেসবুক থেকে সংগৃহীত ছবি

উপমহাদেশের অন্যতম সেরা গিটারিস্ট আইয়ুব বাচ্চু যখন মারা যান, তখন বরগুনায় অবস্থান করছিলেন বাংলা ব্যান্ড সংগীতের আরেক তারকা সঙ্গীত শিল্পী জেমস। বরগুনায় উন্নয়ন মেলার কনসার্টে অংশ নিতে গিয়েছিলেন তিনি। যখন শুনলেন, তার বন্ধু, বড় ভাই আর এই দুনিয়ায় নেই, নিজেকে ধরে রাখতে পারছিলেন না তিনি। শোকে মুহ্যমান এই প্লেব্যাক শিল্পী মঞ্চে তো উঠলেন, পুরো কনসার্টটি উৎসর্গ করেন সদ্যপ্রয়াত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুকে।

জেমস যখন কনসার্টের মঞ্চে ওঠেন, তখন থেকেই তাকে বিচলিত দেখা যাচ্ছিল। মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে বার বার কথা হারাচ্ছিলেন। গলা ধরে আসছিল বিধায় থেমে থেমে কথা বলতে লাগলেন। শোকে মুহ্যমান এই তারকা নিজেদের মধ্যকার একটি স্মৃতির কথা বলতে শুরু করেন।

জেমস বলেন, ‘আজকের পুরো অনুষ্ঠানটাই উৎসর্গ করছি বাংলাদেশের কিংবদন্তি গায়ক আইয়ুব বাচ্চুকে। আজকের অনুষ্ঠানটি করার একদম ইচ্ছা ছিল না। কিন্তু বহু বছর আগের একটা গল্প বলি; আমি আর বাচ্চু ভাই আড্ডা মারতাম। তো তখন হাসতে হাসতে আমরা বললাম, আমাদের শিল্পীদের জন্য ইংরেজিতে একটা প্রবাদ আছে, দ্যা শো মাস্ট গো অন (The Show Must Go On)। তাই চেষ্টা করব...।’

জেমসের হৃদয়ের ক্ষরা বুঝতে পারছিলেন দর্শকরা। তালি, শীশ, চিৎকার করে তাকে উৎসাহ দিচ্ছিলেন তারা। এরপর গিটারের সুরে দর্শকদের মুগ্ধ করেন জেমস।

এরপরই নিজের জনপ্রিয় সেই ‘কবিতা’ গানটি গাইতে শুরু করেন জেমস। মঞ্চে গিটারে, কণ্ঠে কেঁদেছেন নগর বাউল জেমস। কাঁদতে কাঁদতে গানের মাঝেই হঠাৎ করে বলে ওঠেন,‘বন্ধুরা আমাকে ১০ মিনিট সময় দাও।’ তারপরই মঞ্চ থেকে বেরিয়ে যান তিনি।

স্টেডিয়ামজুড়ে তখন শুনশান নীরবতা। হাজার হাজার দর্শকও যেন নির্বিকার। পরে নিজেকে সামলে খানিক বাদে আবারও মঞ্চে ওঠেন জেমস। ভারাক্রান্ত মন নিয়েই গান পরিবেশন করেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বরগুনা জেলা স্টেডিয়ামের এই কনর্সাটটিতে জেমসের প্রতিটি গানে কান্নার ছোঁয়া বুঝতে পেরেছিলেন। কাঁদবেনই বা না কেন। সমসাময়িক শিল্পী তারা। দুজনই গানের শুরু করেছিলেন চট্টগ্রাম থেকে। কিছু বছরের এদিক সেদিক, কিন্তু দুজনে যে একসঙ্গে বেড়েছেন, তার প্রমাণ তো লক্ষ কোটি বাঙালী।

আইয়ুব বাচ্চুর সঙ্গে জেমসের পরিচয় ১৯৮০ সালের শুরুর দিকে। এরপর দীর্ঘ ৪০ বছরের সম্পর্ক। এই দীর্ঘ সম্পর্কে দুজনই বাংলাদেশের সঙ্গীত প্রেমীদের জন্য নিজেদের সেরাটা দিয়েছেন উজাড় করে। একজন উপমহাদেশের অন্যতম সেরা গিটারিস্ট। আরেকজন দুই বাংলার জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী।

কনসার্টে যোগ দেওয়ার আগে বাচ্চুর মৃত্যুর খবর শুনে ঢাকা না ফিরলেও জেমস কথা বলেছেন গণমাধ্যমের সঙ্গে। বলেছেন, ‘তিনি বাংলা সংগীতের কিংবদন্তি। ১৯৮০ সালের শুরুর দিকে আমাদের পরিচয়। এরপর দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর আমরা একে অপরের সুখে-দুঃখে, মানে-অভিমানে কাটিয়েছি। একসঙ্গে প্রচুর শো করেছি, গান করেছি, দেশ-বিদেশে ঘুরেছি। উনি অকস্মাৎ এভাবে আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে যাবেন, খবরটা শুনে মানতে পারছি না। রক সংগীতে তার যে অবদান সেটা এই জাতি চিরদিন মনে রাখবে বলেই বিশ্বাস করি।’

জেমস বলেন, ‘উনি অত্যন্ত উদার মনের মানুষ ছিলেন। প্রচণ্ড রসাত্মবোধ ছিল তার মধ্যে। উনার সাথে আমার যে সম্পর্কটা সেটা আসলে বলে বোঝানো যাবে না। বিভিন্ন সময়ে কারণে-অকারণে আমরা একজন আরেকজনের পাশে ছিলাম। সম্পর্কের এই গভীরতার কথা কখনো বোঝাতে পারব না। কেউ হয়তো জানবেও না আমাদের হৃদয়ে একে অপরের জন্য কতটা জায়গা।’

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে