এবির প্রয়াণে বাকশূন্য ‘জুনিয়র বাচ্চু’

  নেত্রোকোনা প্রতিনিধি

১৯ অক্টোবর ২০১৮, ১২:১৫ | অনলাইন সংস্করণ

‘হাসতে দেখো গাইতে দেখো’ গানটি গেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে খ্যাতি পেয়েছিল স্কুলছাত্র রাফসানুল ইসলাম (রাফসান)। পরপর আরও দুটি গানের ভিডিও পোস্ট করে সদ্য প্রয়াত গুণীশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর (এবি) নজরে এসেছিলো নেত্রকোনার ছোট্ট ছেলেটি।

দেখাও করেছিল দেশ বরেণ্য শিল্পীর সঙ্গে। বাচ্চুর পাশে বসেও গান গেয়েছিল রাফসান। অনেক বাহবা দিয়েছেলেন তিনি। কিন্তু আজ এবি নেই। রাফসানের পৃথিবীজুড়ে বড় একটা ধাক্কা। মেনে নিতে পারছে না ‘জুনিয়র বাচ্চু’ খ্যাত এই খুদে শিল্পী।

‘জুনিয়র বাচ্চু’। উপাধিটা এবি নিজেই দিয়েছিলেন রাফসানকে। স্বপ্নের গায়ক ‘গুরু’ বাচ্চুর অকাল প্রয়ানে অশ্রু যেন বাঁধা মানছে না রাফসানের। শ্রোতা-ভক্ত সবাই কষ্ট পেলেও তার হৃদয়টা যে কুঁরে কুঁরে শেষ হয়ে যাচ্ছে, তা চেহারায় স্পষ্ট। এবির প্রয়াণে বাকশূন্য হয়ে পড়েছে জুনিয়র বাচ্চু।

এবির মৃত্যু সংবাদ জানার পর রাফসানের ব্যান্ড ‘ধোঁয়া’র প্রতিষ্ঠাতা ও গিটারিস্ট কার্জন রায় তার বাসায় যায়। মর্মাহত রাফসানকে দেখার পর দুজনেই সামনাসানি বসে ছিল। কিন্তু কথা বলতে পারেনি কেউই।

গুরুকে স্মরণ করে দুটি লাইন গাইতে বললেও শূন্যদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে রাফসান। কথা বলতে চাইছে না কারো সঙ্গে।

কার্জন নিজেও দারুণভাবে মর্মাহত। এবির একটি গান তাকে উৎসর্গ করে গাইতে বললেও পারছে না সে। বারবার গলা ধরে আসায় সুর বের হচ্ছিল না তার। এবির মৃত্যুতে ‘ধোঁয়া’ ব্যান্ডের মাথা থেকে ছায়া সরে গেছে বলে মনে করছে কার্জন।

কার্জন জানিয়েছে, এবি কথা দিয়েছিলেন রাফসানকে বিনামূল্যে আটটি গানের কম্পোজিশন করে দেবেন। আকাশ ছোঁয়া সেই স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলছিল রাফসান।

রাফসানের বাবা-মা জানান, দুঃসংবাদটি শোনার পর কারও সঙ্গে কথা বলেনি রাফসান। নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে কেঁদেছে সারাদিন। খাবারও খায়নি।

আইয়ুব বাচ্চুর ছড়ানো ভালোবাসাগুলো হয়তো এমনই, অগ্রজকে যেমন কাতর করে, অনুজকে করে স্বপ্নবাজ। তাই হয়তো গুরু ও তার নিজের স্বপ্ন অপূরণীয় হয়ে পড়ায় রাফসানের এমন আহাজারি। এবি বেঁচে থাকলে হয়ত একটা মাইলফলকের সামনে দাঁড়াতে পারতো রাফসান। বিশাল মনের অধিকারী এবির কম্পোজিশনে হয়তো বেড়ে উঠতে পারতো আরেক এবি। ‘জুনিয়র এবি’।

  • সর্বাধিক পঠিত
  • সর্বশেষ

ই-পেপার

সর্বাধিক পঠিত

  • অাজ
  • সপ্তাহে
  • মাসে